নিচের কোন ভাইরাসের একসূত্রক DNA বিদ্যমান?
কোলিফাজ

একসূত্রক DNA ভাইরাস (Single-stranded DNA Virus) : কোলিফাজ (Coliphage) এবং অন্যান্য
ভাইরাস মূলত দুই ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত - DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) এবং RNA (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)। DNA ভাইরাসগুলোর মধ্যে কিছু দ্বি-সূত্রক (double-stranded) এবং কিছু এক-সূত্রক (single-stranded) DNA বিদ্যমান। কোলিফাজ হলো এক প্রকার ভাইরাস যা ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে, বিশেষত Escherichia coli (E. coli) নামক ব্যাকটেরিয়াকে। এদের মধ্যে কিছু ভাইরাসের একসূত্রক DNA দেখা যায়। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
একসূত্রক DNA ভাইরাস কী? 🤔
যেসব ভাইরাসের জিনোম একটিমাত্র DNA সূত্র দিয়ে গঠিত, তাদের একসূত্রক DNA ভাইরাস বলা হয়। এই ভাইরাসগুলো পোষক কোষে (host cell) প্রবেশ করার পর তাদের একসূত্রক DNA প্রথমে দ্বি-সূত্রক DNA-তে রূপান্তরিত হয়। এরপর ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ঘটে।
কোলিফাজ (Coliphage) ভাইরাস 🦠
- কোলিফাজ হলো ভাইরাস যা E. coli ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে।
- এদের মধ্যে কিছু ভাইরাসের জিনোম একসূত্রক DNA দিয়ে গঠিত।
- উদাহরণ: M13, φX174 ইত্যাদি।
কোলিফাজ φX174 (phi X 174) 🧬
φX174 একটি বহুল পরিচিত একসূত্রক DNA ভাইরাস। এটি E. coli ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
- জিনোম: একটি বৃত্তাকার একসূত্রক DNA (circular single-stranded DNA) দিয়ে গঠিত।
- আকার: ছোট আকারের আইকোসাহেড্রাল (icosahedral) ক্যাপসিড (capsid) দ্বারা আবৃত।
- আক্রমণ প্রক্রিয়া: এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রবেশ করে।
- বংশবৃদ্ধি: পোষক কোষের অভ্যন্তরে এটি প্রথমে দ্বি-সূত্রক DNA-তে রূপান্তরিত হয়, যা রেপ্লিকেটিভ ফর্ম (replicative form) নামে পরিচিত। এই দ্বি-সূত্রক DNA পরবর্তীতে ভাইরাসের নতুন একসূত্রক DNA তৈরি করে।
অন্যান্য একসূত্রক DNA ভাইরাস 📝
কোলিফাজ ছাড়াও আরও কিছু একসূত্রক DNA ভাইরাস রয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো:
| ভাইরাসের নাম | সংক্রমণের স্থান | গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| Parvovirus B19 | মানুষ | ফিফথ ডিজিজ (Fifth disease) নামক রোগ সৃষ্টি করে। |
| Adeno-associated virus (AAV) | মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী | জিন থেরাপিতে ব্যবহৃত হয়। |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 🤔
একসূত্রক DNA ভাইরাসগুলো জীববিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের গঠন এবং বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এছাড়াও, জিন থেরাপির ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার ভবিষ্যতে অনেক রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে।