নিচের কোনটিতে মিয়োসিস ঘটে?
সঠিক উত্তরঃ
C.
জনন মাতৃ কোষ
Another Explanation (5): মিয়োসিস ঘটে যখন জেনেটিকালি স্বতন্ত্র বা অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজম থাকা কোষ তৈরি হয়। এটি মূলত যৌন প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি গর্ভধারণের সময় ডিএনএর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। নিচের কোনটিতে মিয়োসিস ঘটে তা বোঝার জন্য, চলুন দেখি:
- জনন মাতৃ কোষ: এই কোষগুলো মূলত ডিপ্লয়েড (2n), অর্থাৎ দ্বিগুণ সংখ্যক ক্রোমোজম ধারণ করে। যখন এই কোষগুলো থেকে গুণাণু বা শুক্রাণু তৈরি হয়, তখন মিয়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্ধেক ক্রোমোজম সংখ্যা সম্পন্ন কোষ তৈরি হয়। এটাই মিয়োসিসের মূল কার্যক্রম।
- অন্য কোষগুলো যেমন দেহের সাধারণ কোষ (স্নায়ু কোষ, পেশী কোষ ইত্যাদি): এই কোষগুলো সাধারণত ডিপ্লয়েড হয় এবং মিয়োসিস এখানে ঘটে না।
Option A Explanation:
- জনন কোষ: এই কোষগুলো জীবের প্রজনন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এগুলি মূলত মহিলাদের ডিম্বাণু কোষ বা পুরুষের শুক্রাণু কোষ হিসেবে পরিচিত।
- প্রজনন কোষ সাধারণত গুণগত ও সংখ্যাগত দিক থেকে অন্যান্য কোষ থেকে আলাদা হয় এবং এগুলি ডিম্বাশয় বা অণ্ডাশয়ে উৎপন্ন হয়।
- এই কোষগুলি বিভাজিত হয়ে জীবের নতুন সত্তা সৃষ্টি করে এবং প্রজননের মাধ্যমে প্রেরিত হয়।
Option B Explanation:
- দেহকোষ: দেহের সাধারণ কোষগুলো, যেমন চামড়া, পেশী, রক্তের কোষ ইত্যাদি, এই কোষগুলোর মধ্যে মিয়োসিস ঘটে।
- মিয়োসিসের মাধ্যমে দেহকোষের সংখ্যা বৃদ্ধি হয় এবং কোষের গঠন ও জেনেটিক তথ্যের পরিবর্তন ঘটে না।
- এটি মূলত দেহের বৃদ্ধির জন্য, ক্ষত সারানোর জন্য, ও কোষের পুনরুত্পাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
Option C Explanation:
জনন মাতৃ কোষের ব্যাখ্যা
- সংজ্ঞা: জনন মাতৃ কোষ হলো সেই কোষ যা মানবদেহে গর্ভাশয়ে গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত হয়।
- অর্থ: এটি মূলত ডিম্বাণু বা ওভাম (Ovum) হিসেবে পরিচিত।
- প্রক্রিয়া: এই কোষটি মাইওসিসের মাধ্যমে বিভাজিত হয় এবং পরবর্তীতে পরিপক্ব হলে পরাগরেণুর সাথে মিলিত হয়ে গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত হয়।
- প্রতীকী চিহ্ন: সাধারণত এটি নারীর অণ্ডাশয় বা ডিম্বাশয়ে উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনীয়তা: গর্ভাবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ডিম্বাণু প্রস্তুত ও রক্ষণের জন্য এই কোষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
Option D Explanation:
- পরাগরেণু: পরাগরেণু হলো একটি শুক্রাণু কোষ যা পরাগদণ্ড বা পরাগকোষের মধ্যে থাকে।
- এটি ফুলের পরাগের অংশ, যা পরাগগুচ্ছের অংশ হিসেবে গর্ভাশয়ে পৌঁছানোর জন্য তৈরি হয়।
- পরাগরেণু মূলত মিয়োসিসের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়, যা শুক্রাণু কোষের জেনেটিক উপাদানকে দ্বিগুণ করে।
- মিয়োসিসের ফলে পরাগরেণুতে জেনেটিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায় এবং এটি পরবর্তীতে অণ্ডকোষে বা ডিম্বাণুতে নিষেকের জন্য প্রস্তুত হয়।