বজ্রকণ্ঠ' কোন সমাসের উদাহরণ ?
প্রশ্ন: \'বজ্রকণ্ঠ\' কোন সমাসের উদাহরণ?
এই প্রশ্নে \'বজ্রকণ্ঠ\' শব্দটির সমাসের ধরন জানতে চাওয়া হয়েছে। সমাস হলো বাংলা ভাষার এক ধরনের শব্দবন্ধ, যেখানে দুটি বা ততোধিক শব্দ একত্রে মিলিত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করে। সমাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শব্দের অর্থকে সংক্ষিপ্ত এবং সুসংগঠিতভাবে প্রকাশ করা।
সমাসের ধরন:
সমাসকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। এখানে \'বজ্রকণ্ঠ\' শব্দের সমাসের ধরন বিশ্লেষণ করতে হবে।
\'বজ্রকণ্ঠ\' বিশ্লেষণ:
শব্দটির গঠন \'বজ্র\' এবং \'কণ্ঠ\'—দুটি শব্দের মিশ্রণ থেকে হয়েছে। \'বজ্র\' (একটি শক্তিশালী উপাদান) এবং \'কণ্ঠ\' (স্বর বা গলা) একত্রিত হয়ে \'বজ্রকণ্ঠ\' শব্দটি তৈরি হয়েছে, যার অর্থ হলো \'শক্তিশালী স্বর\' বা \'ধ্বনির মতো কণ্ঠ\'।
বজ্রকণ্ঠ শব্দের সমাস:
এটি একটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ, কারণ এখানে \'বজ্র\' শব্দটি \'কণ্ঠ\' শব্দের গুণ বা বৈশিষ্ট্য হিসেবে যোগ হয়েছে। অর্থাৎ, \'বজ্র\' শব্দটি \'কণ্ঠ\' শব্দের প্রতি গুণ বা পরিমাণ নির্দেশ করছে, যা সমাসের একটি নির্দিষ্ট প্রকার।
সমাসের ধরন:
| বিকল্প | বর্ণনা | সঠিকতা |
|---|---|---|
| A | মধ্যপদলোপী কর্মধারয় | এটি ভুল বিকল্প। মধ্যপদলোপী সমাসে মূল শব্দের মধ্যপদ (যেমন \'বিশ্ববিদ্যালয়\') বাদ দেয়া হয়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। |
| B | উপমান কর্মধারয় | এটি ভুল বিকল্প। উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি শব্দ অন্য শব্দের তুলনায় উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা \'বজ্রকণ্ঠ\' শব্দে নেই। |
| C | উপমিত কর্মধারয় | সঠিক উত্তর - \'বজ্রকণ্ঠ\' একটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ, যেখানে \'বজ্র\' শব্দটি \'কণ্ঠ\' শব্দের গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। |
| D | রূপক কর্মধারয় | এটি ভুল বিকল্প। রূপক কর্মধারয় সমাসে দুটি শব্দ একে অপরের গুণ বা প্রকৃতি প্রকাশ করে, তবে \'বজ্রকণ্ঠ\' শব্দে এটি প্রযোজ্য নয়। |
উপসংহার:
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো C. উপমিত কর্মধারয়, কারণ \'বজ্র\' শব্দটি \'কণ্ঠ\' শব্দের গুণ বা বৈশিষ্ট্য হিসেবে যোগ হয়েছে, যা উপমিত কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য।
'বজ্রকণ্ঠ' কোন সমাসের উদাহরণ ?
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় (Incorrect)
- উপমান কর্মধারয় (Incorrect)
- উপমিত কর্মধারয় (Correct)
- রূপক কর্মধারয় (Incorrect)
ব্যাখ্যা:
সঠিক উত্তর হলো C. উপমিত কর্মধারয়।
কর্মধারয় ???মাস
কর্মধারয় সমাস হলো সেই সমাস যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়। কর্মধারয় সমাসকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
- উপমান কর্মধারয়
- উপমিত কর্মধারয়
- রূপক কর্মধারয়
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উপমিত কর্মধারয় সমাস
উপমিত কর্মধারয় সমাসে সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে বিশেষ্য পদের সাথে তুলনা করা হয়। এক্ষেত্রে বিশেষ্য পদটিকে বিশেষণরূপে ধরা হয়। উপমিত কর্মধারয় সমাসে 'ন্যায়' বা 'সদৃশ' শব্দ ব্যবহার করা হয়।
গঠন: বিশেষ্য পদ + ন্যায়/সদৃশ + বিশেষ্য পদ
ব্যাস বাক্য: বিশেষ্য পদের ন্যায়/সদৃশ
উদাহরণ: মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ, পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, বজ্রের ন্যায় কণ্ঠ = বজ্রকণ্ঠ।
প্রদত্ত শব্দ 'বজ্রকণ্ঠ' এর বিশ্লেষণ
'বজ্রকণ্ঠ' শব্দটিতে কণ্ঠকে বজ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এখানে কণ্ঠ হলো উপমেয় (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে) এবং বজ্র হলো উপমান (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে)। 'ন্যায়' শব্দটি উহ্য রয়েছে।
ব্যাস বাক্য: বজ্রের ন্যায় কণ্ঠ
যেহেতু এখানে সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে কণ্ঠকে সরাসরি বজ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে, তাই এটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
অন্যান্য বিকল্প
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: এই সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পায়। যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- উপমান কর্মধারয়: এই সমাসে দুটি ভিন্ন বস্তুর মধ্যে সাধারণ গুণের উল্লেখ করে তুলনা করা হয়। যেমন: তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র।
- রূপক কর্মধারয়: এই সমাসে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়। যেমন: বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যারূপ ধন।
সিদ্ধান্ত
'বজ্রকণ্ঠ' শব্দটিতে কণ্ঠকে বজ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং 'ন্যায়' শব্দটি উহ্য রয়েছে। তাই এটি উপমিত কর্মধার???় সমাসের উদাহরণ।
সঠিক উত্তর: C. উপমিত কর্মধারয়