মায়োসিস প্রোফেজ-১ এর সঠিক ক্রম পর্যায় কোনটি ?
সঠিক উত্তরঃ
D.
লেপ্টোটিন → জাইগোটিন → প্যাকাইটিন → ডিপ্লোটিন
Explanation:

Another Explanation (5):
মায়োসিস প্রোফেজ-১ এর পর্যায়ক্রম 🧬
মায়োসিস একটি জটিল কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যা যৌন প্রজননকারী জীবের জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরিতে ঘটে। প্রোফেজ-১ হলো এই প্রক্রিয়ার প্রথম এবং দীর্ঘতম পর্যায়। এটি বেশ কয়েকটি উপ-পর্যায়ে বিভক্ত, যেখানে প্রতিটি পর্যায়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিচে পর্যায়ক্রমটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:- লেপ্টোটিন (Leptotene) 🌸:
- ক্রোমোজোমগুলো ধীরে ধীরে ঘনীভূত হতে শুরু করে।
- ক্রোমোজোমগুলো লম্বা সুতার মতো দেখায় এবং নিউক্লিয়াসের মধ্যে বিন্যস্ত থাকে।
- "ক্রোমোমিয়ার" নামক ছোট ছোট পুঁতির মতো গঠন দেখা যায়।
- জাইগোটিন (Zygotene) 🤝:
- সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলো জোড় বাঁধতে শুরু করে, এই প্রক্রিয়াকে সিনাপসিস বলে।
- সিনাপটোনিমাল কমপ্লেক্স নামক একটি প্রোটিন কাঠামো এই জোড় গঠনে সাহায্য করে।
- দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড় তৈরি করে "বাইভ্যালেন্ট" গঠন করে।
- প্যাকাইটিন (Pachytene) 💪:
- ক্রোমোজোমগুলো আরও ঘনীভূত ও মোটা হয়।
- প্রতিটি বাইভ্যালেন্ট চারটি ক্রোমাটিড নিয়ে গঠিত হয়, তাই একে "টেট্রাড"ও বলা হয়।
- এই পর্যায়ে ক্রসিং ওভার ঘটে।
- ক্রসিং ওভারে সমসংস্থ ক্রোমোজোমের মধ্যে অংশের বিনিময় হয়, যা বংশগত variation বা প্রকরণ সৃষ্টি করে।
- ডিপ্লোটিন (Diplotene) 👀:
- সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলো আলাদা হতে শুরু করে, তবে কিছু স্থানে যুক্ত থাকে।
- যেসব স্থানে ক্রোমোজোমগুলো যুক্ত থাকে, সেই স্থানগুলোকে কায়াজমা (Chiasmata) বলে।
- কায়াজমাগুলো ক্রসিং ওভারের ফলে সৃষ্ট অংশের বিনিময়ের স্থান নির্দেশ করে।
- ডিপ্লোটিন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, বিশেষ করে স্ত্রী জননকোষের ক্ষেত্রে।
- ডায়াকাইনেসিস (Diakinesis) 🏁:
- ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত হয়।
- নিউক্লিওলাস (Nucleolus) অদৃশ্য হয়ে যায়।
- নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (Nuclear membrane) ভেঙে যায়।
- স্পিন্ডল ফাইবার গঠিত হতে শুরু করে।
- কায়াজমাগুলো ক্রোমোজোমের শেষ প্রান্তে সরে যায়, এই প্রক্রিয়াকে টার্মিনালাইজেশন বলে।
| পর্যায় | বৈশিষ্ট্য | গুরুত্ব |
|---|---|---|
| লেপ্টোটিন | ক্রোমোজোম ঘনীভূত হওয়া শুরু | ক্রোমোজোম প্রস্তুত করা |
| জাইগোটিন | সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড় বাঁধা | সিনাপসিস তৈরি |
| প্যাকাইটিন | ক্রসিং ওভার ঘটা | জিনগত প্রকরণ সৃষ্টি |
| ডিপ্লোটিন | কায়াজমা সৃষ্টি | ক্রসিং ওভারের স্থান চিহ্নিত করা |
| ডায়াকাইনেসিস | নিউক্লিয়ার ঝিল্লি বিলুপ্তি & স্পিন্ডল গঠন | মেটাফেজের জন্য প্রস্তুত |
সুতরাং, মায়োসিস প্রোফেজ-১ এর সঠিক ক্রম হলো:
লেপ্টোটিন → জাইগোটিন → প্যাকাইটিন → ডিপ্লোটিন → ডায়াকাইনেসিস
আশা করি এই ব্যাখ্যাটি আপনার কাজে লাগবে! 👍
Option A Explanation:
- জাইগোটিন (Zygotene): এই পর্যায়ে, ক্রোমোজোমসমূহের সমান্তরাল বিন্যাস হয় এবং হোমোলগাস ক্রোমোজোমের মধ্যে ক্রসওভার বা সংযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটি মায়োসিসের প্রথম পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
- ডিপ্লোটিন (Diplotene): এই পর্যায়ে, ক্রসওভার সম্পন্ন হয় এবং হোমোলগাস ক্রোমোজোম দ্বিগুণ হয়ে আলাদা হয়ে যায়। ক্রোমোটিডের সংযোগস্থল দৃশ্যমান হয় এবং ক্রোমোসোমগুলি আলগা হয়ে যায়।
- প্যাকাইটিন (Pachytene): এই পর্যায়ে, ক্রোমোজোমের ক্রসওভার সম্পূর্ণ হয়। ক্রোমোটিডের মধ্যবর্???ী অংশের সমান্তরাল বিন্যাস ও ক্রসওভার ঘটার জন্য এই ধাপ গুরুত্বপূর্ণ।
- ডায়াকাইনেসিস (Diakinesis): এই শেষ পর্যায়ে, ক্রোমোসোমগুলি আরও সংকুচিত হয় এবং ক্রসওভার স্থানগুলো দৃশ্যমান হয়। এই অবস্থায় গুণগত ও গঠনগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় বিপরীতমুখী বিভাজনের জন্য।
Option B Explanation:
লেপ্টোটিন → প্যাকাইটিন → ডিপ্লোটিন → জাইগোটিন
- লেপ্টোটিন (Leptotene): এই পর্যায়ে, গুচ্ছের ডিএনএ কণিকা সংকুচিত হয়ে সূঁচের মতো দেখায়। ক্রোমাটিনের প্রথম ধাপের সংকোচন ঘটে এবং ক্রোমোসোমের শুরুর সূচনা হয়।
- প্যাকাইটিন (Pachytene): এই পর্যায়ে, ক্রোমাটিন আরও সংকুচিত হয় এবং ক্রোমোসোমের পার্শ্ববর্তী অংশগুলো একে অপরের সাথে জোড়া বাঁধে। এই সময়ে জেনেটিক রকমপ্লেক্সের ক্রসওভারের ঘটনা ঘটে, যা জেনেটিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে।
- ডিপ্লোটিন (Diplotene): এখানে, ক্রোমাটিন আলাদা হয়ে যায় তবে ক্রোমোসোম জোড়াগুলো এখনও সংযুক্ত থাকে। এই পর্যায়ে ক্রোমোসোমের চিহ্ন স্পষ্ট হয় এবং ক্রসওভার স্থানগুলো দৃশ্যমান হয়।
- জাইগোটিন (Diakinesis): এটি শেষ পর্যায় যেখানে ক্রোমোসোমগুলো আরও সংকুচিত হয় এবং শেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয় মাইওসিসের মেটাফেজের জন্য। ক্রোমোসোমের পলার ডিভিশনের জন্য প্রস্তুত হয়।
Option C Explanation:
- জাইগোটিন (Zygotene): এই পর্যায়ে, ক্রোমোসোম দ্বিগুণ হয় এবং তারা পারস্পরিক সংস্পর্শে আসে। এই সময়ে ক্রোমোসোমের জন্য homologous pairing শুরু হয়।
- লেপ্টোটিন (Leptotene): এই পর্যায়ে, ক্রোমোসোম গঠন শুরু হয় এবং অনেকটাই সূক্ষ্মভাবে দেখা যায়। ক্রোমাটিডগুলো আলাদা হয়ে যায় এবং ক্রোমোসোমের সূচনালগ্নের গঠন দৃশ্যমান হয়।
- প্যাকাইটিন (Pachytene): এ সময় homologous ক্রোমোসোমগুলো সম্পূর্ণভাবে জোড়া বাঁধে এবং ক্রসওভারে (crossing-over) সংঘটিত হয়। এই পর্যায়ে ক্রোমোসোমের গঠন সবচেয়ে দৃঢ় এবং জটিল হয়ে ওঠে।
- ডিপ্লোটিন (Diplotene): এই পর্যায়ে, homologous ক্রোমোসোমগুলো আলাদা হতে শুরু করে, কিন্তু তারা এখনও সংযুক্ত থাকে ক্রসওভারের কারণে। ক্রোমোসোমের আলাদা অংশগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
Option D Explanation:
- লেপ্টোটিন (Leptotene): এই পর্যায়ে ক্রোমাটিনগুলি একটি সংকীর্ণ ও পাতলা অবস্থা গ্রহণ করে এবং ক্রোমোসোমের স??চনা হয়। এই সময়ে ক্রোমোসোমের গঠন শুরু হয়, তবে এগুলি এখনও স্পষ্ট নয়।
- জাইগোটিন (Zygotene): এই পর্যায়ে ক্রোমোসোমের জোড়া তৈরি হয়, যা জাইগোটেনাল (zygote) বলা হয়। ক্রোমোসোমের জোড়া সম্পূর্ণভাবে জোড়া বাঁধে এবং ক্রসওভার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- প্যাকাইটিন (Pachytene): এই পর্যায়ে ক্রোমোসোমের গঠন আরও দৃঢ় হয় এবং ক্রসওভার সম্পূর্ণ হয়। এই সময়ে ক্রোমোসোম গঠন কঠিন ও ঘন হয়ে যায়।
- ডিপ্লোটিন (Diplotene): এই পর্যায়ে ক্রোমোসোমের জোড়া আলাদা হতে শুরু করে, তবে তারা এখনও কাছাকাছি থাকে। ক্রসওভার স্থানগুলি দৃশ্যমান হয় এবং ক্রোমোসোমগুলি লম্বা ও সংকীর্ণ হয়।