কোনটি মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রমের উদাহরণ?
সঠিক উত্তরঃ
A.
অসম্পূর্ণ প্রকটতা
Another Explanation (5): মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের মূল ধারণা হলো, গুণাঙ্কন বা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জেনেটিক বৈশিষ্ট্যগুলি অবাধে বিকশিত হয়, অর্থাৎ, বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা বৈশিষ্ট্যের বিকাশ নির্ভর করে আলাদা আলাদা জেনের উপর। তবে, এই সূত্রের কিছু ব্যতিক্রম ঘটে, যার মধ্যে অন্যতম হলো **"অসম্পূর্ণ প্রকটতা"** (Incomplete Penetrance)।
**অসম্পূর্ণ প্রকটতা** বলতে বোঝায়, নির্দিষ্ট জেনের জন্য নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যটি সব সময় প্রকাশ পায় না। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির জেনোটাইপ যদি কোনও নির্দিষ্ট গুণের জন্য দায়ী হয়, তবে তা সব ব্যক্তির মধ্যে একইভাবে প্রকাশ পায় না। এটি মেন্ডেলের সূত্রের প্রত্যাশিত ফলাফলের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ, কারণ মেন্ডেলের সূত্রে আশা করা হয় যে, নির্দিষ্ট জেনোটাইপ থাকলে নির্দিষ্ট ফেনোটাইপ অবশ্যই দেখা যাবে।
উদাহরণস্বরূপ:
- যদি কোনও জেনের জন্য নির্ধারিত হয় যে, তা থাকলে বৈশিষ্ট্যটি অবশ্যই প্রকাশ পাবে, তবে **অসম্পূর্ণ প্রকটতার কারণে কিছু ব্যক্তিতে সেই বৈশিষ্ট্যটি দেখা যায় না**।
- এই পরিস্থিতিতে, বৈশিষ্ট্যটি "প্রকট" (penetrant), কিন্তু পুরোপুরি নয়, যা মেন্ডেলের সূত্রের প্রত্যাশার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
**সারাংশে:**
- **মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রমের উদাহরণ:**
- **অসম্পূর্ণ প্রকটতা** (Incomplete Penetrance)
- এটি সেই পরিস্থিতি যেখানে জেনোটাইপ থাকলেও ফেনোটাইপ সব সময় প্রকাশ পায় না, যা মেন্ডেলের সূত্রের সরলীকরণকে কিছুটা ব্যাহত করে।
Option A Explanation:
- অসম্পূর্ণ প্রকটতা: এটি একটি জেনেটিক অবস্থা যেখানে দ্বৈত অণুগুলির মধ্যে একটির প্রভাব অন্যটির উপর সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় না। ফলে, হাইব্রিড প্রজন্মে সাধারণত দুইটি পেরেন্টের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে দেখা যায় না, বরং একটি মধ্যবর্তী বা মিশ্র বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
- এই ধরনের প্রকটতার কারণে, জিনোটাইপের অনুপাত সাধারণত ১:2:1 হয়, যেখানে:
- প্রথম সংখ্যা: হোমোজিগাস (প্রথম ধরনের জিনের দুটি অভিন্ন কপি)
- দ্বিতীয় সংখ্যা: হেটেরোজিগাস (দুটি ভিন্ন জিনের কপি)
- তৃতীয় সংখ্যা: আবার হোমোজিগাস (অন্য ধরনের জিনের দুটি অভিন্ন কপি)
- অর্থাৎ, অসম্পূর্ণ প্রকটতার কারণে, হেটেরোজিগাস জেনোটাইপের উপস্থাপনা মধ্যবর্তী প্রকটতার কারণে ১:2:1 অনুপাত সৃষ্টি করে।
Option B Explanation:
প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Recessive Epistasis) বোঝানো হয়:
- অর্থ: এটি একটি জেনেটিক পরিস্থিতি যেখানে একটি জিনের প্রভাব অন্য একটি জিনের উপর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ঢাকা দেয় বা অপ্রকাশ্য করে দেয়।
- প্রভাব: দুইটি বা তার বেশি জিনের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ক থাকলে, কিছু জিনের বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র তখনই প্রকাশ পায় যখন নির্দিষ্ট জিনের দুটো অ্যালেল (উদাহরণস্বরূপ, দুটো recessive অ্যালেল) উপস্থিত থাকে।
- উদাহরণ: কেসের ক্ষেত্রে, যদি কোনো জিনের recessive অ্যালেল (উদাহরণস্বর???প, বর্ণের পরিবর্তন) সক্রিয় হয়, তবে অন্য জিনের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে ঢেকে যায় বা অপ্রকাশ্য হয়।
- প্রভাবের ফলাফল: এই প্রকারের এপিস্ট্যাসিসে, নির্দিষ্ট গুণের জন্য নির্দিষ্ট জিনের ডিপ্লয়মেন্ট বা প্রকাশ ঘটে না যতক্ষণ না recessive অ্যালেল দুটোই উপস্থিত হয়।
Option C Explanation:
এপিস্ট্যাসিস (Epistasis)
- এপিস্ট্যাসিস হলো জেনেটিক ইন্টারঅ্যাকশনের এক প্রকার যেখানে এক জিনের প্রভাব অন্য জিনের প্রকাশের উপর প্রভাব ফেলে।
- এতে একটি জিনের অস্থিরতা বা অভাব অন্য জিনের ফলাফল বা প্রকাশের উপর প্রভাব ফেলে, ফলে সাধারণ জিনোটাইপিক অনুপাত পরিবর্তিত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি জিন অন্য একটি জিনের কার্যকলাপের উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে, তবে ফলস্বরূপ জিনের নির্দিষ্ট প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট জিনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
- এপিস্ট্যাসিসের কারণে সাধারণ 9:3:3:1 বা 1:2:1 ইত্যাদি জিনোটাইপিক অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে অন্য রকম হতে পারে।
Option D Explanation: ```html
- পলিজেনিক ইনহেরিটেন্স: এটি একটি জেনেটিক প্রকারের inheritance যেখানে একাধিক জিন একসাথে কোনো একটি বৈশিষ্ট্য বা রোগের জন্য দায়ী হয়।
- এটি সাধারণত জটিল বা ক্রমবর্ধমান রোগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেমন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, এবং কিছু মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা।
- প্রতিটি জিনের প্রভাব কম হয়, কিন্তু তাদের সমন্বয়ে মোট ফলাফল বেশি হয়।
- এই ধরনের inheritance সাধারণত পরিবেশের প্রভাবের সাথে মিলিত হয়ে ফলাফল সৃষ্টি করে।