বন্ধন কোন ক্রমটি সঠিক?
NH3 > PH3 > AsH3 > SbH3

বন্ধন ক্রম: NH3 > PH3 > AsH3 > SbH3 - এর ব্যাখ্যা
বন্ধন ক্রম (Bond strength) বলতে কোনো রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে পরমাণুগুলোকে আলাদা করতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তা বোঝায়। এক্ষেত্রে, NH3, PH3, AsH3 এবং SbH3 যৌগগুলোর বন্ধন ক্রম আলোচনা করা হলো।
বন্ধন ক্রমের কারণসমূহ 🤔
এই যৌগগুলোর বন্ধন ক্রম হ্যালোজেনের আকার বৃদ্ধি এবং তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্যের উপর নির্ভর করে। নিচে কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকার: পর্যায় সারণীতে যতই উপর থেকে নিচে নামা যায়, কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায়। আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে বন্ধন দৈর্ঘ্যও বৃদ্ধি পায়।
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা: আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে কেন্দ্রীয় পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতাও কমে যায়। ফলে, বন্ধনের পোলারিটি হ্রাস পায়।
- বন্ধন দৈর্ঘ্য: বন্ধন দৈর্ঘ্য বাড়লে বন্ধন শক্তি কমে যায়।
যৌগগুলোর গঠন এবং বৈশিষ্ট্য 🧪
| যৌগ | কেন্দ্রীয় পরমাণু | বন্ধন দৈর্ঘ্য (আনুমানিক) | তড়িৎ ঋণাত্মকতা | বন্ধন শক্তি (kJ/mol) (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|---|
| NH3 | নাইট্রোজেন (N) | 101.7 pm | 3.04 | 391 |
| PH3 | ফসফরাস (P) | 142 pm | 2.19 | 322 |
| AsH3 | আর্সেনিক (As) | 152 pm | 2.18 | 297 |
| SbH3 | অ্যান্টিমনি (Sb) | 171 pm | 2.05 | 255 |
বন্ধন ক্রমের ব্যাখ্যা 💡
- NH3: নাইট্রোজেনের ছোট আকার এবং উচ্চ তড়িৎ ঋণাত্মকতার কারণে N-H বন্ধন শক্তিশালী হয়।
- PH3: ফসফরাসের আকার নাইট্রোজেনের চেয়ে বড় হওয়ায় এবং তড়িৎ ঋণাত্মকতা কম হওয়ায় P-H বন্ধন দুর্বল হয়।
- AsH3: আর্সেনিকের আকার ফসফরাসের চেয়ে বড় এবং তড়িৎ ঋণাত্মকতা প্রায় সমান হওয়ায় As-H বন্ধন আরও দুর্বল হয়।
- SbH3: অ্যান্টিমনির আকার সবচেয়ে বড় এবং তড়িৎ ঋণাত্মকতা সবচেয়ে কম হওয়ায় Sb-H বন্ধন সবচেয়ে দুর্বল হয়।
এজন্যই বন্ধন ক্রমটি হলো: NH3 > PH3 > AsH3 > SbH3। আকার যত ছোট, বন্ধন তত শক্তিশালী 💪।
সারসংক্ষেপ 📝
পর্যায় সারণীতে গ্রুপের উপর থেকে নিচে নামার সাথে সাথে কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায়, তড়িৎ ঋণাত্মকতা কমে যায় এবং বন্ধন দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়। এই কারণে NH3 এর বন্ধন শক্তি সবথেকে বেশি এবং SbH3 এর বন্ধন শক্তি সবথেকে কম।