ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ হল?
সঠিক উত্তরঃ
E.
ধনুষ্টংকর
Explanation:

Another Explanation (5):
ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ: ধনুষ্টংকার (Tetanus)
ধনুষ্টংকার একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। এটি ক্লস্ট্রিডিয়াম টেটানি (Clostridium tetani) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়। এই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত মাটি, ধুলো এবং পশুর মলমূত্রে পাওয়া যায়।
সংক্রমণের কারণ 🦠
- কাটা বা আঘাতের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে।
- জং ধরা ধাতব বস্তু (যেমন - পেরেক, ছুরি) থেকে আঘাত পেলে।
- পোড়া বা Tissue Destroy হলে।
- নোংরা সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে।
- পশুর কামড় অথবা আঁচড় থেকে।
- অস্ত্রোপচারের পর সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না করলে।
লক্ষণসমূহ ⚠️
- জ্বর 🤒: হালকা থেকে মাঝারি জ্বর হতে পারে।
- ঘাম 😓: অতিরিক্ত ঘাম হতে দেখা যায়।
- মাথাব্যথা 🤕: তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করা।
- পেশী সংকোচন 💪: শরীরের পেশীগুলো শক্ত হয়ে যায় এবং খিঁচুনি শুরু হয়। বিশেষ করে চোয়ালের পেশী শক্ত হয়ে মুখ খুলতে অসুবিধা হয়।
- শ্বাসকষ্ট 😮💨: শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
- হাড় ভাঙা 🦴: মারাত্মক ক্ষেত্রে পেশী সংকোচনের ফলে হাড় ভেঙে যেতে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপ 🩸: রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
- দ্রুত হৃদস্পন্দন ❤️🔥: হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া।
ঝুঁকির কারণসমূহ ⚠️
- যাদের পূর্বে টিটেনাস টিকা (Tetanus vaccine) নেওয়া নেই।
- যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল।
- যারা নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে।
রোগ নির্ণয় 🤔
শারীরিক পরীক্ষা এবং উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ধনুষ্টংকার নির্ণয় করা হয়। এছাড়াও কিছু ল্যাব টেস্টের প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা 🏥
ধনুষ্টংকারের চিকিৎসায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত:
- ইমিউনোগ্লোবিন (Immunoglobulin)💉: টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবিন শরীরে প্রবেশ করানো হয়, যা ব্যাকটেরিয়ার বিষ neutral করে।
- পেশী শিথিলকারী ঔষধ 💊: পেশী সংকোচন কমানোর জন্য এই ঔষধ ব্যবহার করা হয়।
- অ্যান্টিবায়োটিক 🧪: ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
- ভেন্টিলেটর 🫁: শ্বাসকষ্ট হলে ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হতে পারে।
- ক্ষত পরিষ্কার 🧼: ক্ষত স্থান ভালোভাবে পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করা হয়।
প্রতিরোধ 🛡️
ধনুষ্টংকার প্রতিরোধের প্রধান উপায় হল টিকা গ্রহণ করা।
- টিকা 💉: শিশুদের জন্য ডিপিটি (DPT) এবং বড়দের জন্য টিটি (TT) টিকা নেওয়া আবশ্যক।
- বুস্টার ডোজ 💉: প্রতি ১০ বছর পর টিটেনাস টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত।
- সঠিক ক্ষত পরিচর্যা 🩹: আঘাত পেলে দ্রুত ক্ষত স্থান পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
ধনুষ্টংকার এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের মধ্যে পার্থক্য
| রোগের নাম | ব্যাকটেরিয়ার নাম | প্রধান লক্ষণ | প্রতিরোধ |
|---|---|---|---|
| ধনুষ্টংকার | Clostridium tetani | পেশী সংকোচন, খিঁচুনি, চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া। | টিকা (DPT, TT) |
| যক্ষ্মা (Tuberculosis) | Mycobacterium tuberculosis | কাশি, জ্বর, ওজন হ্রাস, রাতে ঘাম। | বিসিজি টিকা (BCG vaccine) |
| টাইফয়েড (Typhoid) | Salmonella typhi | জ্বর, পেটে ব্যথা, দুর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য। | টাইফয়েড টিকা |
| ডিপথেরিয়া (Diphtheria) | Corynebacterium diphtheriae | গলা ব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, গলায় সাদা পর্দা। | ডিপিটি টিকা (DPT vaccine) |
সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন! 😊🙏
Option A Explanation:
এইডস (AIDS) এর ব্যাখ্যা
- সম্প্রতি: এইডস হলো একটি সংক্রামক রোগ যা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV) দ্বারা সৃষ্টি হয়।
- প্রভাব: এটি মানুষের শরীরের প্রতিরক্ষামূলক সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়, ফলে সাধারণ সংক্রমণ ও অসুস্থতা সহজে আঘাত করে।
- সংক্রমণের পথ: এইডস সাধারণত রক্ত, সঙ্গমের মাধ্যমে বা মা থেকে সন্তানকে ট্রান্সমিট হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের সাথে সম্পর্ক: এইডসের কারণে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায়, সংক্রমণ ও ক্যান্সার উন্নয়নের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে, সরাসরি অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের কারণে এইডস হয় না, বরং এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
Option B Explanation:
হেপাটাইটিস
- একটি লিভার সংক্রমণ রোগ, যা হেপাটাইটিস ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে।
- প্রধানত তিনটি ধরনের হেপাটাইটিস ভাইরাস পাওয়া যায়: হেপাটাইটিস A, B, ও C।
- এর লক্ষণসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: ক্লান্তি, বমি, বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, অরঞ্জিত চোখ ও ত্বক, এবং গা darkening।
- প্রতিরোধের জন্য টিকাদান ও সংক্রমণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এড়ানো জরুরি।
- চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের প্রতিকার সম্ভব, বিশেষ করে ভাইরাসের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ ও যত্ন নেওয়া।
Option C Explanation:
- পোলিও: পোলিও বা পোলিওমাইলাইটিস হলো একটি সংক্রামক রোগ যা পোলিওভাইরাস দ্বারা হয়।
- এটি সাধারণত প্রধানত শিশুদের মধ্যে ঘটে, তবে সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।
- রোগের লক্ষণসমূহের মধ্যে থাকে মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, জ্বর, ক্লান্তি এবং কিছু ক্ষেত্রে প্যারালাইসিস বা অক্ষমতা হয়ে থাকে।
- বিশেষ করে, পোলিও ভাইরাসের কারণে পেরেক বা পা এর অস্থিরতা বা পক্ষাঘাত দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
- প্রতিরোধের জন্য মূল উপায় হলো পোলিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা (ইনজেকশন বা ওরাল ভ্যাকসিন)।
- সাধারণত, সঠিক চিকিৎসা না থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে রোগের প্রভাব স্বাভাবিক হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অক্ষমতা হতে পারে।
Option D Explanation:
- ইনফ্লয়েঞ্জা: এটি একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্টি হয়।
- মূল লক্ষণসমূহ: উচ্চ তাপমাত্রা, কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যাথা, শরীর ব্যথা এবং ক্লান্তি।
- প্রতিরোধ: টিকা গ্রহণ, ব্যক্তিগত হাইজিন বজায় রাখা এবং সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ এড়ানো।
- চিকিৎসা: সাধারণত বিশ্রাম, তরল গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
Option E Explanation:
- ধনুষ্টংকর (Diphtheria) হল এক ধরণের সংক্রামক রোগ যা Corynebacterium diphtheriae নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্টি হয়।
- এটি সাধারণত মুখ, গলা, এবং শ্বাসনালীতে আঘাত করে, ফলে গনগন কাশি, গলা ব্যথা, এবং শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে।
- রোগের লক্ষণগুলির মধ্যে ধূসর পুরুত্ব বা ধনোস্তংকর সৃষ্ট স্তর গলা বা নাকের ভিতরে দেখা যায়।
- প্রতিরোধের জন্য টিকাদান প্রোগ্রাম চালু রয়েছে এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
- অন্তর্ভুক্ত ব্যাকটেরিয়ার বিষক্রিয়ার কারণে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও ক্ষতি হতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ।