হুকের সূত্র নিম্নরূপঃ (স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে)
পীড়ন ∝ বিকৃতি

হুকের সূত্র
হুকের সূত্র স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে পীরণ এবং বিকৃতির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। এই সূত্র অনুযায়ী:
পীড়ন ∝ বিকৃতি
অর্থাৎ, স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের কারণে সৃষ্ট পীড়ন তার বিকৃতির সাথে সরাসরি সমানুপাতিক।
🔑 মূল ধারণা
- পীড়ন (Stress): বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বাহ্যিক বলের কারণে বস্তুর অভ্যন্তরে যে প্রতিরোধকারী বলের সৃষ্টি হয়। একে সাধারণত σ (সিগমা) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এর একক হলো প্যাসকেল (Pa) অথবা নিউটন প্রতি বর্গমিটার (N/m²)। 💪
- বিকৃতি (Strain): বস্তুর আকারের আপেক্ষিক পরিবর্তন। একে সাধারণত ε (এপিসাইলন) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এর কোনো একক নেই, এটি একটি মাত্রাবিহীন রাশি। 📏➡️📐
- স্থিতিস্থাপক সীমা (Elastic Limit): এটি হলো পীড়নের সেই সর্বোচ্চ মান, যা পর্যন্ত কোনো বস্তুকে প্রসারিত বা সংকুচিত করার পরে বল সরিয়ে নিলে বস্তুটি সম্পূর্ণরূপে তার আগের আকারে ফিরে আসে। ↩️
📊 হুকের সূত্রের গাণিতিক রূপ
গাণিতিকভাবে হুকের সূত্রকে এভাবে লেখা যায়:
σ = Eε
এখানে,
- σ = পীড়ন (Stress)
- E = ইয়ং-এর গুণাঙ্ক (Young's Modulus) - এটি উপাদানের স্থিতিস্থাপকতার একটি পরিমাপ। 💎
- ε = বিকৃতি (Strain)
ইয়ং-এর গুণাঙ্ক(Young's Modulus)
ইয়ং-এর গুণাঙ্ক হলো কোনো কঠিন বস্তুর স্থিতিস্থাপকতার পরিমাপ। এটি বস্তুর পীড়ন এবং বিকৃতির অনুপাত। ইয়ং-এর গুণাঙ্ক যত বেশি, বস্তুটি তত বেশি স্থিতিস্থাপক।
E = σ/ε
🧪 পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই
স্প্রিং-এর উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজে বোঝানো যায়। স্প্রিং-এর ওপর ওজন চাপিয়ে এর প্রসারণ মেপে হুকের সূত্র পরীক্ষা করা যেতে পারে।
| ওজন (W) 🏋️ | প্রসারণ (ΔL) 📏 | পীড়ন (σ) | বিকৃতি (ε) |
|---|---|---|---|
| 1 N | 0.01 m | নির্দিষ্ট মান | নির্দিষ্ট মান |
| 2 N | 0.02 m | নির্দিষ্ট মান | নির্দিষ্ট মান |
| 3 N | 0.03 m | নির্দিষ্ট মান | নির্দিষ্ট মান |
⚠️ সীমাবদ্ধতা
হুকের সূত্র শুধুমাত্র স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে প্রযোজ্য। স্থিতিস্থাপক সীমা অতিক্রম করলে বস্তুটি স্থায়ীভাবে বিকৃত হয়ে যায় এবং হুকের সূত্র আর খাটে না।
সীমা অতিক্রম করলে 💔।
ব্যবহার
- স্প্রিং তৈরি করতে
- ওজন মাপার যন্ত্র বানাতে
- বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে
আশা করি, হুকের সূত্রটি সহজে বুঝতে পেরেছেন। 👍