নিচের কোনটি বাফার দ্রবণ?
CH₃COOH + CH₃COONa এর ক্ষেত্রে সাম্যাবস্থায় দ্রবণে H⁺, CH₃COO⁻, Na⁺ উপস্থিত থাকে। এক্ষেত্রে বাফার দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন যোগ করা হলে CH₃COOH উৎপন্ন হয়। এটি একটি মৃদু এসিড হওয়ায় বিক্রিয়ায় উৎপন্ন এসিড আয়নিত হয় না ও পি এইচ মানের কোনো পরিবর্তন হয় না। অন্যদিকে, বাফার দ্রবণটিতে ক্ষারক যোগ করা হলে যে হাইড্রোক্সিল আয়ন উৎপন্ন হয় তা হাইড্রোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে পানি উৎপন্ন করে। ফলে দ্রবণের পিএইচ পরিবর্তন হয় না।
বাফার দ্রবণ 🧪
বাফার দ্রবণ হলো এমন একটি দ্রবণ যা সামান্য পরিমাণ অ্যাসিড (H+) বা ক্ষার (OH-) যোগ করার পরেও pH এর পরিবর্তন প্রতিরোধ করে। এটি দুর্বল অ্যাসিড ও তার অনুবন্ধী ক্ষার অথবা দুর্বল ক্ষার ও তার অনুবন্ধী অ্যাসিডের মিশ্রণ।
CH3COOH & CH3COONa কেন বাফার দ্রবণ? 🤔
- CH3COOH (অ্যাসিটিক অ্যাসিড): এটি একটি দুর্বল অ্যাসিড। দুর্বল অ্যাসিড হওয়ায় এটি সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয় না।
- CH3COONa (সোডিয়াম অ্যাসিটেট): এটি অ্যাসিটিক অ্যাসিডের অনুবন্ধী ক্ষার। এটি একটি লবণ যা পানিতে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে অ্যাসিটেট আয়ন (CH3COO-) উৎপন্ন করে।
এই দুটি উপাদান একসাথে দ্রবণে একটি সাম্যাবস্থা তৈরি করে, যা pH এর পরিবর্তন প্রতিরোধ করে।
বাফার দ্রবণ হিসেবে এদের কার্যকারিতা ⚙️
- অ্যাসিড যোগ করলে: যদি দ্রবণে অ্যাসিড (H+) যোগ করা হয়, তবে অ্যাসিটেট আয়ন (CH3COO-) সেই অ্যাসিডের সাথে যুক্ত হয়ে অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH) তৈরি করে। ফলে, H+ এর পরিমাণ কমে যায় এবং pH এর তেমন পরিবর্তন হয় না।
- ক্ষার যোগ করলে: যদি দ্রবণে ক্ষার (OH-) যোগ করা হয়, তবে অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH) ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিটেট আয়ন (CH3COO-) এবং পানি তৈরি করে। ফলে, OH- এর পরিমাণ কমে যায় এবং pH এর তেমন পরিবর্তন হয় না।
বিক্রিয়া ⚗️
| যোগ করা উপাদান | বিক্রিয়া | ফলাফল |
|---|---|---|
| অ্যাসিড (H+) | CH3COO- + H+ ⇌ CH3COOH | pH স্থিতিশীল থাকে 😊 |
| ক্ষার (OH-) | CH3COOH + OH- ⇌ CH3COO- + H2O | pH স্থিতিশীল থাকে 😄 |
বাফার দ্রবণের ব্যবহার 🧰
- জৈব রসায়নে
- ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে 💊
- রক্তের pH নিয়ন্ত্রণে (শারীরবৃত্তীয় বাফার) 🩸
- শিল্প কারখানায়
- কৃষি ক্ষেত্রে 🌾
সুতরাং, CH3COOH & CH3COONa একটি উৎকৃষ্ট বাফার দ্রবণ। 🎉