কোন তিনটি যৌগ অকটেট মেনে চলে?
অষ্টক নিয়ম এবং তিনটি যৌগ: H2O, CCl4, PCl3
অষ্টক নিয়ম (Octet Rule) অনুযায়ী, পরমাণুগুলো তাদের সর্ববহিস্থ স্তরে আটটি ইলেকট্রন অর্জন করতে চায়, যাতে তারা স্থিতিশীলতা লাভ করতে পারে। এই নিয়ম অনুযায়ী, পরমাণুগুলো ইলেকট্রন শেয়ার করে বা গ্রহণ-বর্জন করে যৌগ গঠন করে। নিচে তিনটি যৌগ - H2O, CCl4, এবং PCl3 - এর অষ্টক নিয়ম মেনে চলার ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
১. পানি (H2O)
💧 পানির অণু গঠনকালে, অক্সিজেনের (O) পরমাণুটি দুটি হাইড্রোজেনের (H) পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার করে। অক্সিজেনের সর্ববহিস্থ স্তরে ৬টি ইলেকট্রন থাকে। প্রতিটি হাইড্রোজেন পরমাণু ১টি করে ইলেকট্রন শেয়ার করার মাধ্যমে অক্সিজেন তার অষ্টক পূরণ করে (৬ + ২ = ৮)। অন্যদিকে, প্রতিটি হাইড্রোজেন পরমাণু ২টি ইলেকট্রন লাভ করে স্থিতিশীল হয়, যা হিলিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাসের অনুরূপ।
- অক্সিজেনের যোজ্যতা: ২
- হাইড্রোজেনের যোজ্যতা: ১
- গঠন প্রক্রিয়া: অক্সিজেন দুটি হাইড্রোজেনের সাথে দুটি সমযোজী বন্ধন (covalent bond) গঠন করে।
২. কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (CCl4)
🧪 কার্বন টেট্রাক্লোরাইড অণুতে, কার্বন (C) পরমাণুটি কেন্দ্রে থাকে এবং চারটি ক্লোরিন (Cl) পরমাণু এর সাথে যুক্ত হয়। কার্বনের সর্ববহিস্থ স্তরে ৪টি ইলেকট্রন থাকে। প্রতিটি ক্লোরিন পরমাণুর সর্ববহিস্থ স্তরে ৭টি ইলেকট্রন থাকে। কার্বন প্রতিটি ক্লোরিন পরমাণুর সাথে ১টি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে ৪টি সমযোজী বন্ধন গঠন করে। এর ফলে কার্বনের অষ্টক পূর্ণ হয় (৪ + ৪ = ৮), এবং প্রতিটি ক্লোরিন পরমাণুরও অষ্টক পূর্ণ হয় (৭ + ১ = ৮)।
- কার্বনের যোজ্যতা: ৪
- ক্লোরিনের যোজ্যতা: ১
- গঠন প্রক্রিয়া: কার্বন চারটি ক্লোরিনের সাথে চারটি সমযোজী বন্ধন গঠন করে।
৩. ফসফরাস ট্রাইক্লোরাইড (PCl3)
⚗️ ফসফরাস ট্রাইক্লোরাইড অণুতে, ফসফরাস (P) পরমাণুটি কেন্দ্রে থাকে এবং তিনটি ক্লোরিন (Cl) পরমাণু এর সাথে যুক্ত হয়। ফসফরাসের সর্ববহিস্থ স্তরে ৫টি ইলেকট্রন থাকে। প্রতিটি ক্লোরিন পরমাণুর সর্ববহিস্থ স্তরে ৭টি ইলেকট্রন থাকে। ফসফরাস প্রতিটি ক্লোরিন পরমাণুর সাথে ১টি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে ৩টি সমযোজী বন্ধন গঠন করে। এর ফলে ফসফরাসের অষ্টক পূর্ণ হয় (৫ + ৩ = ৮), এবং প্রতিটি ক্লোরিন পরমাণুরও অষ্টক পূর্ণ হয় (৭ + ১ = ৮)।
- ফসফরাসের যোজ্যতা: ৩
- ক্লোরিনের যোজ্যতা: ১
- গঠন প্রক্রিয়া: ফসফরাস তিনটি ক্লোরিনের সাথে তিনটি সমযোজী বন্ধন গঠন করে।
অষ্টক নিয়ম এবং ব্যতিক্রম ⚠️
যদিও এই যৌগগুলো অষ্টক নিয়ম অনুসরণ করে, তবে অষ্টক নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, কিছু যৌগ আছে যেখানে কেন্দ্রীয় পরমাণুর অষ্টক অপূর্ণ থাকে (যেমন: BF3), আবার কিছু যৌগে অষ্টকের চেয়ে বেশি ইলেকট্রন থাকে (যেমন: SF6)।
সংক্ষেপে 📊
| যৌগ | কেন্দ্রীয় পরমাণু | যোজ্যতা ইলেকট্রন | অষ্টক পূরণ |
|---|---|---|---|
| H2O | অক্সিজেন (O) | ৬ | ৮ (২টি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার করে) |
| CCl4 | কার্বন (C) | ৪ | ৮ (৪টি ক্লোরিন পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার করে) |
| PCl3 | ফসফরাস (P) | ৫ | ৮ (৩টি ক্লোরিন পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার করে) |
আশা করি, এই ব্যাখ্যা থেকে H2O, CCl4, এবং PCl3 কিভাবে অষ্টক নিয়ম মেনে চলে তা স্পষ্ট হয়েছে। 😊