যেসব নিউট্রন তারকা রেডিও তরঙ্গ বিকিরণ করে তাদেরকে কী বলে?
RUUnit-CSet-2পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রজ্যোতির্বিজ্ঞানটেলিস্কোপ (Topic Practice)RU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
C.
পালসার
Explanation:

Another Explanation (5): ```html
পালসার: একটি একাডেমিক আলোচনা 🌠
পালসার হলো অত্যন্ত চুম্বকীয়, ঘূর্ণায়মান নিউট্রন তারকা যা তাদের মেরু থেকে তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নির্গত করে। এই বিকিরণ আলোর ঝলকের মতো দেখায়, যা নিয়মিত বিরতিতে আমাদের কাছে পৌঁছায়। এই নিয়মিত স্পন্দন বা পালস এর কারণেই এদের নাম পালসার।
পালসারের বৈশিষ্ট্যসমূহ 🧲💫
- নিউটন তারকা: পালসার হলো মূলত নিউট্রন তারকা, যা কোনো বিশাল তারকার সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর অবশিষ্ট থাকা কোর।
- দ্রুত ঘূর্ণন: এদের ঘূর্ণন গতি অত্যন্ত বেশি, যা প্রতি সেকেন্ডে কয়েকবার থেকে কয়েকশ বার পর্যন্ত হতে পারে। 🔄
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র: পালসারের চৌম্বক ক্ষেত্র অত্যন্ত শক্তিশালী, যা পৃথিবীর চেয়ে কয়েক ট্রিলিয়ন গুণ বেশি হতে পারে। 🌍➡️💥
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: এরা রেডিও তরঙ্গ, দৃশ্যমান আলো, এক্স-রে এবং গামা রশ্মিসহ বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নির্গত করে। ⚡
- নিয়মিত স্পন্দন: এদের বিকিরণ অত্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে আমাদের কাছে পৌঁছায়, যা এদের সনাক্তকরণের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ⏱️
পালসারের প্রকারভেদ 📊
পালসারকে তাদের স্পন্দন হারের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ পালসার: এদের স্পন্দন হার অপেক্ষাকৃত ধীর, সাধারণত ১ সেকেন্ড বা তার বেশি।
- মিলিসেকেন্ড পালসার: এদের স্পন্দন হার অত্যন্ত দ্রুত, ১ থেকে ১০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে। মনে করা হয় এরা বাইনারি সিস্টেমে অন্য তারকার কাছ থেকে ভর অর্জন করে দ্রুত ঘুরতে শুরু করে।
- এক্স-রে পালসার: এরা এক্স-রে তে উজ্জ্বল এবং সাধারণত বাইনারি সিস্টেমে পাওয়া যায়, যেখানে একটি নিউট্রন তারকা একটি সাধারণ তারকা থেকে পদার্থ গ্রহণ করে।
পালসার কিভাবে কাজ করে? ⚙️
পালসারের বিকিরণ প্রক্রিয়াটি এখনো সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য নয়, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে এর মূলে রয়েছে:
- চৌম্বক মেরু: পালসারের চৌম্বকীয় অক্ষ এবং ঘূর্ণন অক্ষ সাধারণত একই সরলরেখায় থাকে না।
- বিকিরণ নিঃসরণ: ঘূর্ণনের ফলে, চৌম্বক ক্ষেত্রের কাছাকাছি অঞ্চলে চার্জিত কণা (যেমন ইলেকট্রন এবং পজিট্রন) আলোর প্রায় কাছাকাছি গতিতে চলে।
- বিম তৈরি: এই চার্জিত কণাগুলো তীব্র তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নিঃসরণ করে, যা মেরু থেকে বিমের আকারে বের হয়।
- পালস দর্শন: যখন এই বিকিরণের বিম পৃথিবীর দিকে আসে, তখন আমরা একটি পালস দেখতে পাই। 🔭
গুরুত্ব ও ব্যবহার 🚀
পালসার জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কয়েকটি ব্যবহার নিচে উল্লেখ করা হলো:
- মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্তকরণ: পালসার টাইমিং অ্যারে (PTA) ব্যবহার করে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্ত করা যায়।
- মহাকাশ নেভিগেশন: পালসারের নিয়মিত স্পন্দন মহাকাশযানের জন্য নেভিগেশন সংকেত হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। 🧭
- পদার্থবিদ্যা গবেষণা: চরম ঘনত্ব এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অধীনে পদার্থের আচরণ বুঝতে পালসার সহায়ক।
- দূরত্ব পরিমাপ: মহাবিশ্বের দূরত্ব পরিমাপের জন্য পালসার ব্যবহার করা যেতে পারে। 📏
উদাহরণস্বরূপ কিছু পালসার 🌟
| পালসারের নাম | স্পন্দনকাল (মিলিসেকেন্ড) | দূরত্ব (আলোবর্ষ) |
|---|---|---|
| PSR B1919+21 | 1337 | 2283 |
| PSR J0437-4715 | 5.76 | 457 |
| PSR B1509-58 | 150 | 17000 |
আশা করি পালসার সম্পর্কে এই আলোচনাটি আপনার বোধগম্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে। 😊
```