নিচের কোনটি মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যতিক্রমের উদাহরণ?
মেন্ডেলের ১ম সূত্রের ব্যাতিক্রমঃ১.অসম্পূর্ণ প্রকটতা ২.সমপ্রকটতা ৩.লিথাল জিন বা মারণ জিন।
২য় সূত্রের ব্যাতিক্রমঃ ১.পরিপূরক জিন ২.এপিস্টাসিস ৩.প্রকট এপিস্টাসিস ৪.দেত প্রচ্ছন্ন এপিস্টাসিস।
মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যতিক্রম: এপিস্ট্যাসিস 🧬
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র, যা পৃথকীকরণের সূত্র নামে পরিচিত, অনুসারে দুটি ভিন্ন অ্যালিল একে অপরের থেকে স্বতন্ত্রভাবে বংশধরে সঞ্চারিত হয়। কিন্তু এপিস্ট্যাসিস এই সূত্রের একটি ব্যতিক্রম।
এপিস্ট্যাসিস কী? 🤔
এপিস্ট্যাসিস হলো একটি জিন অন্য একটি জিনের প্রকাশকে প্রভাবিত বা মাস্ক করে দেয়। অর্থাৎ, একটি জিনের অ্যালিল অন্য একটি জিনের অ্যালিলের ফেনোটাইপিক প্রকাশকে পরিবর্তন করে। মেন্ডেলের সূত্রে প্রতিটি জিন স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা বলা হলেও, এপিস্ট্যাসিসে একটি জিন অন্য জিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়।
এপিস্ট্যাসিসের প্রকারভেদ 📊
- প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস: যখন একটি প্রচ্ছন্ন হোমোজাইগাস অ্যালিল অন্য একটি জিনের প্রকাশকে মাস্ক করে।
- ডোমিন্যান্ট এপিস্ট্যাসিস: যখন একটি প্রভাবশালী অ্যালিল অন্য একটি জিনের প্রকাশকে মাস্ক করে।
- ডুপ্লিকেট রিসেসিভ এপিস্ট্যাসিস: যখন দুটি ভিন্ন জিনের রিসেসিভ অ্যালিল মিলিতভাবে অন্য একটি জিনের প্রকাশকে মাস্ক করে।
- ডুপ্লিকেট ডমিন্যান্ট এপিস্ট্যাসিস: যখন দুটি ভিন্ন জিনের ডমিন্যান্ট অ্যালিল মিলিতভাবে অন্য একটি জিনের প্রকাশ ঘটায়।
উদাহরণ 🐾
কুকুরের কোট রং: কুকুরের কোটের রং নির্ধারণের জন্য দুটি জিন কাজ করে - 'B' এবং 'E'। 'B' জিনটি কোটের কালো (B) বা বাদামী (b) রং নির্ধারণ করে। 'E' জিনটি কোটের রং প্রকাশ পাবে কিনা তা নিয়ন্ত্রণ করে। যদি কুকুরের 'ee' জিনোটাইপ থাকে, তবে 'B' জিনের প্রকাশ ঘটবে না এবং কোটটি সোনালী (yellow/golden) হবে। এখানে 'E' জিন, 'B' জিনের উপর এপিস্ট্যাটিক প্রভাব ফেলে। 🐕
এপিস্ট্যাসিসের কারণ ❓
এপিস্ট্যাসিসের প্রধান কারণ হলো জিনগুলোর মধ্যেকার মিথস্ক্রিয়া। একটি জিন অন্য একটি জিনের উৎপাদিত প্রোটিনের কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে পারে, অথবা একটি জিন অন্য একটি জিনের ট্রান্সক্রিপশনকে প্রভাবিত করতে পারে।
এপিস্ট্যাসিসের তাৎপর্য 🧬🔬
এপিস্ট্যাসিস বংশগতি এবং ফেনোটাইপের মধ্যে জটিল সম্পর্ক তৈরি করে। এটি রোগ, অভিযোজন এবং বিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এপিস্ট্যাসিসের কারণে মেন্ডেলের সূত্র থেকে ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়, যা জেনেটিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
এপিস্ট্যাসিস এবং মেন্ডেলের সূত্র 📝
| বৈশিষ্ট্য | মেন্ডেলের সূত্র | এপিস্ট্যাসিস |
|---|---|---|
| জিনের মিথস্ক্রিয়া | নেই | আছে |
| ফেনোটাইপিক অনুপাত | নির্দিষ্ট (যেমন, 9:3:3:1) | পরিবর্তিত (যেমন, 9:3:4, 12:3:1) |
| জিনের স্বাধীনতা | জিনগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করে | একটি জিন অন্য জিনের উপর নির্ভরশীল |
এপিস্ট্যাসিস মেন্ডেলের সূত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম যা বংশগতির জটিলতা প্রমাণ করে। 🧐
```- অসম্পূর্ণ প্রকটতা: এটি একটি জেনেটিক অবস্থা যেখানে দ্বৈত অণুগুলির মধ্যে একটির প্রভাব অন্যটির উপর সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় না। ফলে, হাইব্রিড প্রজন্মে সাধারণত দুইটি পেরেন্টের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে দেখা যায় না, বরং একটি মধ্যবর্তী বা মিশ্র বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
- এই ধরনের প্রকটতার কারণে, জিনোটাইপের অনুপাত সাধারণত ১:2:1 হয়, যেখানে:
- প্রথম সংখ্যা: হোমোজিগাস (প্রথম ধরনের জিনের দুটি অভিন্ন কপি)
- দ্বিতীয় সংখ্যা: হেটেরোজিগাস (দুটি ভিন্ন জিনের কপি)
- তৃতীয় সংখ্যা: আবার হোমোজিগাস (অন্য ধরনের জিনের দুটি অভিন্ন কপি)
- অর্থাৎ, অসম্পূর্ণ প্রকটতার কারণে, হেটেরোজিগাস জেনোটাইপের উপস্থাপনা মধ্যবর্তী প্রকটতার কারণে ১:2:1 অনুপাত সৃষ্টি করে।
সমপ্রকটতা
- সংজ্ঞা: সমপ্রকটতা বলতে বোঝায় যে, কোনও নির্দিষ্ট জিন বা ট্রেটের জন্য দুটি আলাদা আলাদা প্রকটতা বা প্রকাশ পাওয়া যায়।
- উদাহরণ: একটি গাছের একটি পাতা যদি সবুজ বা হলুদ রঙের হয়ে থাকে, তবে সেটি সমপ্রকটতা নির্দেশ করে।
- মূল কারণ: এই ধরনের প্রকটতা সাধারণত জেনেটিক ভ্যারিয়েশনের কারণে হয়, যেখানে এক জিনের জন্য একাধিক প্রকটতা থাকতে পারে।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য: সমপ্রকটতা থাকলে, একই জিনের আলাদা আলাদা প্রকটতা একই সময়ে উপস্থিত থাকতে পারে।
- উপকারিতা: বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে প্রজনন বা বিবর্তনের জন্য সুবিধা প্রদান করে।
এপিস্ট্যাসিস (Epistasis)
- এপিস্ট্যাসিস হলো জেনেটিক ইন্টারঅ্যাকশনের এক প্রকার যেখানে এক জিনের প্রভাব অন্য জিনের প্রকাশের উপর প্রভাব ফেলে।
- এতে একটি জিনের অস্থিরতা বা অভাব অন্য জিনের ফলাফল বা প্রকাশের উপর প্রভাব ফেলে, ফলে সাধারণ জিনোটাইপিক অনুপাত পরিবর্তিত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি জিন অন্য একটি জিনের কার্যকলাপের উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে, তবে ফলস্বরূপ জিনের নির্দিষ্ট প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট জিনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
- এপিস্ট্যাসিসের কারণে সাধারণ 9:3:3:1 বা 1:2:1 ইত্যাদি জিনোটাইপিক অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে অন্য রকম হতে পারে।
- লিথাল জিন: এই জিনটি এমন জিন যা যদি কোন ব্যক্তির জিনোমে উপস্থিত থাকে, তাহলে তার জীবনধারা বা জীবনের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মৃত্যু ঘটে।
- অর্থাৎ, এই জিনের ক্রমে কোনও পরিবর্তন বা বৈচিত্র্য থাকলে তা জীবনের জন্য ক্ষতিকর বা মারাত্মক হতে পারে।
- সাধারণত, লিথাল জিনের উপস্থিতি জীবের সুস্থতা বা উন্নতিতে বাধা দেয় এবং অনেক সময় এগুলিকে বংশানুক্রমিক রোগ বা অবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়।