নিচের কোনটি প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম?
সঠিক উত্তরঃ
A.
ট্রিপসিন ও কোলাজিনেজ
Explanation:

Another Explanation (5):
প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম: ট্রিপসিন ও কোলাজিনেজ 🧬
প্রোটিন পরিপাক একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে বিভিন্ন এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্রিপসিন ও কোলাজিনেজ এদের মধ্যে অন্যতম। নিচে এই দুটি এনজাইমের কার্যাবলী আলোচনা করা হলো:
ট্রিপসিন 🔪
- উৎপত্তি: অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন রূপে নিঃসৃত হয়।
- সক্রিয়করণ: ক্ষুদ্রান্ত্রের এন্টারোকাইনেস (Enterokinase) নামক এনজাইম ট্রিপসিনোজেনকে সক্রিয় ট্রিপসিনে পরিণত করে।
- কার্যকারিতা:
- পেপটাইড বন্ধন ভেঙে প্রোটিনকে ছোট পেপটাইড ও অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত করে।
- অন্যান্য প্রোটিয়েজ এনজাইমকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।
- লাইসিন (Lysine) ও আর্গিনিন (Arginine) অ্যামিনো অ্যাসিডের কার্বক্সিল প্রান্তের পেপটাইড বন্ধন ভাঙে।
- গুরুত্ব: প্রোটিন পরিপাকে অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা রাখে।
কোলাজিনেজ 🦴
- উৎপত্তি: বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া (যেমন ক্লস্ট্রিডিয়াম), ছত্রাক এবং কিছু প্রাণী কোলাজিনেজ তৈরি করতে পারে।
- কার্যকারিতা:
- কোলাজেন নামক প্রোটিনকে ভাঙে। কোলাজেন ত্বক, হাড়, টেন্ডন এবং অন্যান্য সংযোগকারী টিস্যুর প্রধান উপাদান।
- কোলাজেনের পেপটাইড বন্ধন ভেঙ্গে ছোট পেপটাইডে পরিণত করে।
- গুরুত্ব:
- ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে, কোলাজিনেজ টিস্যু ভেদ করে সংক্রমণ ছড়াতে সাহায্য করে।
- চিকিৎসাক্ষেত্রে, এটি কোলাজেন-সমৃদ্ধ টিস্যু অপসারণে ব্যবহৃত হয়।
ট্রিপসিন ও কোলাজিনেজের মধ্যে পার্থক্য 📊
| বৈশিষ্ট্য | ট্রিপসিন | কোলাজিনেজ |
|---|---|---|
| উৎপত্তি | অগ্ন্যাশয় | ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, কিছু প্রাণী |
| লক্ষ্যবস্তু | প্রোটিন (বিশেষত লাইসিন ও আর্গিনিন যুক্ত পেপটাইড) | কোলাজেন |
| ভূমিকা | খাদ্য পরিপাক | টিস্যু ধ্বংস/পুনর্গঠন, সংক্রমণ বিস্তার (ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে), চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার |
সারসংক্ষেপ 📝
ট্রিপসিন ও কোলাজিনেজ উভয়ই প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম হলেও তাদের উৎস, লক্ষ্যবস্তু ও কার্যাবলী ভিন্ন। ট্রিপসিন খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে, যেখানে কোলাজিনেজ কোলাজেন নামক প্রোটিনকে ভেঙে টিস্যু পুনর্গঠন বা সংক্রমণ বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে।
আশা করি, এই ব্যাখ্যাটি প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে। 😊
আরও জানতে ভিজিট করুন: উইকিপিডিয়া
Option A Explanation:
- ট্রিপসিন: এটি একটি প্রধান প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম, যা প্যাক্রিয়াস থেকে নিঃসৃত হয়। এটি প্রোটিনের পেপটাইড বাঁধন ভাঙায় সাহায্য করে, ফলে ছোট ছোট অ্যামিনো অ্যাসিড বা পেপটাইডে রূপান্তরিত হয়।
- কোলাজিনেজ: এটি একটি প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম নয়। বরং, এটি কোলাজেনের জন্য একটি অ্যাজেনিম হিসেবে কাজ করে, যা মূলত কোষের গাঠনিক কাঠামো বজায় রাখতে সাহায্য করে।
Option B Explanation:
- কাইমোট্রিপসিন:
- একটি প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম যা পেটের ক্ষুদ্রান্ত্রে সক্রিয় হয়।
- প্রোটিন ভেঙে ছোট ছোট পেপটাইডে পরিণত করে।
- পেটের অ্যামাইলে সরাসরি কাজ না করে, এটি ট্রিপসিন জেনারেট করে, যা পরবর্তীতে প্রোটিন ভাঙা কাজ করে।
- ফসফোলাইপেজ:
- এটি একটি লিপাইস, যা ফসফোলিপিডের জটিল গঠনের অংশ।
- প্রধানত ফ্যাট ভাঙার জন্য কাজ করে, অর্থাৎ এটি লিপিড বিপাকের জন্য জাড়িত।
- প্রোটিন ভাঙার কাজ করে না।
Option C Explanation:
- কোলাজিনেজ: এটি একটি প্রোটিন হাইড্রোলাইসিস এজম, যা প্রোটিনের পেপটাইড বন্ড ভাঙতে সাহায্য করে। এটি প্রোটিনকে ছোট ছোট অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে পরিণত করে, ফলে পাচনতন্ত্রে প্রোটিনের পরিপাক সহজ হয়।
- লাইপেজ: যদিও এটি মূলত চর্বি বা ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিপাকের জন্য কাজ করে, এটি ফ্যাটের পরিপাকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে, এটি সরাসরি প্রোটিন ভাঙার জন্য নয়।
Option D Explanation:
- পেপসিন: এটি একটি প্রোটিন পরিপাককারী এনজাইম যা মূলত স্টমকে নিঃসরণ হয়। এটি প্রোটিনগুলোকে ছোট ছোট পেপটাইডে ভেঙে দেয়, ফলে প্রোটিনের পরিপাক সহজ হয়।
- অ্যামাইলেজ: এটি মূলত কার্বোহাইড্রেট পরিপাককারী এনজাইম। এটি মুখের লালা ও অগ্ন্যাশয়ের দ্বারা নিঃসরণ হয় এবং স্টার্চকে মৌলিক শর্করা (সুক্রোজ) এ রূপান্তর করে।