পোলারায়ন যত বেশি হয় যৌগের সমযোজী বৈশিষ্ট্য তত বৃদ্ধি পায়। ফলে গলনাংকের হ্রাস ঘটে। এ উক্তির প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত যৌগ সমূহের সঠিক গলনাংকের ক্রম হল-
পোলারায়ন ও গলনাংকের ক্রম 🌡️
পোলারায়ন যত বেশি, যৌগের সমযোজী বৈশিষ্ট্য তত বাড়ে, এবং গলনাংক কমে যায়। নিচে এই যুক্তির সাপেক্ষে ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড (MgCl2) ও সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) এর গলনাংকের ক্রম ব্যাখ্যা করা হলো:
পোলারায়ন কি? 🤔
পোলারায়ন হলো ক্যাটায়ন কর্তৃক অ্যানায়নের ইলেকট্রন মেঘকে নিজের দিকে আকর্ষিত করার ক্ষমতা। ক্যাটায়নের আকার ছোট এবং চার্জের পরিমাণ বেশি হলে পোলারায়ন ক্ষমতা বাড়ে। অ্যানায়নের আকার বড় এবং চার্জের পরিমাণ বেশি হলে পোলারায়িত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
MgCl2 ও NaCl এর মধ্যে তুলনা ⚖️
- ক্যাটায়ন: Mg2+ (ম্যাগনেসিয়াম আয়ন) এবং Na+ (সোডিয়াম আয়ন)
- অ্যানায়ন: Cl- (ক্লোরাইড আয়ন) উভয় ক্ষেত্রেই একই
ম্যাগনেসিয়াম আয়নের (Mg2+) চার্জ সোডিয়াম আয়নের (Na+) চেয়ে বেশি (+২ বনাম +১)। এছাড়াও, ম্যাগনেসিয়াম আয়নের আকার সোডিয়াম আয়নের চেয়ে ছোট। তাই, ম্যাগনেসিয়াম আয়নের পোলারায়ন ক্ষমতা সোডিয়াম আয়নের চেয়ে বেশি।
ফলাফল 📉
যেহেতু MgCl2 এর পোলারায়ন ক্ষমতা বেশি, তাই এর মধ্যে সমযোজী বৈশিষ্ট্য বেশি। সমযোজী বৈশিষ্ট্য বেশি হওয়ার কারণে এর গলনাংক NaCl এর চেয়ে কম হবে।
গলনাংকের ক্রম 🌡️Order of melting point
সুতরাং, সঠিক ক্রম হবে:
- NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)
- MgCl2 (ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড)
অর্থাৎ, NaCl > MgCl2 ।
সারণী 📊
| যৌগ | ক্যাটায়ন | চার্জ | পোলারায়ন ক্ষমতা | সমযোজী বৈশিষ্ট্য | গলনাংক (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|---|---|
| NaCl | Na+ | +1 | কম | কম | 801 °C |
| MgCl2 | Mg2+ | +2 | বেশি | বেশি | 714 °C |
নোট: প্রদত্ত উত্তরে "MgCl2>NaCl3>MgCl2" -এ "NaCl3" যৌগের কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি সম্ভবত একটি ভুল।
আশা করি, ব্যাখ্যাটি বোধগম্য হয়েছে। 👍
```