গ্রিন কেমিস্ট্রির বারটি নীতির মধ্যে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
JUUnit-ASet-3রসায়ন প্রথম পত্ররাসায়নিক পরিবর্তনরাসায়নিক বিক্রিয়া ও গ্রিন কেমিস্ট্রি (Topic Practice)JU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
D.
প্রাকৃতিক কেমিক্যাল পরিকল্পনা
Explanation: প্রশ্ন বিশ্লেষণ: গ্রিন কেমিস্ট্রির বারো নীতির মধ্যে প্রাকৃতিক কেমিক্যাল পরিকল্পনা সঠিক নয়। অপশন বিশ্লেষণ: A: নিরাপদ দ্রাবক ব্যবহার: সঠিক, কারণ এটি বারো নীতির অংশ। B: বর্জ্য পদার্থ রোধকরণ: সঠিক, কারণ এটি বারো নীতির অংশ। C: ন্যূনতম উপজাতক: সঠিক, কারণ এটি বারো নীতির অংশ। D: প্রাকৃতিক কেমিক্যাল পরিকল্পনা: ভুল, কারণ এটি নীতির অংশ নয়। নোট: গ্রিন কেমিস্ট্রি পরিবেশবান্ধব রসায়নের ভিত্তি গঠন করে।
Another Explanation (5): ```html
গ্রিন কেমিস্ট্রির বারোটি নীতি
গ্রিন কেমিস্ট্রি পরিবেশ-বান্ধব রসায়ন। এর মূল লক্ষ্য হলো এমন রাসায়নিক প্রক্রিয়া তৈরি করা যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বারোটি মূল নীতি অনুসরণ করা হয়। নিচে সেই নীতিগুলো আলোচনা করা হলো:
১২টি নীতি তালিকা আকারে:
- বর্জ্য প্রতিরোধ: উৎপাদনের শুরু থেকেই বর্জ্য উৎপাদন কমানোর চেষ্টা করতে হবে। ♻️
- পরমাণু অর্থনীতি: কাঁচামাল থেকে শুরু করে শেষ পণ্য পর্যন্ত সব পরমাণুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ⚛️
- কম ক্ষতিকর রাসায়নিক সংশ্লেষণ: এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া ব্যবহার করতে হবে যেখানে উৎপাদিত পদার্থ এবং উপজাত উভয়ই পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর হয়। 🧪
- নিরাপদ রাসায়নিক তৈরি: এমন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করতে হবে যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য নিরাপদ। ⛑️
- নিরাপদ দ্রাবক ও সহায়ক পদার্থ: বিক্রিয়ায় সহায়ক দ্রাবক এবং অন্যান্য পদার্থ ব্যবহার করার সময় তা যেন নিরাপদ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 💧
- শক্তির সাশ্রয়: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে হবে। সাধারণ তাপমাত্রায় বিক্রিয়া ঘটানোর চেষ্টা করতে হবে। 🔥➡️❄️
- নবায়নযোগ্য কাঁচামাল ব্যবহার: সম্ভব হলে নবায়নযোগ্য কাঁচামাল ব্যবহার করতে হবে, যা পরিবেশের ওপর কম প্রভাব ফেলে। 🌱
- অপ্রয়োজনীয় উপজাত পরিহার: এমন বিক্রিয়া ব্যবহার করতে হবে যেখানে কম বা কোন উপজাত তৈরি হয় না। 🎯
- অনুঘটক ব্যবহার: রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ানোর জন্য অনুঘটক ব্যবহার করতে হবে, যা বিক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং বর্জ্য কমায়। ⚙️
- পচনশীল দ্রব্য তৈরি: এমন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করতে হবে যা ব্যবহারের পর সহজেই পরিবেশে পচনশীল হয়। 🍂
- দূষণ প্রতিরোধে নজরদারি: রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় দূষণ প্রতিরোধের জন্য যথাযথ নজরদারি রাখতে হবে। ⚠️
- নিরাপদ রসায়ন: দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমাতে রাসায়নিক দ্রব্য এবং পদ্ধতির নকশা তৈরি করতে হবে। 💥➡️✅
নীতিগুলোর বিস্তারিত আলোচনা ছকের মাধ্যমে:
| ক্রমিক | নীতি | ব্যাখ্যা | গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| ১ | বর্জ্য প্রতিরোধ | রাসায়নিক প্রক্রিয়া এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে বর্জ্য উৎপাদন কম হয়। | পরিবেশ দূষণ কমায় এবং উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করে। |
| ২ | পরমাণু অর্থনীতি | উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রতিটি পরমাণুর ব্যবহার নিশ্চিত করা। | সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে। |
| ৩ | কম ক্ষতিকর সংশ্লেষণ | কম ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে উৎপাদ তৈরি করা। | মানুষ ও পরিবেশের ঝুঁকি কমায়। |
| ৪ | নিরাপদ ডিজাইন | কার্যকরিতা বজায় রেখে নিরাপদ রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করা। | ব্যবহারের সময় ঝুঁকি কমায়। |
| ৫ | নিরাপদ দ্রাবক | নিরাপদ দ্রাবক ও সহায়ক পদার্থ ব্যবহার করা। | দূষণ কমায় ও পরিবেশ বান্ধব। |
| ৬ | শক্তির দক্ষতা | কম শক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। | বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং পরিবেশের উপর চাপ কমে। |
| ৭ | নবায়নযোগ্য কাঁচামাল | নবায়নযোগ্য কাঁচামাল ব্যবহার করা। | প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ কমায়। |
| ৮ | অপ্রয়োজনীয় উপজাত পরিহার | কম অথবা উপজাতবিহীন বিক্রিয়া ব্যবহার করা। | উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ করে ও বর্জ্য কমায়। |
| ৯ | অনুঘটক ব্যবহার | রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়াতে অনুঘটক ব্যবহার করা। | বিক্রিয়ার দক্ষতা বাড়ায় ও বর্জ্য কমায়। |
| ১০ | পচনশীল দ্রব্য তৈরি | ব্যবহারের পর সহজে পচনশীল হয় এমন দ্রব্য তৈরি করা। | পরিবে??ে জমা হওয়া বর্জ্য কমায়। |
| ১১ | দূষণ প্রতিরোধে নজরদারি | বিক্রিয়ার সময় দূষণ প্রতিরোধের জন্য নজরদারি রাখা। | পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। |
| ১২ | নিরাপদ রসায়ন | দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহার করা। | কর্মপরিবেশ নিরাপদ রাখে। |
গুরুত্বপূর্ণ: গ্রিন কেমিস্ট্রির এই নীতিগুলো শুধুমাত্র রসায়নবিদদের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য প্রযোজ্য। আমাদের উচিত পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন হওয়া এবং গ্রিন কেমিস্ট্রির নীতিগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করা। 🌍❤️
```