ভাব সম্প্রসারণ কর (অনধিক পাঁচটি বাক্যে):
এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়—
এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে॥
- Marks=2.5
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। কবিতাটি মননধর্মী এবং বয়ঃসন্ধিকালের মানসিকতার বৈশিষ্ট্যগুলো এতে বর্ণিত হয়েছে। এখানে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের সময় লক্ষণীয়। এ বয়সের ধর্মই হল আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, আঘাত-সংঘাতের মধ্যে রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সব বাধা-বিপত্তিকে পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত। এ বয়স প্রবল আবেগ, উত্তেজনায় ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেয়ার জন্য যেমন উপযোগী তেমনি সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতে হয়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্কর। তারুণ্য ও যৌবনশক্তি দুর্বার বেগে এগিয়ে যায় প্রগতির পথে কিংবা ধ্বংসের দিকে। কবি এ বয়সের সব নেতিবাচক ব্যবহার ও ভয়ঙ্কর দুর্যোগ বাদ দিয়ে যৌবনের তারুণ্য, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন এবং কল্যাণব্রত শক্তিকে প্রত্যাশা করেছেন। কবি আশা প্রকাশ করেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ও নানা সমস্যাপীড়িত ভারতবর্ষে তারুণ্য ও যৌবনশক্তি যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়।