ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হেপাটাইটিস A ভ্যাক্সিন কোন ধরনের ভ্যাক্সিন?
RUUnit-GSet-2জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রমানবদেহের প্রতিরক্ষাপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টিকার ভূমিকা (Topic Practice)RU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
B.
নিষ্ক্রিয়
Explanation:

Another Explanation (5): ```html
ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হেপাটাইটিস A ভ্যাকসিন: একটি একাডেমিক ব্যাখ্যা 🧐
ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza) এবং হেপাটাইটিস A (Hepatitis A) রোগের জন্য ব্যবহৃত ভ্যাকসিনগুলো সাধারণত "নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিন" (Inactivated Vaccine) হিসেবে পরিচিত। নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিন কী? 🤔
নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিন হলো এমন এক ধরনের ভ্যাকসিন যেখানে রোগের জীবাণু (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) কে রাসায়নিক পদার্থ, তাপ অথবা তেজস্ক্রিয়তার মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় বা মৃত করে ব্যবহার করা হয়। এই মৃত বা নিষ্ক্রিয় জীবাণু শরীরে প্রবেশ করালে তা রোগ তৈরি করতে পারে না, কিন্তু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (Immune System) সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে শরীর ভবিষ্যতে আসল জীবাণুর সংক্রমণ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকে। 💪
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন (Influenza Vaccine) 🤧
- ধরন: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন সাধারণত নিষ্ক্রিয় ভাইরাস ভ্যাকসিন হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড (দুর্বল) ভ্যাকসিনও ব্যবহার করা হয়, তবে নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিনই বেশি প্রচলিত।
- কার্যকারিতা: এই ভ্যাকসিন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- প্রস্তুত প্রণালী: ভাইরাসের স্ট্রেইন নির্বাচন করে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কোন স্ট্রেইনগুলো বেশি ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে, তা জানায় এবং সেই অনুযায়ী ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
- সুবিধা: এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরাও নিতে পারে।
- অসুবিধা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে এবং এটি লাইভ ভ্যাকসিনের মতো দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বুস্টার ডোজের প্রয়োজন হতে পারে।
হেপাটাইটিস A ভ্যাকসিন (Hepatitis A Vaccine) 💛
- ধরন: হেপাটাইটিস A ভ্যাকসিন একটি নিষ্ক্রিয় ভাইরাস ভ্যাকসিন।
- কার্যকারিতা: এটি হেপাটাইটিস A ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা প্রদান করে।
- প্রস্তুত প্রণালী: হেপাটাইটিস A ভাইরাসকে কালচার করে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা হয় এবং এরপর ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
- সুবিধা: এটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং নিরাপদ। প্রায় ৯৫-১০০% ক্ষেত্রে এটি রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
- অসুবিধা: খুব কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেমন ইঞ্জেকশনের স্থানে সামান্য ব্যথা বা ফোলাভাব।
নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিনের সুবিধা ও অসুবিধা 📊
| বৈশিষ্ট্য | সুবিধা 👍 | অসুবিধা 👎 |
|---|---|---|
| নিরাপত্তা | লাইভ ভ্যাকসিনের চেয়ে নিরাপদ, কারণ এতে জীবন্ত জীবাণু থাকে না। | রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে বেশি সময় লাগতে পারে। |
| কার্যকারিতা | ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। | লাইভ ভ্যাকসিনের তুলনায় কম কার্যকরী হতে পারে। বুস্টার ডোজের প্রয়োজন হতে পারে। |
| সংরক্ষণ | সংরক্ষণ করা সহজ। | - |
| ব্যবহার | দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি এবং শিশুদের জন্য উপযুক্ত। | - |
অন্যান্য ভ্যাকসিনের প্রকারভেদ 💉
- লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড ভ্যাকসিন (Live Attenuated Vaccine): দুর্বল বা রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া জীবন্ত জীবাণু ব্যবহার করা হয়। যেমন: MMR ভ্যাকসিন।
- সাবইউনিট, রিকম্বিনেন্ট, পলিস্যাকারাইড ও কনজুগেট ভ্যাকসিন (Subunit, Recombinant, Polysaccharide, and Conjugate Vaccines): জীবাণুর কোনো অংশ বা প্রোটিন ব্যবহার করা হয়। যেমন: HPV ভ্যাকসিন।
- টক্সয়েড ভ্যাকসিন (Toxoid Vaccine): জীবাণুর তৈরি করা ক্ষতিকর টক্সিনকে নিষ্ক্রিয় করে ব্যবহার করা হয়। যেমন: টিটেনাস ভ্যাকসিন।
- mRNA ভ্যাকসিন (mRNA Vaccine): এটি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর জেনেটিক কোড ব্যবহার করে শরীরে প্রোটিন তৈরি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেমন: COVID-19 এর কিছু ভ্যাকসিন।
উপসংহারে বলা যায়, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হেপাটাইটিস A ভ্যাকসিন উভয়ই নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিন এবং এগুলো রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 🥳
```Option A Explanation:
টক্সোয়েড ভ্যাক্সিনের ব্যাখ্যা
- সংজ্ঞা: টক্সোয়েড ভ্যাক্সিন হলো একটি ধরনের ভ্যাক্সিন যা ব্যাকটেরিয়ার উৎপন্ন করা বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন) এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে।
- উৎপন্নকারী অণু: এটি সাধারণত টক্সিনের অর্ধপ্রস্তুত বা অকার্যকরীকৃত (inactivated) রূপ থেকে তৈরি হয়।
- উদাহরণ: ডিপথেরিয়া ও টেটানাসের জন্য ব্যবহৃত টক্সোয়েড ভ্যাক্সিন।
- কার্যপ্রণালী: শরীরে ইনজেকশন দিলে, এটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচেতন করে এবং ভবিষ্যতে সেই বিষাক্ত পদার্থের বিরুদ্ধে রক্ষা করে।
- উপকারিতা: এটি রোগের গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধে বিশেষভাবে কার্যকর।
Option B Explanation:
- নিষ্ক্রিয় ভ্যাক্সিন: এটি এমন ধরনের ভ্যাক্সিন যেখানে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার জীবিত but অক্ষম করা হয়।
- উপাদান: এতে জীবিত কিন্তু সক্রিয় নয় এমন অণুগুলি থাকে, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।
- উপকারিতা: শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে।
- উদাহরণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা (বিশেষ করে কিছু ফ্লু ভ্যাক্সিন) ও হেপাটাইটিস A এর কিছু ধরনের ভ্যাক্সিন।
- সতর্কতা: যেখানে Immunocompromised ব্যক্তি থাকেন, সেখানে ব্যবহার সাবধানে করতে হয়।
Option C Explanation:
সাব ইউনিট ভ্যাক্সিনের ব্যাখ্যা
- সংজ্ঞা: সাব ইউনিট ভ্যাক্সিন হলো একটি ধরনের ভ্যাক্সিন যেখানে কেবল সংক্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা প্রোটিনের অঙ্গসংস্থান ব্যবহার করা হয়। এটি পুরো ভাইরাস বা জীবাণু নয়, বরং কেবল নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
- উপকারিতা: এটি সাধারণত নিরাপদ কারণ এটি জীবন্ত বা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভাইরাসের অংশবিশেষ, ফলে ঝুঁকি কম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়।
- উদাহরণ: হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিন, ডিপথেরিয়া, টেটানাস এবং কিছু কনজুগেট ভ্যাক্সিন এই ধরনের।
- প্রক্রিয়া: এই ভ্যাক্সিন তৈরিতে ভাইরাসের নির্দিষ্ট প্রোটিন বা অঙ্গবিশেষ আলাদা করে প্রস্তুত করে তা ইনজেকশনের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করানো হয়।
- উপাদান: সাধারণত এই ভ্যাক্সিনে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা প্রোটিনের অংশ ছাড়া অন্য কোন জীবাণু বা ভাইরাসের অংশ থাকে না।
Option D Explanation:
কনজুগেট ভ্যাক্সিনের ব্যাখ্যা
কনজুগেট ভ্যাক্সিনের ব্যাখ্যা
- সংজ্ঞা: কনজুগেট ভ্যাক্সিন হলো একটি ধরনের ভ্যাক্সিন যেখানে সংক্রমণকারী অণু বা প্রোটিনকে অন্য একটি প্রোটিনের সাথে সংযোগ বা সংযোজন করা হয়।
- উদ্দেশ্য: এটি মূলত ইমিউন সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা হয়, বিশেষ করে শিশুদের জন্য।
- উপাদান: সাধারণত, এটি টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত ভ্যাক্সিনে অণু বা প্রোটিনের উপরে হোস্টের প্রোটিন বা polysaccharide সংযোগ করে তৈরি করা হয়।
- উপকারিতা: এই পদ্ধতিতে তৈরি ভ্যাক্সিনগুলি সাধারণত বেশি কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে।