মূত্রের রঙ হলুদ হওয়ার জন্য দায়ী কোন পদার্থ?
SylaUজীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রবর্জ্য ও নিষ্কাশনরেচনের শারীরবৃত্ত (Topic Practice)SylaU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
A.
ইউরোক্রোম
Explanation:

Another Explanation (5):
মূত্রের রং হলুদ হওয়ার কারণ: ইউরোক্রোম 🧪
মূত্রের স্বাভাবিক রং হালকা হলুদ হওয়ার প্রধান কারণ হলো ইউরোক্রোম নামক একটি রঞ্জক পদার্থ। এটি শরীর কর্তৃক প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। নিচে ইউরোক্রোম এবং মূত্রের রঙের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ইউরোক্রোম কী? 🤔
- ইউরোক্রোম (Urochrome) হলো একটি হলুদ-বর্ণের পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থ।
- এটি বিলিরুবিন (Bilirubin) নামক একটি যৌগ থেকে তৈরি হয়, যা কিনা পুরাতন লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells) ভাঙার ফলে উৎপন্ন হয়।
- ইউরোক্রোমকে ইউরোবিলিন (Urobilin) নামেও ডাকা হয়।
- এই রঞ্জক পদার্থটি মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে নির্গত হয়।
ইউরোক্রোম কিভাবে তৈরি হয়? ⚙️
- আমাদের শরীরে লোহিত রক্তকণিকাগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর ভেঙে যায়।
- এই ভাঙন প্রক্রিয়ার ফলে বিলিরুবিন তৈরি হয়।
- বিলিরুবিন প্রথমে লিভারে (Liver) যায় এবং সেখানে প্রক্রিয়াজাত হয়।
- এরপর এটি ইউরোবিলিনোজেনে (Urobilinogen) রূপান্তরিত হয়।
- ইউরোবিলিনোজেন পরবর্তীতে ইউরোক্রোমে রূপান্তরিত হয়ে মূত্রের রং হলুদ করে।
মূত্রের রঙের উপর প্রভাব 🌈
মূত্রে ইউরোক্রোমের ঘনত্ব (concentration) অনুযায়ী মূত্রের রং বিভিন্ন হতে পারে। যেমন:
- হালকা হলুদ: স্বাভাবিক, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার কারণে ইউরোক্রোমের ঘনত্ব কম থাকে। 💧
- গাঢ় হলুদ: ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হলে ইউরোক্রোমের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। 😥
- অতিরিক্ত গাঢ় হলুদ/কমলা: মারাত্মক ডিহাইড্রেশন অথবা কিছু ঔষধের কারণে হতে পারে। 💊
অন্যান্য কারণ ⚠️
যদিও ইউরোক্রোম মূত্রের স্বাভাবিক হলুদ রঙের জন্য দায়ী, অন্যান্য কিছু কারণেও মূত্রের রঙ পরিবর্তিত হতে পারে:
- খাদ্য: কিছু খাবার, যেমন বিট বা গাজর মূত্রের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। 🥕
- ঔষধ: কিছু ঔষধ, যেমন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, মূত্রের রঙ উজ্জ্বল হলুদ করতে পারে।
- স্বাস্থ্যগত অবস্থা: লিভারের সমস্যা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণেও মূত্রের রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। 🚨
সংক্ষেপে 👇
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| ইউরোক্রোম | মূত্রের হলুদ রঙের জন্য দায়ী রঞ্জক পদার্থ। |
| উৎপত্তি | বিলিরুবিন থেকে তৈরি হয়। |
| রঙের পরিবর্তন | ঘনত্ব বাড়লে রং গাঢ় হয়। |
| অন্যান্য প্রভাবক | খাবার, ঔষধ ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা। |
যদি আপনার মূত্রের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখেন, তবে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। 👍
Option A Explanation:
- ইউরোক্রোম: এটি একটি পিগমেন্ট যা ইউরিনের রঙের জন্য দায়ি।
- এটি মূলত হেমোগ্লোবিনের ভাঙা অংশ, যা রক্ত থেকে ইউরিনে প্রবেশ করে এবং তার রঙ নির্ধারণ করে।
- ইউরোক্রোমের উপস্থিতি ইউরিনের স্বাভাবিক রঙের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণত এটি খড় বা হালকা বাদামী রঙের হয়ে থাকে।
- ইউরোক্রোমের মাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে ইউরিনের রঙের তফাৎ দেখা যায়, যেমন বেশি থাকলে ইউরিন গাঢ় হয়ে যায়।
Option B Explanation:
- বিলিরুবিন: বিলিরুবিন একটি রঙিন পিগমেন্ট যা লোহিত রক্তকণিকার ভাঙনের ফলে তৈরি হয়। এটি মূলত যকৃতের মাধ্যমে প্রসেস হয় এবং প্রস্রাব বা মলমূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
- প্রভাব: বিলিরুবিন রক্তের জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় কোনও সরাসরি প্রভাব ফেলে না। এটি মূলত রঙিন পিগমেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং রক্তের গুণমান বা গড়ন পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- সংক্ষেপ: তাই, বিলিরুবিনের রক্ত জমাট বাঁধার বা রক্তের গঠন বা গতি পরিবর্তনে কোনও প্রভাব নেই।
Option C Explanation:
- অ্যামোনিয়া: অ্যামোনিয়া হলো এক ধরণের ক্ষারমূলক যৌগ যা সাধারণত মূত্রে পাওয়া যায়।
- অ্যামোনিয়া বৃদ্ধি পেলে এটি মূত্রের পিএইচ বাড়ায় এবং রঙের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
- অ্যামোনিয়া অতিরিক্ত হলে মূত্রের রঙ খড়ের রঙের মতো হয়ে যেতে পারে কারণ এটি মূত্রের অম্লতা বা ক্ষারত্বের পরিবর্তন ঘটায়।
Option D Explanation:
- ক্রিয়েটিনিন:
- একটি প্রকৃতিতে পাওয়া যৌগিক যৌগ যা মূলত পেশির মধ্যে উৎপন্ন হয়।
- এটি ক্রিয়েটিন থেকে তৈরি হয়, যা পেশির শক্তি সংরক্ষণে সহায়ক।
- প্রধানত কিডনি দ্বারা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
- ইউরিয়া বা অন্যান্য নাইট্রোজেন ধারণকারী পদার্থের থেকে আলাদা, কারণ এটি পেশির কার্যকলাপের দ্বারা নির্গত হয়।
- রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কিডনি কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।