একটি ইলেকট্রন ও একটি প্রোটন বৃত্তাকার পথে একই বেগে এবং একই চৌম্বকক্ষেত্রে ঘুরছে। প্রোটনের ঘুরার পথের ব্যাসার্ধ হবে-

ইলেকট্রন ও প্রোটনের বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণন: ব্যাসার্ধের তুলনা ⚛️
একটি ইলেকট্রন 🧪 ও একটি প্রোটন ➕ যখন একই বেগে 𝑣 এবং একই চৌম্বকক্ষেত্র B-এ বৃত্তাকার পথে ঘোরে, তখন তাদের পথের ব্যাসার্ধের মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সম্পর্কটি বুঝতে হলে আমাদের কয়েকটি বিষয় জানতে হবে:
বিষয়সমূহ:
- চৌম্বক বল (Magnetic Force): চার্জযুক্ত কণা যখন চৌম্বকক্ষেত্রে গতিশীল হয়, তখন তার উপর একটি বল ক্রিয়া করে, যা লোরেন্জ বল (Lorentz force) নামে পরিচিত। এই বলের মান হলো F = qvB, যেখানে q হলো চার্জের পরিমাণ।
- কেন্দ্রমুখী বল (Centripetal Force): বৃত্তাকার পথে ঘোরার জন্য প্রয়োজনীয় বল, যা কণাকে কেন্দ্রের দিকে টানে। এর মান হলো F = mv²/r, যেখানে m হলো ভর এবং r হলো ব্যাসার্ধ।
ব্যাসার্ধের গণনা 📐:
যখন চার্জযুক্ত কণা চৌম্বকক্ষেত্রের সাথে লম্বভাবে প্রবেশ করে, তখন চৌম্বক বলই কেন্দ্রমুখী বল হিসেবে কাজ করে। তাই, আমরা লিখতে পারি:
qvB = mv²/r
সুতরাং, r = mv / qB
ইলেকট্রন ও প্রোটনের ক্ষেত্রে তুলনা ⚖️:
যেহেতু ইলেকট্রন ও প্রোটনের বেগ 𝑣 এবং চৌম্বকক্ষেত্র B একই, তাই ব্যাসার্ধ শুধুমাত্র ভর 𝑚 এবং চার্জ 𝑞 এর উপর নির্ভর করে।
- ইলেকট্রনের ভর (𝑚ₑ) = 9.11 × 10⁻³¹ kg
- প্রোটনের ভর (𝑚ₚ) ≈ 1.67 × 10⁻²⁷ kg
- ইলেকট্রন ও প্রোটনের চার্জের পরিমাণ সমান, কিন্তু বিপরীত চিহ্নযুক্ত। তাই |𝑞ₑ| = |𝑞ₚ|
ব্যাসার্ধের অনুপাত ➗:
ইলেকট্রনের ব্যাসার্ধ (𝑟ₑ) এবং প্রোটনের ব্যাসার্ধ (𝑟ₚ) এর অনুপাত হবে:
𝑟ₚ / 𝑟ₑ = (𝑚ₚv / qB) / (𝑚ₑv / qB) = 𝑚ₚ / 𝑚ₑ
𝑟ₚ / 𝑟ₑ ≈ (1.67 × 10⁻²⁷ kg) / (9.11 × 10⁻³¹ kg) ≈ 1833
ফলাফল 🎉:
সুতরাং, প্রোটনের ঘূর্ণন পথের ব্যাসার্ধ ইলেকট্রনের ঘূর্ণন পথের ব্যাসার্ধের প্রায় 1833 গুণ। প্রায় ২০০০ গুণ বড় বলা যায়।
সারসংক্ষেপ 📝:
| বৈশিষ্ট্য | ইলেকট্রন | প্রোটন |
|---|---|---|
| ভর | 9.11 × 10⁻³¹ kg | 1.67 × 10⁻²⁷ kg |
| চার্জ | -1.602 × 10⁻¹⁹ C | +1.602 × 10⁻¹⁹ C |
| ব্যাসার্ধ (একই v ও B এর জন্য) | ছোট | ~1833 গুণ বড় |
আশা করি, এই ব্যাখ্যাটি আপনার কাছে বোধগম্য হয়েছে। যদি কোন প্রশ্ন থাকে, তবে জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধা করবেন না! 🤔
আরও জানতে বিভিন্ন সোর্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। 📚