মানবদেহে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্তর কয়টি?
সঠিক উত্তরঃ
A.
৩
Explanation:

Another Explanation (5):
এই তিনটি স্তর সম্মিলিতভাবে মানবদেহকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। 💪
মানবদেহে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্তর 🛡️🛡️🛡️
মানবদেহকে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ থেকে রক্ষা করার জন্য একটি জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। নিচে এই স্তরগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:১. প্রথম স্তর: বাহ্যিক প্রতিরক্ষা (External Defense) 🧱
এটি আমাদের শরীরের প্রথম সারির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি রোগজীবাণুগুলোকে শরীরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো: * ত্বক: এটি একটি শক্তিশালী ভৌত বাধা যা জীবাণুগুলোকে শরীরে প্রবেশ করতে দেয় না। 🧫🚫 * মিউকাস মেমব্রেন: নাক, মুখ ও চোখের ভেতরের আবরণে থাকে এবং জীবাণু আটকে ফেলে। 🤧 * শারীরিক তরল: লালা, ঘাম এবং অশ্রু নিঃসরণের মাধ্যমে জীবাণু শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 💧 * রাসায়নিক পদার্থ: ত্বকের অ্যাসিডিক pH এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড জীবাণু ধ্বংস করে। 🔥২. দ্বিতীয় স্তর: অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা (Internal Defense) ⚔️
যদি কোনো জীবাণু প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ভেদ করে শরীরে প্রবেশ করে, তবে দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। এটি একটি সহজাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করে। এর উপাদানগুলো হলো: * ফ্যাগোসাইট: এই কোষগুলো (যেমন ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল) জীবাণুগুলোকে গিলে ফেলে ধ্বংস করে। 😋🦠➡️💥 * প্রদাহ (Inflammation): এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে রক্ত সরবরাহ বাড়িয়ে জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। 🌡️ * জ্বর (Fever): শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে অনেক জীবাণু দুর্বল হয়ে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। 🤒 * প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন: ইন্টারফেরন এবং কমপ্লিমেন্ট প্রোটিন জীবাণু ধ্বংস করে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 🧬৩. তৃতীয় স্তর: অর্জিত প্রতিরক্ষা (Adaptive Defense) 🏹
এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে উন্নত স্তর। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্দিষ্ট প্যাথোজেনকে চিনে তার বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং স্মৃতি তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে। এর প্রধান উপাদানগুলো হলো: * লিম্ফোসাইট: এটি দুই ধরনের - বি কোষ (B cells) এবং টি কোষ (T cells)। 👩🔬 * বি কোষ: অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা জীবাণুকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করে। 🎯 * টি কোষ: সরাসরি জীবাণু ধ্বংস করে অথবা অন্যান্য রোগ প্রতিরোধক কোষকে সক্রিয় করে। 🚀 * অ্যান্টিবডি: এগুলো বিশেষ প্রোটিন যা জীবাণুর সাথে যুক্ত হয়ে তাদের নিষ্ক্রিয় করে। 🔗স্তরগুলোর সারসংক্ষেপ 👇
| স্তর | নাম | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১ম | বাহ্যিক প্রতিরক্ষা | শারীরিক ও রাসায়নিক বাধা | ত্বক, মিউকাস, লালা |
| ২য় | অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা | সহজাত, দ্রুত প্রতিক্রিয়া | ফ্যাগোসাইট, প্রদাহ, জ্বর |
| ৩য় | অর্জিত প্রতিরক্ষা | নির্দিষ্ট, ধীরে ধীরে তৈরি হয় | লিম্ফোসাইট, অ্যান্টিবডি |