পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে যারা নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সদা তৎপর। নিজের ক্ষমতা, লোভ, প্রভাব ও স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতে যেকোনো কাজ তার দ্বারা সম্ভব। যারা প্রবৃত্তির এই ফাঁদে পা দেয় তারাই জানে এই দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে টিকে থাকতে হলে তাকে নিজের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করতে হবে। ন্যায়-অন্যায়, পাপবোধ সেখানে ক্ষি ক্ষণিকের জন্য জন্য বিবেকবোধকে বিবেক জাগ্রত করলেও ৯৮ তা দুনিয়ার স্বার্থে অচিরেই ম্লান হয়ে যায়।
উদ্দীপকের ভাবার্থ 'লালসালু' উপন্যাসে শাসন ও শোষণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিবরণের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
A.
B.
C.
D.
Explanation:
Related Questions (Any University/Year)
- এনায়েত রসুলপুর মসজিদের ইমাম। সর্বদা এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকে সে। মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায় সবাই তাকে মান্য করে। সুন্দর নূরানী চেহারা হওয়ায় এলাকার সবাই তাকে পীর সাহেব হিসাবে গণ্য করে। সে হঠাৎ ফতোয়া জারি করে সকল দান খয়রাত এলাকার মানুষ যেন মসজিদ মাদ্রাসায় দেয়। একথা শুনে এলাকার আধুনিক শিক্ষিত যুবক মেহেরা প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু এলাকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ মেহেরার কথায় সায় দেয় না বরং বিরোধিতা করে। তাদের ধারণা বাংলা, ইংরেজি পড়া স্কুল কলেজে পড়লে মানুষ শয়তানের দোসর হয়। পরকাল শেষ হয়ে যায়। তাই সকল দান খয়রাত, পড়াশুনা মসজিদ মাদ্রাসাভিত্তিক হওয়া দরকার।রসুলপুর গ্রামের এনায়েতের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দেখাও।
- মতিন ও খাইরুনের পাঁচ বছরের সংসার। বিয়ের পর হতেই অনেক চেষ্টার পরেও তাদের সন্তান হয় না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা অনেক দূরের এক গ্রামে হেকমত কবিরাজের সন্ধান পায়। সন্তান লাভের আশায় ব্যাকুল মতিন দ্রুত স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যায়। হেকমত কবিরাজ অনেকক্ষণ ধরে খাইরুনকে নিরীক্ষণ করার পর বলেন- 'পেটে বেরি পরে বইলাইতো স্ত্রী লোকের সন্তানাদি হয় না, কারো পড়ে সাত প্যাঁচ, কারো চৌদ্দ।'উদ্দীপকের মতিন ও 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য নির্ণয় কর।
- লালসালু' উপন্যাসে 'সিদ্ধ' ধানের ভাপের' শব্দটিকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
- ওয়াজ করিবার সময় পীর সাহেবের প্রায়ই জযবা আসিত। সে জযবা কে মুরিদগণ 'ফানাফিল্লাহ' বলিত। এই 'ফানাফিল্লাহ'র সময় পীর সাহেব 'জ্বলিয়া গেলাম' পুড়িয়া গেলাম' বলিয়া চিৎকার করিয়া চিৎ হইয়া শুইয়া পড়িতেন। ..... তাই জযবার সময় একখণ্ড কালো মখমল দিয়া পীর সাহেবের চোখ-মুখ ঢাকিয়া দিয়া তাঁহার হাত-পা টিপিয়া দিবার ওসিয়ত ছিল।উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজচিত্রের প্রতি যে ইঙ্গিত প্রদান করে তা আলোচনা করো।
- 'পায়ের আঙুলে দাড়িয়ে বকের মতো গলা বাড়িয়ে পির সাহেবকে একবার দেখার চেষ্টা করে।' যার সম্পর্কে এই কথা বলা হয়েছে
- প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুই পীর পাশাপাশি এলাকায় আস্তানা জনপ্রিয়তার দিক থেকে কেও কারো চেয়ে কম নয় নয়। কিন্তু দুজনেরই উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থা এক হলেও একসময় পীরদ্বয় দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। উদ্দীপকের দুজনের কর্মপন্থা এক হওয়ার উদ্দেশ্যগত দিক হলো - স্বার্থহাসিলধর্মপ্রচারপ্রভাব -প্রতিপত্তি বৃদ্ধিনিচের কোনটি সঠিক?
- আটোয়ারী থানার 'বার আউলিয়া' নামক স্থানে বারোটি মাজার আছে। সেখানে বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ব্যবসা বাণিজ্য। নানারকম ব্যবসার মাঝে কিছু অসাধু ব্যক্তি ধর্মকে আশ্রয় করে মানুষ ঠকানোর কাজ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়।"ধর্ম কখনো কখনো একশ্রেণির ব্যক্তির ব্যবসার উপজীব্য হয়ে উঠেছে।" উদ্দীপকের কাহিনি ও পরিণতির চেয়ে উপন্যাসের কাহিনি ও পরিণতি অধিকতর বৈচিত্র্যময়- বিষয়টি তোমার মতামতসহ আলোচনা করো।
- বাল্যবিবাহবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে গিয়ে শিক্ষিতযুবক রিয়াজ গ্রাম্য মাতব্বরের কাছে লাঞ্ছনার শিকারহলো। কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে এলো না।রিয়াজ ও উপন্যাসের সেই চরিত্রের লাঞ্ছনার কারণকী?
- শনির হাওরের পারে গোটা কয়েক বাড়ি নিয়ে গিয়াসের গ্রাম। ঘর হতে দু'পা ফেলতেই হাও???ের শুরু, শেষটা চোখে আন্দাজ করা যায় না। ধান আর মাছ নিয়ে তাদের জীবন। বানের পানিতে ধান তলিয়ে গেলে তারা চোখে অন্ধকার দেখে। অসুখ-বিসুখে ওপাড়ার পিরের পানি আর তেল পড়াই তাদের ভরসা। গত বছর গিয়াস তার নিঃসন্তান স্ত্রীকে নিয়ে শহরে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিল। বেপর্দাভাবে স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ায় পিরের বাড়িতে ডাক পড়ল গিয়াসের। তখন আতরের সুবাস আর আগরের ধোঁয়ায় পির সাহেবের মুখ দেখাই যাচ্ছিল না। যেনো অদৃশ্য কণ্ঠের ঘোষণা হলো গিয়াসকে গ্রাম ছাড়তে হবে। পিরের ঘোষণাপত্র তার সাগরেদরা তা বাস্তবায়ন করল।'উদ্দীপকের জনজীবন এবং মহব্বতনগর গ্রামের জনজীবনের চিত্র একই রকম।'- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
- মহাসড়কের পাশে পোড়াবাড়ি গ্রামে ফসিপাগলের মাজার। মঙ্গল লাভের আশায় টাকা- পয়সা, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল মানত করা হয় এই মাজারে। চলমান বাসের চালক, যাত্রাপথের পথিক ভক্তিভরে পর্যাপ্ত দান করে। মাজারের খাদেম এখন প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক। এলাকায় তার প্রভাব-প্রতিপত্তিও কম নয়। কে এই ফসিপাগল? কী তার পরিচয়? এসব প্রশ্নের কোনো প্রকার সদুত্তর মেলে না তার কাছে।"লালসালু' উপন্যাসের মজিদের সামগ্রিক, কর্মকান্ড উদ্দীপকের চিত্রিত খাদেমের কর্মকান্ডে সীমিত পরিসরে বিবৃত হয়েছে।" মন্তব্যটি বিচার করো।
- 'লালসালু' উপন্যাসের লেখক কি উন্মোচন করেছেন?
- 'লালসালু' উপন্যাসের মহাসমুদ্রের ডাককে অবহেলাকরে বালুতীরে কী যেন খোঁজে।'- বাক্যে প্রকাশপেয়েছে—
- লক্ষ্মীপুর গ্রামের দাহির ও পারুলের আজ সাত বছরের সংসার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তাদের কোনো সন্তান নেই। এজন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চরম হতাশায় নিমজ্জিত। এমন অবস্থায় তারা শুনতে পায়; পাশের গ্রামের চেয়ারম্যানের বাড়িতে এক কামেল পির সাহেব এসেছে। তাদের মনে যেন আশার আলো, জ্বলে। স্ত্রী পারুলকে সাথে নিয়ে পরদিনই দাহির পির সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে। পির সাহেব পারুলকে অনেকক্ষণ নিরীক্ষণ করে জানায়, 'পেটে বেড়ি পড়ে বইলাই তো স্ত্রীলোকদের সন্তান হয় না।'"উদ্দীপকের পীর সাহেব 'লালসালু' উপন্যাসের বর্ণিত পির সাহেবের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী নয়।"-এ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
- কে জমিলাকে প্রথম মজিদকে দেখায়?
- ‘লালসালু’ উপন্যাসের প্রকৃত প্রতিপাদ্য-
- 'মরা মানুষ জিন্দা হয় ক্যামনে?'- উক্তিটি কার?
- মুরাদপুর একটি অবহেলিত গ্রাম। গ্রামটি যোগাযোগব্যবস্থায় যেমন পিছিয়ে তার চেয়ে বেশি শিক্ষায়। নারী শিক্ষায় পিছিয়ে থাকায় গ্রামে বাল্যবিবাহ নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। গ্রামের ছেলে মনির হোসেন এমএসসি পাশ করে সরকারি চাকরির সুযোগ পেয়ে গ্রহণ করেননি। তিনি গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন একটি বালিকা বিদ্যালয়। এছাড়া সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে মেয়েদের কর্মমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেন।উদ্দীপকের মুরাদপুর গ্রামের সমাজ বাস্তবতার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের সমাজবাস্তবতার তুলনা করো।
- 'সে বলে পীর সাহেব সূর্যকে ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে।'- উক্তিটিতে কী প্রকাশ পেয়েছে?
- জুয়েল প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার কিন্তু পুরোনো ধ্যানধারণা আঁকড়ে থাকা পিতার কঠিন অসুখেও চিকিৎসাসেবা সে দিতে পারে না। তাবিজ-কবজ আর পানিপড়ায় বিশ্বাসী পিতা আমিরুল ডা. জুয়েলকে একরকম ত্যাজ্য করেছেন বলা যায়; কারণ গ্রামের গরিব মানুষদের জন্য ডা. জুয়েল আধুনিক এক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তা তার পিতার মতোই কুসংস্কারচ্ছন্ন ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে গিয়েই। তারা মনে করেন এতে ধর্মনাশ হচ্ছে আর তারা পাপের ভাগীদার হচ্ছে। মূলত এইসব কুসংস্কারের মূলে রয়েছে তাদের পীরসাহেব, যার পানিপড়া নিতে আজকাল খুব কম মানুষই আসে।উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন অংশ বিপরীত আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে তা বর্ণনা করো।
- রসুলপুর গ্রামের ছেলে আরিফ মিয়া এমএ পাশ করে গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। সে গ্রামের মানুষদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে । কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে গ্রামের জোতদার আফাজ আলি। সে গ্রামবাসীদের ভুল ধারণা দেয় যে, আরিফ মিয়া 'ধর্মীয় শিক্ষার পরিবর্তে প্রচলিত শিক্ষা দিয়ে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে চাচ্ছে। ফলস্বরূপ গ্রামবাসী আরিফ মিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গ্রামছাড়া করে।উদ্দীপকের 'আরেফ মিয়া'র সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়? আলোচনা করো।