অসমভাবে উত্তপ্ত কোন পরিবাহীকে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে পরিবাহকের কোথাও তাপের উদ্ভব এবং কোথাও তাপের শোষণ হয় একে বলে -
থমসন ক্রিয়া: একটি বিশদ ব্যাখ্যা 🌡️
থমসন ক্রিয়া হলো একটি তাপ-তড়িৎ ঘটনা। অসমভাবে উত্তপ্ত কোনো পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ গেলে পরিবাহীর বিভিন্ন অংশে তাপের উদ্ভব অথবা শোষণ হয়। এই ঘটনাটি ১৮৫১ সালে বিজ্ঞানী উইলিয়াম থমসন (পরবর্তীতে লর্ড কেলভিন) আবিষ্কার করেন। 👨🔬
থমসন ক্রিয়ার মূল ধারণা 🤔
সহজ ভাষায়, যখন একটি পরিবাহীর দুই প্রান্তের তাপমাত্রা ভিন্ন থাকে এবং এর মধ্যে দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হয়, তখন কারেন্ট প্রবাহের ফলে পরিবাহীর কিছু অংশে তাপ উৎপন্ন হয় (উত্তপ্ত হয়) এবং কিছু অংশে তাপ শোষিত হয় (ঠান্ডা হয়)।
কেন এমন হয়? 🤷♀️
এর কারণ হলো থমসন সহগ (Thomson coefficient)। পরিবাহীর উপাদানের উপর ভিত্তি করে এই সহগের মান ইতিবাচক (+) অথবা ঋণাত্মক (-) হতে পারে।
- ইতিবাচক থমসন সহগ (+): যদি পরিবাহীর উষ্ণ প্রান্ত থেকে শীতল প্রান্তের দিকে কারেন্ট যায়, তবে তাপ শোষিত হবে। vice versa হলে তাপ উৎপন্ন হবে।
- ঋণাত্মক থমসন সহগ (-): যদি পরিবাহীর উষ্ণ প্রান্ত থেকে শীতল প্রান্তের দিকে কারেন্ট যায়, তবে তাপ উৎপন্ন হবে। vice versa হলে তাপ শোষিত হবে।
বিষয়টি আরেকটু বুঝিয়ে বলা যাক 🤓:
- অসম তাপমাত্রা: পরিবাহীর দুই প্রান্তে ভিন্ন তাপমাত্রা থাকতে হবে। 🔥❄️
- তড়িৎ প্রবাহ: পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হতে হবে। ⚡
- থমসন সহগ: পরিবাহীর উপাদানের একটি নির্দিষ্ট থমসন সহগ থাকতে হবে।
- তাপের উদ্ভব বা শোষণ: কারেন্ট প্রবাহের দিক এবং থমসন সহগের মানের উপর নির্ভর করে পরিবাহীর কোনো অংশে তাপ উৎপন্ন হবে, আবার কোনো অংশে তাপ শোষিত হবে।
থমসন ক্রিয়ার গাণিতিক রূপ 🧮
উৎপন্ন বা শোষিত তাপের পরিমাণ নিম্নলিখিত সূত্রের সাহায্যে নির্ণয় করা যায়:
dQ/dt = -μI(dT/dx)
এখানে:
- dQ/dt = প্রতি সেকেন্ডে উৎপন্ন বা শোষিত তাপের পরিমাণ (power).
- μ = থমসন সহগ (Thomson coefficient).
- I = তড়িৎ প্রবাহ (current).
- dT/dx = তাপমাত্রার নতি (temperature gradient).
বিভিন্ন উপাদানের থমসন সহগ 📊
| উপাদান | থমসন সহগ (μV/°C) |
|---|---|
| লোহা (Iron) | -13 |
| কপার (Copper) | +1.7 |
| দস্তা (Zinc) | -3 |
ব্যবহারিক প্রয়োগক্ষেত্র ⚙️:
- তাপমাত্রা সেন্সর 🌡️ তৈরিতে।
- থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর 🔋 তৈরিতে (বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য)।
- কিছু বিশেষ ধরনের কুলিং ডিভাইসে ❄️।
থমসন ক্রিয়া অন্যান্য তাপ-তড়িৎ প্রভাবের (যেমন সীবেক এবং পেল্টিয়ার ক্রিয়া) সাথে সম্পর্কিত। এই ক্রিয়াগুলো আধুনিক প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 🚀
আশা করি, থমসন ক্রিয়া সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে পেরেছি। 👍
আরও কিছু জানতে চান? 🤔
```