স্পর্শকোণ 120° হলে কৈশিক নলে তরল -

কৈশিক নলে তরলের আচরণ: স্পর্শকোণ 120° 💧
যখন কোনো তরলের স্পর্শকোণ 120° হয়, তখন কৈশিক নলে তরল কী ঘটবে, তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
স্পর্শকোণ (Contact Angle) 🤔
স্পর্শকোণ হলো কোনো তরল এবং কঠিন পদার্থের মধ্যে স্পর্শতলে অঙ্কিত স্পর্শক এবং কঠিন পদার্থের পৃষ্ঠের মধ্যে উৎপন্ন কোণ। এটি তরল এবং কঠিন পদার্থের মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের একটি নির্দেশক।
- 0° < স্পর্শকোণ < 90°: তরল ভেজাচ্ছে (Wetting)। তরলের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বলের চেয়ে কঠিনের সাথে আকর্ষণ বল বেশি।
- স্পর্শকোণ = 90°: তরল ভেজাচ্ছেও না, আবার ভেজা থেকে দূরেও থাকছে না।
- 90° < স্পর্শকোণ ≤ 180°: তরল ভেজাচ্ছে না (Non-Wetting)। তরলের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বল কঠিনের সাথে আকর্ষণ বলের চেয়ে বেশি।
120° স্পর্শকোণের তাৎপর্য 😮
120° স্পর্শকোণ নির্দেশ করে যে তরলটি নলকে ভেজাচ্ছে না। এর মানে হলো তরলের অণুগুলোর মধ্যে নিজেদের আকর্ষণ বল (সঞ্জন বল/Cohesive force) , নলের উপাদানের সাথে আকর্ষণ বলের (আসঞ্জন বল/ Adhesive force) চেয়ে বেশি।
কৈশিক নলে তরলের আচরণ 📉
যেহেতু তরলটি নলকে ভেজাচ্ছে না, তাই কৈশিক নলে তরল উপরে না উঠে নিচে নেমে যাবে। এর কারণ হলো:
- আসঞ্জন বলের চেয়ে সঞ্জন বল বেশি।
- তরলটি নলের দেয়ালের সাথে লেগে থাকার চেয়ে নিজের অণুগুলোর সাথে থাকতে বেশি পছন্দ করে।
- ফলে, তরলের একটি অবতল মেনিস্কাস (Concave Meniscus) তৈরি হয় এবং তরল নিচে নেমে যায়।
কৈশিক ক্রিয়া (Capillary Action) ⚗️
কৈশিক ক্রিয়া হলো সরু নলের মধ্যে তরলের উত্থান বা পতন। এটি তরলের পৃষ্ঠটান, সান্দ্রতা এবং নলের ব্যাসের উপর নির্ভর করে।
| স্পর্শকোণ | কৈশিক ক্রিয়া | মেনিস্কাসের আকৃতি |
|---|---|---|
| 0° < স্পর্শকোণ < 90° | উত্থান | উত্তল (Concave) ⬆️ |
| 90° < স্পর্শকোণ ≤ 180° | পতন | অবতল (Convex) ⬇️ |
বাস্তব উদাহরণ 💡
- পারদ (Mercury) : কাঁচের নলে পারদ নিচে নেমে যায়, কারণ এর স্পর্শকোণ 90° এর বেশি।
- পানির ক্ষেত্রে সাধারণত স্পর্শ কোণ কম তাই পানি উপরে উঠে।
সুতরাং, স্পর্শকোণ 120° হলে কৈশিক নলে তরল নিচে নামবে। 🧪