বিড়ালাক্ষী' কোন সমাস?
বিড়ালাক্ষী' কোন সমাস?
- তৎপুরুষ (Incorrect)
- অব্যয়ীভাব (Incorrect)
- বহুব্রীহি (Correct)
- দ্বিগু (Incorrect)
ব্যাখ্যা:
সঠিক উত্তর হলো C. বহুব্রীহি।
সমাস
সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন বা একত্রীকরণ। যখন দুই বা ততোধিক পদ একত্রিত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করে, তখন তাকে সমাস বলে। বাংলা ব্যাকরণে সমাস প্রধানত ছয় প্রকার:
- দ্বিগু সমাস
- কর্মধারয় সমাস
- তৎপুরুষ সমাস
- দ্বন্দ্ব সমাস
- বহুব্রীহি সমাস
- অব্যয়ীভাব সমাস
বিড়ালাক্ষী শব্দের বিশ্লেষণ
'বিড়ালাক্ষী' শব্দটি দুটি পদের সমন্বয়ে গঠিত:
- বিড়াল (বিশেষ্য)
- অক্ষী (চোখ, বিশেষ্য)
এই দুটি পদ মিলিত হয়ে 'বিড়ালাক্ষী' শব্দটি গঠিত হয়েছে, যার অর্থ 'বিড়ালের মতো চোখবিশিষ্ট নারী'।
বহুব্রীহি সমাস
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর অর্থ প্রধান না হয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। 'বিড়ালাক্ষী' শব্দটি 'বিড়ালের মতো চোখবিশিষ্ট নারী' - এই তৃতীয় অর্থটি বোঝাচ্ছে। এখানে 'বিড়াল' বা 'চোখ' কোনোটির অর্থই প্রধান নয়, বরং একটি নারীকে বোঝানো হচ্ছে যার চোখ বিড়ালের মতো সুন্দর।
অন্যান্য বিকল্প
- তৎপুরুষ সমাস: যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 'বিড়ালাক্ষী' শব্দটিতে এমন বৈশিষ্ট্য নেই।
- অব্যয়ীভাব সমাস: যে সমাসে পূর্বপদটি অব্যয় এবং তার অর্থ প্রধান হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 'বিড়ালাক্ষী' শব্দটিতে কোনো অব্যয় পদ নেই।
- দ্বিগু সমাস: যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বিশেষ্য পদ যুক্ত হয়ে সমাস গঠিত হয় এবং সমাসবদ্ধ পদটি সমষ্টি বা সমাহার বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। 'বিড়ালাক্ষী' শব্দটিতে কোনো সংখ্যাবাচক শব্দ নেই।
সিদ্ধান্ত
যেহেতু 'বিড়ালাক্ষী' শব্দটি 'বিড়ালের মতো চোখবিশিষ্ট নারী' - এই তৃতীয় অর্থটি বোঝাচ্ছে এবং সমস্যমান পদগুলোর অর্থ প্রধান নয়, তাই এটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
সঠিক উত্তর: C. বহুব্রীহি