একাধিক হাল্কা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত ভারী নিউক্লিয়াস গঠন প্রক্রিয়াকে কি বলা হয়?
CUUnit-Aপদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রপরমাণুর মডেল ও নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানভর ত্রুটি, বন্ধন শক্তি ও নিউক্লীয় বিক্রিয়া (Topic Practice)CU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
A.
ফিউশন
Explanation:

Another Explanation (5): ```html
ফিউশন: হালকা নিউক্লিয়াসের একত্রীকরণ ⚛️
একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত ভারী নিউক্লিয়াস গঠনের প্রক্রিয়াকে ফিউশন বা পারমাণবিক সংযোজন বলা হয়। এটি একটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া যেখানে দুই বা ততোধিক পরমাণুর নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি নতুন নিউক্লিয়াস গঠন করে। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণে শক্তি নির্গত হয়। 💥
ফিউশন প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- হালকা নিউক্লিয়াসের সংযোজন: ফিউশন বিক্রিয়ায় সাধারণত হাইড্রোজেন (H) বা এর আইসোটোপ (যেমন: ডিউটেরিয়াম deuterium (²H or D) ও ট্রিটিয়াম tritium (³H or T) ) এর মতো হালকা নিউক্লিয়াসগুলো অংশগ্রহণ করে।
- বিপুল শক্তি নির্গমন: ফিউশন বিক্রিয়ায় যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়, তা অন্য যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে অনেক বেশি। 🔥
- উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ: ফিউশন ঘটানোর জন্য অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা (প্রায় 10^7 - 10^8 কেলভিন) 🌡️ এবং চাপের প্রয়োজন হয়। এই চরম অবস্থা নিউক্লিয়াসগুলোকে একে অপরের খুব কাছে আসতে এবং একত্রিত হতে সাহায্য করে।
- ভর ত্রুটি (Mass Defect): ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নিউক্লিয়াসের ভর, বিক্রিয়াকারী নিউক্লিয়াসগুলোর ভরের সমষ্টি থেকে সামান্য কম হয়। এই ভর পার্থক্য আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র E=mc² অনুযায়ী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ফিউশনের উদাহরণ:
- সূর্যের অভ্যন্তরে ফিউশন: সূর্য এবং অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির প্রধান উৎস হলো ফিউশন। এখানে হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো ফিউশনের মাধ্যমে হিলিয়াম পরমাণুতে রূপান্তরিত হয় এবং বিপুল পরিমাণে আলো ও তাপ উৎপন্ন করে। ☀️
- হাইড্রোজেন বোমা: হাইড্রোজেন বোমা ফিউশন বিক্রিয়ার একটি ধ্বংসাত্মক উদাহরণ। এখানে ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়ামের ফিউশন ঘটানো হয়, যা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়। 💣
- পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লি: বিজ্ঞানীরা বর্তমানে নিয়ন্ত্রিত ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য বিভিন্ন ফিউশন চুল্লি (যেমন: Tokamak) তৈরি করছেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিবেশ-বান্ধব এবং অফুরন্ত শক্তির উৎস তৈরি করা সম্ভব। ⚡
ফিউশন বিক্রিয়ার সুবিধা: ✅
- অফুরন্ত জ্বালানি: ডিউটেরিয়াম সমুদ্রের পানিতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান, যা ফিউশন চুল্লির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
- পরিবেশ-বান্ধব: ফিউশন বিক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় না এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য খুবই কম উৎপন্ন হয়।
- নিরাপদ: ফিউশন চুল্লিতে চেইন রিঅ্যাকশন ঘটার সম্ভাবনা নেই, তাই এটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।
ফিউশন বিক্রিয়ার অসুবিধা: ❌
- উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ: ফিউশন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও চাপ তৈরি করা এবং তা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন।
- প্রযুক্তিগত জটিলতা: ফিউশন চুল্লি তৈরি ও পরিচালনা করা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল।
- দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা: ফিউশন প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার উপযোগী হতে অনেক সময় লাগতে পারে।
ফিউশন বিক্রিয়ার একটি টেবিল:
| বৈশিষ্ট্য | বর্ণনা |
|---|---|
| বিক্রিয়া | হালকা নিউক্লিয়াসের সংযোজন |
| শক্তি উৎপাদন | বিপুল পরিমাণে |
| জ্বালানি | ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম |
| পরিবেশগত প্রভাব | কম তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নেই |
| বর্তমান অবস্থা | গবেষণাধীন |
ফিউশন ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস হতে পারে। এই বিষয়ে আরও গবেষণা এবং উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। 🌍🌱
```