Rh- মহিলার সাথে Rh+ পুরুষের বিয়ে হলে প্রথম সন্তানের কোন রোগটি হতে পারে?
JUUnit-DSet-8জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রজিনতত্ত্ব ও বিবর্তনABO ব্লাডগ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর (Topic Practice)JU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
D.
এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস
Explanation: Rh- মহিলার সাথে Rh+ পুরুষের বিয়ে হলে প্রথম সন্তানের এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস হতে পারে। অপশন বিশ্লেষণ: Option D (এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস): সঠিক উত্তর। Option A (মাসকুলার ডিস্ট্রফি), Option B (হাইপারট্রাইকোসিস), এবং Option C (হিমোফিলিয়া): ভুল, কারণ এ রোগ Rh অমিলের কারণে হয় না। নোট: Rh অমিল প্রথম গর্ভধারণে সাধারণত ক্ষতি করে না, তবে দ্বিতীয় গর্ভধারণে গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
Another Explanation (5):
এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস: একটি ব্যাখ্যা 🤰👶
ভূমিকা
এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস (Erythroblastosis Fetalis), যা Rh রোগ নামেও পরিচিত, একটি জটিল অবস্থা। Rh-negative (Rh-) মহিলার সাথে Rh-positive (Rh+) পুরুষের বিয়ে হলে এবং তাদের সন্তান Rh+ হলে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আসুন, বিস্তারিত জেনে নেই! 🧐Rh ফ্যাক্টর কী?
Rh ফ্যাক্টর হলো লোহিত রক্তকণিকার (Red Blood Cell) পৃষ্ঠে থাকা একটি প্রোটিন। যদি এই প্রোটিন থাকে, তাহলে রক্ত Rh+ পজিটিভ, না থাকলে Rh- নেগেটিভ। 🩸কীভাবে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস হয়?
যদি একজন Rh- মহিলার গর্ভে Rh+ সন্তান আসে, তাহলে গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের সময় মায়ের রক্ত সন্তানের রক্তের সংস্পর্শে আসতে পারে। মায়ের শরীর তখন Rh+ রক্তের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে সাধারণত তেমন সমস্যা হয় না। 🤔 কিন্তু পরবর্তী গর্ভাবস্থায়, যদি আবার Rh+ সন্তান আসে, তাহলে মায়ের তৈরি অ্যান্টিবডি প্লাসেন্টা (Placenta) ভেদ করে বাচ্চার রক্তে প্রবেশ করে। এই অ্যান্টিবডিগুলো বাচ্চার লোহিত রক্তকণিকাগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। 💥রোগের কারণ
- মায়ের Rh নেগেটিভ (-) হওয়া।
- সন্তানের Rh পজিটিভ (+) হওয়া।
- পূর্ববর্তী Rh+ সন্তানের জন্মদান অথবা Rh+ রক্তের সংস্পর্শে আসা।
লক্ষণ ও উপসর্গ 😥
- জন্ডিস (Jaundice): ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া। 💛
- অ্যানিমিয়া (Anemia): রক্তশূন্যতা। 😔
- লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া (Enlarged liver and spleen)।
- শরীরে পানি আসা (Hydrops fetalis): মারাত্মক ক্ষেত্রে হতে পারে। 💧
- নবজাতকের শ্বাসকষ্ট (Breathing difficulty)। 💨
রোগ নির্ণয় পদ্ধতি 🔬
| পরীক্ষার নাম | বিবরণ |
|---|---|
| অ্যামনিওসেন্টেসিস (Amniocentesis) | গর্ভের অ্যামনিওটিক ফ্লুইড পরীক্ষা করে বাচ্চার রক্তের গ্রুপ এবং অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। |
| ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড (Doppler Ultrasound) | বাচ্চার মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহের গতি দেখে অ্যানিমিয়ার তীব্রতা নির্ণয় করা যায়। |
| কর্ডোসেন্টেসিস (Cordocentesis) | গর্ভের নাড়ি থেকে রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। |
চিকিৎসা 💉
- গর্ভাবস্থায় Rh immunoglobulin (RhoGAM) ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা মায়ের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে বাধা দেয়।
- শিশুর জন্মের পর রক্ত পরিসঞ্চালন (Blood Transfusion) করা লাগতে পারে।
- গুরুতর ক্ষেত্রে, জন্মের আগে বাচ্চার শরীরে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে (Intrauterine Transfusion)।
- ফটোথেরাপি (Phototherapy): জন্ডিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। 🔆
প্রতিরোধ 🛡️
- Rh- মহিলাদের গর্ভাবস্থায় ২৮ সপ্তাহে এবং সন্তান প্রসবের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে Rh immunoglobulin (RhoGAM) ইনজেকশন দেওয়া উচিত।
- গর্ভপাতের পরেও এই ইনজেকশন দেওয়া জরুরি।
জটিলতা ⚠️
- শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি কমে যাওয়া।
- মস্তিষ্কের ক্ষতি (Kernicterus)। 🧠
- শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 💀