মানবদেহের পানিসাম্যতা একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বজায় থাকে। এ প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকের মুখ্য ভূমিকা পালনকারী রাসায়নিক পদার্থটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য- নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii


মানবদেহে পানিসাম্যতা রক্ষায় ADH এর ভূমিকা 💧
মানবদেহে পানিসাম্যতা একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি একটি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। নিচে এই রাসায়নিক পদার্থটির (ADH) ভূমিকা আলোচনা করা হলো:
ADH (Anti-Diuretic Hormone)
ADH হলো পানিসাম্যতা রক্ষাকারী মুখ্য হরমোন। এটি মূলত নিম্নলিখিত কাজগুলো করে:
- সংগ্রাহক নালীর ভেদ্যতা নিয়ন্ত্রণ: ADH হরমোন সংগ্রাহক নালীর ভেদ্যতা কম-বেশি করার মাধ্যমে মূত্রের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। যখন শরীরে পানির অভাব হয়, তখন ADH নিঃসৃত হয়ে সংগ্রাহক নালীর ভেদ্যতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে বেশি পানি শোষিত হয়ে শরীরে ফিরে আসে এবং মূত্রের পরিমাণ কমে যায়। 🔄
- বৃক???কীয় নালিকার উপর প্রভাব: ADH বৃক্কীয় নালিকার দূরবর্তী অংশে পানির পুনঃশোষণে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরে পানির পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। ⚖️
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: ADH রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করার মাধ্যমে রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে। ⬆️
ADH নিঃসরণের প্রক্রিয়া
ADH মূলত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। এর নিঃসরণ নিম্নলিখিত উপায়ে নিয়ন্ত্রিত হয়:
- পানির অভাব: যখন শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়, তখন মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস Osmoreceptor-এর মাধ্যমে বিষয়টি বুঝতে পারে এবং পিটুইটারি গ্রন্থিকে ADH নিঃসরণের সংকেত দেয়। 🧠
- রক্তচাপ কমে গেলে: রক্তচাপ কমে গেলে Baroreceptor সক্রিয় হয়ে ADH নিঃসরণে সাহায্য করে। ❤️
ADH এর অভাবে সৃষ্ট সমস্যা ⚠️
ADH এর অভাব হলে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (Diabetes Insipidus) নামক রোগ হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে মূত্র ত্যাগ করে এবং সবসময় তৃষ্ণার্ত থাকে।
| বিষয় | ADH এর প্রভাব |
|---|---|
| পানির পরিমাণ কম থাকলে | ADH নিঃসৃত হয়, মূত্রের পরিমাণ কমে এবং পানি সংরক্ষিত হয়। ⬇️💧 |
| পানির পরিমাণ বেশি থাকলে | ADH নিঃসরণ কমে যায়, মূত্রের পরিমাণ বাড়ে এবং অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ⬆️💧 |
সুতরাং, ADH মানবদেহের পানিসাম্যতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 👍
আরও জানতে ভিজিট করুন: উইকিপিডিয়া
আর্টিকেলের উৎস : বায়োলজি বই 📚
```