মেনু
QB Archive Quiz Creator Graph Poll Mode View Ques Quiz Leaderboard About
থিম নির্বাচন

আপনার পছন্দের থিম বেছে নিন।

Download Address Academy - Best Offline Education App

পরমাণু সমূহের রাসায়নিক বন্ধন তৈরীর কারণ হলো-

A. আকর্ষণ বিকর্ষণ বলের সমতা প্রতিষ্ঠা
B. নিম্মতম হৈতিক শক্তি অর্জন করা
C. যোজনী স্তরের ইলেকট্রনের উচ্চতা শক্তি স্তরে উন্নীতকরণ
D. অণুর সক্রিয়ন শক্তি হ্রাস
Poster Download
JUUnit-ASet-4রসায়ন প্রথম পত্রমৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ও রাসায়নিক বন্ধনরাসায়নিক বন্ধন - সমযোজী বন্ধন (Topic Practice)JU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
Join Telegram
সঠিক উত্তরঃ B. নিম্মতম হৈতিক শক্তি অর্জন করা
Explanation: প্রশ্ন বিশ্লেষণ: রাসায়নিক বন্ধন তৈরির প্রধান কারণ হলো পরমাণুর স্থিতিশীলতা অর্জন করা, যা নিম্নতম হৈতিক শক্তির দ্বারা সম্ভব। অপশন বিশ্লেষণ: A. আকর্ষণ বিকর্ষণ বলের সমতা প্রতিষ্ঠা: ভুল, এটি সরাসরি বন্ধন তৈরির কারণ নয়। B. নিম্নতম হৈতিক শক্তি অর্জন করা: সঠিক, এটি রাসায়নিক বন্ধনের মূল কারণ। C. যোজনী স্তরের ইলেকট্রনের উচ্চতা শক্তি স্তরে উন্নীতকরণ: ভুল, এটি বন্ধন তৈরির প্রক্রিয়া নয়। D. অণুর সক্রিয়ন শক্তি হ্রাস: ভুল, এটি বিক্রিয়ার হার নির্ধারণ করে। নোট: রাসায়নিক বন্ধন তৈরি হয় স্থিতিশীলতা অর্জন এবং শক্তি হ্রাসের জন্য।
Another Explanation (5):

পরমাণুসমূহের রাসায়নিক বন্ধন: একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা ⚛️

পরমাণুগুলো কেন রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে, তা বুঝতে হলে এদের স্থিতিশীলতা এবং সর্বনিম্ন শক্তি স্তরে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জানতে হবে। নিচে বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো:

রাসায়নিক বন্ধন তৈরির মূল কারণসমূহ 📝

  • অষ্টক নিয়ম (Octet Rule): পর্যায় সারণীর নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো (যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন) রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল। এদের সর্বশেষ শক্তিস্তরে আটটি ইলেকট্রন থাকে (হিলিয়ামের ক্ষেত্রে দুইটি)। অন্যান্য পরমাণুগুলোও তাদের সর্বশেষ শক্তিস্তরে আটটি ইলেকট্রন অর্জনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করতে চায়।
  • সর্বনিম্ন শক্তি অর্জন: প্রতিটি সিস্টেমই (পরমাণুও একটি সিস্টেম) চায় তার শক্তি সর্বনিম্ন করতে। যখন পরমাণুগুলো বন্ধন তৈরি করে, তখন তারা শক্তি নির্গত করে এবং তাদের সম্মিলিত শক্তি হ্রাস পায়। এই কারণেই বন্ধন গঠন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া।
  • স্থিতিশীলতা লাভ: রাসায়নিক বন্ধন গঠনের মাধ্যমে পরমাণুগুলো স্থিতিশীলতা অর্জন করে। স্থিতিশীল অবস্থায় পরমাণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল বৃদ্ধি পায়, যা তাদের একত্রে ধরে রাখে।

বিভিন্ন প্রকার বন্ধন এবং তাদের গঠন 🤝

  1. আয়নিক বন্ধন (Ionic Bond): একটি পরমাণু যখন অন্য পরমাণুকে ইলেকট্রন দান করে বা গ্রহণ করে, তখন আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়। সাধারণত ধাতু এবং অধাতুর মধ্যে এই বন্ধন দেখা যায়।
    • উদাহরণ: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na+ আয়নে পরিণত হয় এবং ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- আয়নে পরিণত হয়।
    • বৈশিষ্ট্য: উচ্চ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক, পানিতে দ্রবণীয়।
  2. সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond): যখন দুটি পরমাণু ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন তৈরি করে, তখন সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়। সাধারণত অধাতুগুলোর মধ্যে এই বন্ধন দেখা যায়।
    • উদাহরণ: পানি (H2O)। অক্সিজেন পরমাণু দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার করে বন্ধন তৈরি করে।
    • বৈশিষ্ট্য: সাধারণত নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক, পানিতে দ্রবণীয় বা অদ্??বণীয় হতে পারে।
  3. ধাতব বন্ধন (Metallic Bond): ধাতব পরমাণুগুলো তাদের যোজ্যতা ইলেকট্রন (Valence electron) ছেড়ে দিয়ে একটি "ইলেকট্রন সমুদ্র" তৈরি করে এবং ধনাত্মক আয়নগুলো সেই ইলেকট্রন সমুদ্রের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।
    • উদাহরণ: কপার (Cu), আয়রন (Fe)।
    • বৈশিষ্ট্য: উচ্চ পরিবাহিতা, নমনীয় এবং প্রসারণযোগ্য।

বন্ধন শক্তির প্রভাব 💥

রাসায়নিক বন্ধন তৈরির ফলে নির্গত শক্তি বন্ধন শক্তি (Bond energy) নামে পরিচিত। বন্ধন শক্তি যত বেশি, বন্ধন তত শক্তিশালী হয় এবং যৌগটি তত বেশি স্থিতিশীল হয়।

সংক্ষেপে 📊

বৈশিষ্ট্য আয়নিক বন্ধন সমযোজী বন্ধন ধাতব বন্ধন
গঠন ইলেকট্রন আদান-প্রদান ইলেকট্রন শেয়ার ইলেকট্রন সমুদ্র
উপাদান ধাতু ও অধাতু অধাতু ধাতু
বৈশিষ্ট্য উচ্চ গলনাঙ্ক, পানিতে দ্রবণীয় নিম্ন গলনাঙ্ক, দ্রবণীয় বা অদ্রবণীয় উচ্চ পরিবাহিতা, নমনীয়

পরিশেষে, পরমাণুসমূহের রাসায়নিক বন্ধন তৈরির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সর্বনিম্ন শক্তি অর্জন এবং স্থিতিশীলতা লাভ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অণু এবং যৌগ গঠিত হয়, যা আমাদের চারপাশের জগৎ তৈরি করেছে। 🌍