প্রাণিভূগোলবিদ ওয়ালেস এর মতানুসারে দক্ষিণ আমেরিকার দেশসমূহকে যে প্রাণিভূগোলিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে-

প্রাণিভূগোলবিদ ওয়ালেসের মতানুসারে দক্ষিণ আমেরিকা: নিউট্রপিক্যাল অঞ্চল 🐒🌴
ওয়ালেস, একজন বিখ্যাত প্রাণিভূগোলবিদ, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলকে প্রাণিকুলের বৈশিষ্ট্য এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি প্রাণিভূগোলিক অঞ্চলে ভাগ করেছেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশসমূহ নিউট্রপিক্যাল অঞ্চল-এর অন্তর্ভুক্ত। 🤔
নিউট্রপিক্যাল অঞ্চল কী? 🧐
নিউট্রপিক্যাল অঞ্চল হলো পৃথিবীর আটটি প্রধান প্রাণিভূগোলিক অঞ্চলের মধ্যে একটি। এই অঞ্চলটি মূলত আমেরিকা মহাদেশের ক্রান্তীয় অঞ্চল এবং উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল নিয়ে গঠিত। নিউট্রপিক্যাল অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে যা অন্য কোনো অঞ্চলে দেখা যায় না। 🐸🦋
ওয়ালেসের শ্রেণীবিভাগ 🗺️
ওয়ালেসের এই শ্রেণীবিভাগ জীববৈচিত্র্য এবং প্রাণিকুলের বিস্তৃতি বুঝতে সহায়ক। নিচে একটি তালিকা এবং টেবিলের মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হলো:
ওয়ালেসের প্রস্তাবিত প্রধান প্রাণিভূগোলিক অঞ্চলসমূহ:
- প্যালিআর্কটিক অঞ্চল (Palaearctic region)
- নিয়ার্কটিক অঞ্চল (Nearctic region)
- আফ্রোট্রপিক্যাল অঞ্চল (Afrotropical region)
- ইন্দোমালয় অঞ্চল (Indomalayan region)
- অস্ট্রেলীয় অঞ্চল (Australasian region)
- ওশেনিয়া অঞ্চল (Oceania region)
- নিউট্রপিক্যাল অঞ্চল (Neotropical region) ✅
- অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল (Antarctic region)
নিউট্রপিক্যাল অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
| বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
|---|---|
| উচ্চ জীববৈচিত্র্য 🌿 | অ্যামাজন রেইনফরেস্ট, যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট |
| একাধিক স্থানীয় প্রজাতির উপস্থিতি 🦜 | গোল্ডেন লায়ন ট্যামারিন, ক্যাপিবারা |
| বিভিন্ন প্রকার পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল 🐍 | অ্যানাকোন্ডা, জাগুয়ার, আরমাডিলো |
| নদী এবং জলাভূমির প্রাচুর্য 💧 | অ্যামাজন নদী, ওরিনোকো নদী |
দক্ষিণ আমেরিকার দেশসমূহ কেন নিউট্রপিক্যাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত? 🌎
দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে নিউট্রপিক্যাল অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। 🤔 উদাহরণস্বরূপ:
- ব্রাজিল: পৃথিবীর বৃহত্তম রেইনফরেস্ট অ্যামাজনের একটি বড় অংশ ব্রাজিলে অবস্থিত।
- কলম্বিয়া: এখানে প্রচুর পরিমাণে পাখি, উভচর এবং সরীসৃপ পাওয়া যায়।
- পেরু: আন্দিজ পর্বতমালা এবং অ্যামাজন বেসিনের সমন্বয়ে গঠিত পেরুতে বিভিন্ন প্রকার স্থানীয় প্রজাতি দেখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রজাতি 🦁
নিউট্রপিক্যাল অঞ্চলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়, যা এই অঞ্চলকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে:
- জাগুয়ার (Jaguar) 🐆
- অ্যানাকোন্ডা (Anaconda) 🐍
- ক্যাপিবারা (Capybara) 💧
- গোল্ডেন লায়ন ট্যামারিন (Golden Lion Tamarin) 🐒
- ম্যাকাও (Macaw) 🦜
ওয়ালেসের এই ধারণা প্রাণিভূগোলের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। নিউট্রপিক্যাল অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। 🤝🌍
- নিআর্কটিক অঞ্চল: এই অঞ্চলটি পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের উপরের অংশে অবস্থিত, যেখানে ঠাণ্ডা জলবায়ু এবং বরফের আধিক্য রয়েছে।
- প্রাণী ও উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্য এই অঞ্চলে বেশ বিশেষ এবং বিভিন্ন ধরনের ঠাণ্ডা পরিবেশের জন্য অভিযোজিত।
- উদাহরণস্বরূপ, এই অঞ্চলে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের মাছ, পেঙ্গুইন, এবং অন্যান্য ঠাণ্ডা জলবায়ু উপযোগী প্রাণী।
- নিউট্রপিক্যাল অঞ্চল: এটি পৃথিবীর উষ্ণ এবং আর্দ্র অঞ্চলের মধ্যে একটি বিভাগ, যা মূলত উষ্ণমণ্ডলীয় ও উপ উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো:
- উচ্চ তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতা
- বহু ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান
- শীতের তীব্রতা কম, বর্ষাকাল সাধারণত বেশি
- উপযুক্ত উদাহরণ: মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, কিছু অংশ ব্রাজিল ও ট্রপিক্যাল আমাজন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত
- প্যালিআর্কটিক অঞ্চল: এই অঞ্চলের মধ্যে মূলত উত্তর আমেরিকা এবং উত্তর-পশ্চিমে আ্যশিয়ার কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- উচ্চ পরিমাণে শীতল জলবায়ু এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়া পাওয়া যায়।
- বৃক্ষরোপণ কম এবং অরণ্যপ্রধান অঞ্চল এর বৈশিষ্ট্য।
- প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজাতি সমৃদ্ধ, তবে কিছু অংশে কৃত্রিমভাবে পরিবর্তিত।
- প্রাণিভূগোলিক দৃষ্টিতে, এই অঞ্চলটি উত্তর আমেরিকার প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- অবস্থান: ওরিয়েন্টাল অঞ্চল সাধারণত এশিয়া মহাদেশের পূর্ব অংশে বিস্তৃত।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের উষ্ণমণ্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় প্রজাতি দেখা যায়।
- প্রাণী জীববৈচিত্র্য: এই অঞ্চলে নানা ধরনের স্তন্যপায়ী, পাখি, মাছ ও পতঙ্গের প্রজাতি পাওয়া যায়।
- উদাহরণ: ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশগুলো এই অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্রাকৃতিক পরিবেশ: উষ্ণ, আর্দ্র আবহাওয়া ও বিভিন্ন ধরনের অরণ্য এই অঞ্চলের মূল বৈশিষ্ট্য।