অরীয় প্রতিসাম্যতা দেখা যায়-
অরীয় প্রতিসাম্যতা: নিডারিয়া পর্ব 🌊
অরীয় প্রতিসাম্যতা (Radial Symmetry) একটি বিশেষ ধরনের শারীরিক গঠন যা কিছু জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়। এই প্রতিসাম্যতায়, প্রাণীর শরীর একটি কেন্দ্রীয় অক্ষের চারপাশে সমানভাবে সজ্জিত থাকে, অনেকটা চাকার মতো। নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বের প্রাণীদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অরীয় প্রতিসাম্যতা কী? 🤔
- অরীয় প্রতিসাম্যতা বলতে বোঝায় শরীরের গঠন এমন যে, এটিকে কেন্দ্র বরাবর একাধিকবার ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ প্রায় একই রকম দেখায়।
- এই ধরনের প্রতিসাম্যে কোনো নির্দিষ্ট পাশ (ডান বা বাম) থাকে না।
- উদাহরণ: একটি পিৎজা 🍕 কে যদি আপনি মাঝখান থেকে কাটেন, প্রতিটি স্লাইস দেখতে প্রায় একই রকম হবে।
নিডারিয়া পর্ব 🐠
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীরা মূলত জলবাসী। এদের মধ্যে জেলিফিশ, প্রবাল, হাইড্রা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এদের অরীয় প্রতিসাম্যতা নিম্নলিখিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ:
- খাবার গ্রহণ: অরীয় প্রতিসাম্যতা তাদের চারপাশ থেকে আসা খাবার গ্রহণে সাহায্য করে। শিকার যেকোনো দিক থেকে এলেও তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
- সুরক্ষা: এটি তাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে সাহায্য করে।
- জীবনযাত্রা: নিডারিয়ানরা সাধারণত পানিতে স্থির থাকে অথবা খুব ধীরে চলাচল করে, তাই অরীয় প্রতিসাম্যতা তাদের জন্য সুবিধাজনক।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের অরীয় প্রতিসাম্যের বৈশিষ্ট্য 🌟
| বৈশিষ্ট্য | বর্ণনা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| শারীরিক গঠন | দেহের অঙ্গগুলি কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে সাজানো থাকে। | জেলিফিশের 傘 (umbrella) আকৃতির গঠন। |
| সংবেদী অঙ্গ | চারপাশে সমানভাবে ছড়ানো থাকে, যা যেকোনো দিক থেকে আসা উদ্দীপনা গ্রহণ করতে পারে। | হাইড্রার কর্ষিকা (tentacles)। |
| চলন | সাধারণত পানিতে ভেসে থাকা অথবা খুব ধীরে চলাফেরা করা। | প্রবালের পলিপ (polyp)। |
অরীয় প্রতিসাম্যের সুবিধা 👍 ও অসুবিধা 👎
- 👍 সুবিধা:
- চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা রাখতে সুবিধা।
- খাবার এবং বিপদ যেকোনো দিক থেকে এলেও মোকাবিলা করতে সুবিধা।
- 👎 অসুবিধা:
- দ্রুত এবং নির্দিষ্ট দিকে চলাচল করতে অসুবিধা।
- জটিল স্নায়ুতন্ত্রের অভাব।
আরও কিছু তথ্য 💡
অরীয় প্রতিসাম্যতা শুধুমাত্র নিডারিয়া পর্বেই নয়, একাইনোডার্মাটা (Echinodermata) পর্বের প্রাণীদের (যেমন: তারা মাছ) মধ্যেও দেখা যায়, তবে তাদের ক্ষেত্রে এটি পঞ্চ-অরীয় প্রতিসাম্যতা (Pentaradial Symmetry) নামে পরিচিত।
আশা করি, অরীয় প্রতিসাম্যতা এবং নিডারিয়া পর্ব সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে পেরেছি। ধন্যবাদ! 😊
- Ctenophora: এই পর্বের প্রাণিরা সাধারণত "কোডোফোরা" নামেও পরিচিত।
- প্রজাতির বৈশিষ্ট্য: এরা মূলত সামুদ্রিক, এবং তাদের দেহের গঠন অতি সহজ।
- অঙ্গপ্রত্যঙ্গ: এদের দেহে অনেকগুলি রোয়িং অ্যাম্বুলা বা "কেট" (ciliary plates) থাকে যা তারা দৌড়ানোর জন্য ব্যবহার করে।
- সংঘটিত গঠন: এরা সাধারণত অ্যাসিলোমেট নয় কারণ এদের দেহে অ্যাসিল বা পেশী বা সংযোগকারী টিস্যুর অভাব থাকে।
- উপসংহার: তাই, Ctenophora পর্বের প্রাণিরা অ্যাসিলোমেট নয়।
- Gastropoda হলো একটি শ্রেণী (Class) যা মূলত বিভিন্ন প্রকারের শামুক, লালচে, এবং অন্যান্য সামুদ্রিক ও স্থলজ জীবকে অন্তর্ভুক্ত করে।
- এটি একপ্রকার অশ্চর্যপ্রদ চেতনাযুক্ত প্রাণী, যা সাধারণত গ্যাসট্রোডোডিয়াম (stomach foot) দ্বারা চালিত হয়।
- অরীয় প্রতিসাম্যতা (bilateral symmetry) দেখা যায়, অর্থাৎ, এদের দেহ দুই সমান অংশে বিভক্ত হয় এক কেন্দ্রীয় অক্ষের চারপাশে।
- অর্থাৎ, এগুলোর দেহের দুটি অর্ধেকই একে অপরের সমান এবং বিপরীত দিকের মতো দেখায়।
- উপরন্তু, গ্যাস্ট্রোপোডা প্রাণীদের দেহের গঠন সাধারণত শিরা থেকে পা পর্যন্ত সমান্তরাল হয় এবং এদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যথাযথভাবে সাজানো থাকে।
- Porifera (নমুনা: স্পঞ্জ প্রজাতি):
- প্রাণীর শ্রেণি: সরল ও অঙ্গবিহীন প্রাণী
- সংখ্যা: প্রায় ৫,০০০ প্রজাতি
- বৈশিষ্ট্য:
- সাধারণত জলাশয়ে বাস করে
- শরীরের গঠন: স্পঞ্জের মতো খোলে ভর্তি কাঠামো
- অঙ্গপ্রতিমা বা জৈবিক উন্নয়নপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না
- লাইফ সাইকেল: সাধারণত স্পঞ্জের জীবনচক্রে লার্ভা ধাপ হয়, তবে Amphiblastula নামে বিশেষ লার্ভা পাওয়া যায় না
- Cnidaria: Cnidaria পর্বের প্রাণীদের মধ্যে সাধারণত Amphiblastula লার্ভা পাওয়া যায় না।
- এরা মূলত জলজ প্রাণী, যেমন অমেরুদণ্ডী, যা সাধারণত জেলি মাছ বা অ্যাম্বুলারিয়া প্রজাতির মতো স্রোতপ্রবাহে জীবিত থাকে।
- Cnidaria এর লার্ভা সাধারণত প্লানুলা বা ট্র???যাফোজোইয়া ধরণের হয়, যা সাধারণত Amphiblastula নয়।