C3 উদ্ভিদে কার্বন বিজারণ প্রক্রিয়ায় প্রথম স্থায়ী পদার্থ কোনটি ?
সঠিক উত্তরঃ
D.
৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড
Another Explanation (5): প্রশ্নের উত্তর হিসেবে বলা হয় যে, C3 উদ্ভিদে কার্বন বিজারণ (photorespiration) প্রক্রিয়ায় প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3-Phosphoglyceric acid)। এর কারণেঃ
1. **কার্বন বিজারণের প্রক্রিয়া:**
যখন গ্যাসের বিনিময় সময়ে O2 এবং CO2 উভয়ই শ্বসন পাথের মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন O2 এর উপস্থিতিতে Rubisco এনজাইমটি কার্বন ফিক্সেশনের পরিবর্তে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় **কার্বন বিজারণ** বা **অক্সিজেনিয়াস ফোটোসিনথেসিস**।
2. **প্রথম স্থায়ী পদার্থ:**
এই প্রক্রিয়ায়, অক্সিজেনের সংযোজনের ফলে প্রথমে গ্লাইকোলেটিক এসিড বা ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3-PGA) তৈরি হয়।
- ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পাথওয়ে মধ্যবর্তী, যা পরে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় ফটোসিনথেসিসে ফিরে আসে বা অন্যান্য পদার্থে রূপান্তরিত হয়।
3. **চূড়ান্ত ব্যাখ্যা:**
কার্বন বিজারণের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিডের উৎপাদন ঘটে, যা এই প্রক্রিয়ার মূল উপাদান হিসেবে পরিচিত। এটি উদ্ভিদের মধ্যে গ্লাইকোলেটিক রিঅ্যাকশন বা পুনঃপ্রচলন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অতএব, **C3 উদ্ভিদে কার্বন বিজারণ প্রক্রিয়ায় প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড।**
Option A Explanation:
- অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্বক্সিলিক অ্যাসিড যা জীববিদ্যায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
- এটি মূলত ক্লেভস চক্রের মধ্যবর্তী একটি উপাদান হিসেবে কাজ করে, যেখানে শর্করা ভেঙে গিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইডের সাথে সংযুক্ত হয়।
- প্রাকৃতিকভাবে এটি উদ্ভিদের মধ্যে সঞ্চিত হয় এবং বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
- অক্সালো অ্যাসিটিক এসিডের উপস্থিতি জীবের মধ্যে শক্তির উৎপাদন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি জীবের বিভিন্ন অণুর গঠন ও বিকাশের জন্য একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
Option B Explanation:
- প্রাকৃতিক উৎস: ম্যালিক অ্যাসিড প্রাথমিকভাবে ফলমূল, বিশেষ করে আপেল, আঙুর, এবং পেপারমিন্টে পাওয়া যায়। এটি ফলের স্বাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- রাসায়নিক গঠন: এটি একটি ডাইকেলিক অ্যাসিড, যার রাসায়নিক সূত্র C₄H₆O₅। এর কাঠামোতে দুটি কার্বক্সিল গ্রুপ এবং দুটি হাইড্রক্সিল গ্রুপ থাকে।
- উৎপত্তি ও উৎপাদন: প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহের পাশাপাশি এটি রাসায়নিকভাবে সিনথেটিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা যায়।
- ব্যবহার: খাদ্য শিল্পে এটি একটি প্রাকৃতিক টেস্টিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন অ্যাপেলজুসের স্বাদ বাড়াতে। এছাড়া, এটি প্রসাধনী ও ওষুধ নির্মাণেও ব্যবহৃত হয়।
- অন্য নাম: এটি "ম্যালেট" বা "অ্যামিলিক অ্যাসিড" নামে পরিচিত।
Option C Explanation:
- ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড (3-Phosphoglyceraldehyde) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাইকার্সের (TCA) মধ্যবর্তী পদার্থ, যা গ্লাইকোলাইসিস ও ক্যালভিন চক্রের মধ্যে সংযোগকারী উপাদান।
- এটি একটি স্বতন্ত্র অ্যালডিহাইড, যা গ্লুকোজের বিভাজনের ফলে উৎপন্ন হয় এবং বিভিন্ন অণুর মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে।
- সাধারণত, এটি কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভিত্তিতে ক্যালভিন চক্রে সংশ্লেষিত হয় এবং গ্লুকোজ ও অন্যান্য শর্করা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- অতএব, এটি C3 উদ্ভিদে কার্বন বিজারণ প্রক্রিয়ার প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
Option D Explanation:
- ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3-Phosphoglyceric Acid) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ যা পাতা ও সবজির ক্লোরোপ্লাস্টে সংগঠিত হয়।
- এটি মূলত কার্বন fixation এর প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে কাজ করে।
- রাইবুলোজ ১, ৫ বিসফসফেটের সাথে তুলনা করলে, এটি আলোর সংশ্লেষণের (photosynthesis) প্রক্রিয়ায় প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
- প্রধানত, এটি কার্বন ডাই অক্সাইডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্লাইকালেটিক এসিডের উৎপাদনে সহায়ক।
- এটি মূলত ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমা (stroma) অঞ্চলে তৈরি হয় এবং ক্যালভিন সাইকেল এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে।