হেপারিন নিঃসৃত করে কোন শ্বেত রক্তকণিকা?
সঠিক উত্তরঃ
C.
বেসোফিল
Explanation:
Another Explanation (5):
হেপারিন নিঃসরণে বেসোফিলের ভূমিকা
শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের মধ্যে বেসোফিল নামক একটি কণিকা হেপারিন নিঃসরণের সাথে জড়িত। নিচে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
বেসোফিল কি? 🧐
- বেসোফিল হলো গ্রানুলোসাইট শ্রেণির শ্বেত রক্তকণিকা।
- এগুলো রক্তের প্রায় 0.5% থেকে 1% পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- এদের সাইটোপ্লাজমে বড় আকারের গ্রানুল (দানা) থাকে যা হিস্টামিন ও হেপারিন ধারণ করে।
- বেসোফিলের নিউক্লিয়াস সাধারণত দুই বা তিনটি খণ্ডে বিভক্ত থাকে।
হেপারিন কি? 🧪
- হেপারিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট (রক্ত জমাটবদ্ধতা প্রতিরোধক)।
- এটি রক্তনালীর মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
- হেপারিন মূলত সালফেটেড গ্লাইকোসামিনোগ্লাইকান নামক একটি জটিল শর্করা।
বেসোফিল কিভাবে হেপারিন নিঃসরণ করে? 🩸
- যখন শরীরে কোনো অ্যালার্জেন (যেমন: পরাগ রেণু) প্রবেশ করে, তখন বেসোফিল সক্রিয় হয়।
- IgE অ্যান্টিবডি বেসোফিলের সাথে আবদ্ধ হয়।
- অ্যালার্জেন IgE অ্যান্টিবডির সাথে যুক্ত হলে বেসোফিল থেকে হিস্টামিন, হেপারিন এবং অন্যান্য প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থ নিঃসৃত হয়।
- নিঃসৃত হেপারিন রক্তকে জমাট বাঁধা থেকে রক্ষা করে এবং রক্তনালীতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
হেপারিনের কাজ 🎯
- রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করা 🛑
- ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিনে রূপান্তরিত হতে বাধা দেওয়া।
- শরীরে প্রদাহ (inflammation) কমাতে সাহায্য করা 🔥➡️🧊
- অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা 🤧
সংক্ষেপে বেসোফিল এবং হেপারিন 📝
| বৈশিষ্ট্য | বেসোফিল | হেপারিন |
|---|---|---|
| প্রকার | শ্বেত রক্তকণিকা (গ্রানুলোসাইট) | অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট |
| উৎপাদনস্থল | অস্থি মজ্জা (Bone Marrow) | বেসোফিলের গ্রানুলস এবং মাস্ট সেল |
| প্রধান কাজ | হেপারিন নিঃসরণ এবং অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া | রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ |
আশা করি, এই আলোচনা থেকে হেপারিন নিঃসরণে বেসোফিলের ভূমিকা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। 😊
Option A Explanation:
- সংজ্ঞা: ইওসিনোফিল হলো এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা যা মূলত পরজীবী সংক্রমণ এবং অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়ক।
- অবস্থান: ইওসিনোফিল সাধারণত রক্তের মধ্যে ক্ষুদ্র সংখ্যক উপস্থিত থাকে, তবে তাদের সংখ্যা কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে।
- মূল কাজ: এটি পরজীবী সংক্রমণ, বিশেষ করে প্যারাসাইটের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহা???্য করে।
- অন্য শ্বেত কণিকার সাথে তুলনা: সাধারণত, নিউট্রোফিলের সংখ্যা রক্তে সবচেয়ে বেশি হয়, কিন্তু প্রশ্নে ইওসিনোফিলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
Option B Explanation:
- মনোসাইট: মনোসাইট হলো একটি শ্বেত রক্তকণিকা যা দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এটি মূলত লোহিত রক্তকণিকা ও অন্যান্য শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে বৃহত্তম আকারের হয়।
- মনোসাইটগুলো সাধারণত রক্তে কিছু সময়ের জন্য থাকে, এরপর টিস্যুতে প্রবেশ করে ম্যাকрофেজে রূপান্তরিত হয়।
- এগুলি ব্যাকটেরিয়া, ধ্বংসপ্রাপ্ত কোষ, ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানসমূহ শোষণ করে ও ধ্বংস করে, ফলে দেহের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
- অতএব, মনোসাইটের মাধ্যমে হেপারিন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উৎপন্ন হয় বা সংরক্ষিত হয়।
Option C Explanation:
বেসোফিলের ব্যাখ্যা
- প্রকার: এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cell)
- মূল কাজ: অ্যালার্জি প্রতিরোধ, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই
- অন্তঃকোষীয় উপাদান: হিস্টামিন, হেপারিন, এবং অন্যান্য প্রদাহজনক উপাদান নিঃসরণ করে
- ফ্যাগোসাইটোসিস: সাধারণত এই কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস করে না, তবে প্রদাহের সময় তারা অন্যান্য শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকলাপে সহায়তা করে
Option D Explanation:
- লিম্ফোসাইট: এটি একটি ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা যা মূলত অ্যান্টিবডি উৎপাদন করে এবং দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লিম্ফোসাইটের প্রধান কাজ হলো ইনফেকশন ও রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রদান করা।
- এই কোষগুলো প্রধানত লিম্ফ নোড, স্প্লিন, থাইমাস গ্ল্যান্ড এবং রক্তে পাওয়া যায়।
- তাদের মধ্যে দুটি প্রধান ধরনের হলো B-লিম্ফোসাইট এবং T-লিম্ফোসাইট, যারা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিরক্ষা কার্য সম্পাদন করে।
- লিম্ফোসাইটের মধ্যে হেপারিন উপস্থিত থাকলেও, এটি প্রধানত অন্য কোষে বেশি দেখা যায়।