ঢাকা- চট্টগ্রামে রেলপথের ধরন কিরূপ ?
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা:
বাংলাদেশে রেলপথের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, এবং প্রতিটি ধরন নির্ভর করে রেলের ট্র্যাকের প্রস্থের ওপর। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ চারটি প্রকার রয়েছে:
-
ব্রডগেজ (Broad Gauge)
-
মিটার গেজ (Meter Gauge)
-
ন্যারোগেজ (Narrow Gauge)
-
এক্সট্রাগেজ (Extra Gauge)
এখন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ধরন হল মিটার গেজ। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ রেলপথের প্রধান ধরন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চলুন, এটির বিশদ ব্যাখ্যা দিই:
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ধরন
-
রেলপথের গেজ:
-
গেজ বলতে রেলের দুইটি রেললাইনের মধ্যে দূরত্ব বোঝায়।
-
রেলপথের গেজ অনুযায়ী রেলের প্রস্থ নির্ধারিত হয়। এই প্রস্থের জন্য রেলপথে ব্যবহৃত ট্রেনের আকার ও চাকা ডিজাইন করা হয়।
-
গেজের ভিত্তিতে রেলপথে চলাচলকারী ট্রেনের গতিবেগ, যাত্রার আরাম, নিরাপত্তা, এবং টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
-
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের গেজ: মিটার গেজ
-
মিটার গেজ (Meter Gauge):
-
মিটার গেজের রেলপথের দুটি রেল লাইনের মধ্যে দূরত্ব ১,০০০ মিমি বা ১ মিটার।
-
এটি বাংলাদেশের বেশিরভাগ রেলপথের জন্য ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে।
-
এর ফায়দা হলো, এটি তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল এবং সহজে নির্মাণ করা যায়।
-
মিটার গেজের সুবিধা ও অসুবিধা
| সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|
| কম খরচে নির্মাণ করা যায় | রেলের গতিবেগ কম থাকে |
| ছোট স্থান ও সীমিত বাজেটের মধ্যে নির্মাণ সম্ভব | বড় আকারের ট্রেন চালানো কঠিন |
| সাধারণত পাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চলে ব্যবহৃত | ব্যবহৃত ট্রেনের আকার ছোট থাকে |
অন্যান্য গেজের তুলনা
| গেজের ধরন | রেলপথের প্রস্থ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ব্রডগেজ | ১,৬৬৬ মিমি | ভারত, পাকিস্তান |
| মিটার গেজ | ১,০০০ মিমি | বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা |
| ন্যারোগেজ | ৭৬২ মিমি | কিছু পার্বত্য অঞ্চলের রেলপথ |
| এক্সট্রাগেজ | ১,৮০০ মিমি বা এর বেশি | কোনো বড় মাপের আঞ্চলিক ট্র্যাক |
উপসংহার
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ধরন মিটার গেজ এবং এটি বাংলাদেশের বেশিরভাগ রেলপথে ব্যবহৃত গেজ। অন্যান্য গেজ যেমন ব্রডগেজ এবং ন্যারোগেজ কিছু বিশেষ রুটে ব্যবহৃত হলেও, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের জন্য মিটার গেজটি সবচেয়ে উপযুক্ত এবং ব্যবহারিক।
এখন, প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে:
B. মিটার গেজ (সঠিক)
ব্রডগেজ এবং ন্যারোগেজ রেলপথের ধরন হিসেবে এখানে সঠিক নয়, এবং এক্সট্রাগেজ রেলপথের ধরন একেবারে অপরিচিত।