ভাব-সম্প্রসারণ লিখ। (অনধিক ৫ বাক্যে)
“অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।”
Explanation: ভাব-সম্প্রসারণ : অন্যায়কারী এবং অন্যায়কে যে প্রশ্রয় দেয় তথা অন্যায় সহ্য করে, উভয়েই সমান অপরাধী। নিজে অন্যায় না করলেই যে তার কর্তব্য ফুরিয়ে যায় এমনটি নয়। বরং অন্যায়কে প্রতিহত করাই সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সমাজকে যারা উৎপীড়ন করে, ব্যক্তির অধিকারকে যারা হরণ করে, মানুষের বহু অভিজ্ঞতা এবং প্রযত্নে রচিত আইন ও শৃঙ্খলাকে যারা বিঘ্নত করে তারা নিঃসন্দেহে অন্যায়কারী। অন্যায়ের যেমন বহুক্ষেত্র আছে, অপরাধেরও তেমনি মাত্রার তারতম্য আছে। এই মাত্রা অনুসারেই অন্যায়কারীর অপরাধের পরিমাপ করা হয়। আইনের দৃষ্টিতে অন্যায়কারী বা অপরাধী দন্ডযোগ্য বলে বিবেচিত। কিন্তু অন্যায়কে যারা নিঃশব্দে সহ্য করে, তারাও কি পরোক্ষভাবে পাপের প্রশ্রয় দিয়ে সমান অপরাধী নয়?-অবশ্যই তারা ও সমান অপরাধী। উদার মনোভাব প্রদর্শন করার জন্য অন্যায়কে ক্ষমা করা বা দয়া দেখিয়ে অন্যায়কারীকে আশ্রয় দেওয়ার মধ্যে কোনো মহত্ত্ব তো নেই-ই বরং তাও অন্যায়কারীর মতো সমান অপরাধের কাজ। সমাজের মুষ্টিমেয় মানুষের মধ্যে যেমন রয়েছে অপরাধের প্রবণতা, তেমনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রয়েছে অন্যায়কে মানিয়ে চলার মানসিকতা। এই মানসিকতায় কতখানি ক্ষমাশীলতা, কতখানি ঔদার্য, কতখানি সহনশক্তি তার পরিমাণ করা দুঃসাধ্য। অন্যায়কে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা না করে ক্ষমা করে দেওয়ার মধ্যে মানবচরিত্রের দুর্বলতম দিকেরই প্রকাশ ঘটে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দান করলে পৃথিবী মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। বসু্তত মানুষ শুধু তিতিক্ষা ও করুণাবশতই অন্যায়কারীকে ক্ষমা করে না; তার এই মনস্তত্ত্বের নেপথ্যে রয়েছে এক আত্ম-পলায়নী মনোভাব। মানব সংসারে অন্যায়কারীরা ঘৃণিত হলেও অন্যায় সহ্যকারী কিংবা ক্ষমাকারীরা অনেকসময় ঘৃণিত বলে বিবেচিত হয় না। মানুষের ন্যায়-অন্যায়ের এই চেতনাও ভ্রান্ত। অন্যায়কারীর মতো সহ্যকারীও সম-অপরাধে অপরাধী। মনুষ্যত্বের বিচারে মানুষের এই বিকৃতিও ক্ষমার অযোগ্য।
তাই অন্যায় যে করে সে যেমন সমাজে নিন্দনীয় ও ঘৃণার পাত্র, তেমনি অন্যায়কে যিনি বিনা বাধায়, মৌন অবলম্বন করে প্রশ্রয় দেন তাঁকেও ঘৃণার পাত্র ও নিন্দনীয় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা উচিত।
নম্বর বণ্টনঃ
৫টি বাক্য লিখলে (০.৫××৫) = ২.৫ নম্বর।
[বি.দ্রঃ দুটি বানান ভুল করলে ০.৫ নম্বর এবং তিন বা ততোধিক বানান ভুল করলে ০১ নম্বর কর্তন করা হবে।]
সমাজকে যারা উৎপীড়ন করে, ব্যক্তির অধিকারকে যারা হরণ করে, মানুষের বহু অভিজ্ঞতা এবং প্রযত্নে রচিত আইন ও শৃঙ্খলাকে যারা বিঘ্নত করে তারা নিঃসন্দেহে অন্যায়কারী। অন্যায়ের যেমন বহুক্ষেত্র আছে, অপরাধেরও তেমনি মাত্রার তারতম্য আছে। এই মাত্রা অনুসারেই অন্যায়কারীর অপরাধের পরিমাপ করা হয়। আইনের দৃষ্টিতে অন্যায়কারী বা অপরাধী দন্ডযোগ্য বলে বিবেচিত। কিন্তু অন্যায়কে যারা নিঃশব্দে সহ্য করে, তারাও কি পরোক্ষভাবে পাপের প্রশ্রয় দিয়ে সমান অপরাধী নয়?-অবশ্যই তারা ও সমান অপরাধী। উদার মনোভাব প্রদর্শন করার জন্য অন্যায়কে ক্ষমা করা বা দয়া দেখিয়ে অন্যায়কারীকে আশ্রয় দেওয়ার মধ্যে কোনো মহত্ত্ব তো নেই-ই বরং তাও অন্যায়কারীর মতো সমান অপরাধের কাজ। সমাজের মুষ্টিমেয় মানুষের মধ্যে যেমন রয়েছে অপরাধের প্রবণতা, তেমনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রয়েছে অন্যায়কে মানিয়ে চলার মানসিকতা। এই মানসিকতায় কতখানি ক্ষমাশীলতা, কতখানি ঔদার্য, কতখানি সহনশক্তি তার পরিমাণ করা দুঃসাধ্য। অন্যায়কে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা না করে ক্ষমা করে দেওয়ার মধ্যে মানবচরিত্রের দুর্বলতম দিকেরই প্রকাশ ঘটে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দান করলে পৃথিবী মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। বসু্তত মানুষ শুধু তিতিক্ষা ও করুণাবশতই অন্যায়কারীকে ক্ষমা করে না; তার এই মনস্তত্ত্বের নেপথ্যে রয়েছে এক আত্ম-পলায়নী মনোভাব। মানব সংসারে অন্যায়কারীরা ঘৃণিত হলেও অন্যায় সহ্যকারী কিংবা ক্ষমাকারীরা অনেকসময় ঘৃণিত বলে বিবেচিত হয় না। মানুষের ন্যায়-অন্যায়ের এই চেতনাও ভ্রান্ত। অন্যায়কারীর মতো সহ্যকারীও সম-অপরাধে অপরাধী। মনুষ্যত্বের বিচারে মানুষের এই বিকৃতিও ক্ষমার অযোগ্য।
তাই অন্যায় যে করে সে যেমন সমাজে নিন্দনীয় ও ঘৃণার পাত্র, তেমনি অন্যায়কে যিনি বিনা বাধায়, মৌন অবলম্বন করে প্রশ্রয় দেন তাঁকেও ঘৃণার পাত্র ও নিন্দনীয় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা উচিত।
নম্বর বণ্টনঃ
৫টি বাক্য লিখলে (০.৫××৫) = ২.৫ নম্বর।
[বি.দ্রঃ দুটি বানান ভুল করলে ০.৫ নম্বর এবং তিন বা ততোধিক বানান ভুল করলে ০১ নম্বর কর্তন করা হবে।]