একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া বাবলু ও রবি কলেজ ছুটি শেষে মাঠ দিয়ে অতিক্রম করার সময় দেখলো, কিছু সবুজ রংয়ের পতঙ্গ ঘাসের উপর লাফালাফি করছে।রবি বলল এই পতঙ্গের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ও স্তিমিত আলোতে ভিন্ন ধরনের দর্শন কৌশল দেখা যায়। উদ্দীপকের প্রাণীটির দর্শন কৌশলের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
উজ্জ্বল আলোয় দুটি রঞ্জক আবরণ প্রসারিত হয়

বাবলু ও রবির সবুজ পতঙ্গ: দর্শন কৌশলের ব্যাখ্যা 🌿
বাবলু ও রবি কলেজ থেকে ফেরার পথে ঘাসের উপর কিছু সবুজ পতঙ্গ দেখতে পেল। রবির মতে, এই পতঙ্গগুলোর উজ্জ্বল ও স্তিমিত আলোতে ভিন্ন দর্শন কৌশল বিদ্যমান। নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
উদ্দীপকের প্রাণীটির দর্শন কৌশল: উজ্জ্বল আলো 🔆
আলোর তীব্রতার উপর ভিত্তি করে পতঙ্গটির দর্শন কৌশল পরিবর্তিত হয়। উজ্জ্বল আলোতে যা ঘটে:
- রঞ্জক আবরণ (Pigment Sheath):💡আলোর তীব্রতা বেশি থাকলে রঞ্জক আবরণ প্রসারিত হয়।
- কর্নিয়া (Cornea): 👀কর্নিয়াতে আলো প্রবেশ করে।
- লেন্স (Lens): 👓লেন্স আলোকরশ্মিগুলোকে আরও ফোকাস করে।
- রেটিনুলার কোষ (Retinular Cells): 🧬এগুলো আলো সংবেদী কোষ, যা আলোক সংকেত গ্রহণ করে।
উজ্জ্বল আলোতে দর্শন প্রক্রিয়া:
- আলোকরশ্মি কর্নিয়া ও লেন্সের মাধ্যমে যায়।
- রঞ্জক আবরণ প্রসারিত হওয়ার কারণে আলো সরাসরি রেটিনুলার কোষে পৌঁছায়।
- রেটিনুলার কোষ আলোক সংকেত মস্তিষ্কে পাঠায়, যা আমাদের দর্শনে সাহায্য করে।
স্তিমিত আলোতে দর্শন কৌশল 🌃
আলো কম থাকলে পতঙ্গটির দর্শন কৌশল ভিন্ন হয়:
- রঞ্জক আবরণ: 🌑আলো কম থাকলে রঞ্জক আবরণ সংকুচিত হয়।
- আলোর প্রতিফলন: ✨আলোর স্বল্পতা থাকায় পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে রেটিনুলার কোষে প্রবেশ করে।
স্তিমিত আলোতে দর্শন প্রক্রিয়া:
- আলোকরশ্মি কর্নিয়া ও লেন্সের মাধ্যমে যায়।
- রঞ্জক আবরণ ??ংকুচিত হওয়ার কারণে পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে রেটিনুলার কোষে পৌঁছায়।
- রেটিনুলার কোষ দুর্বল আলোক সংকেত মস্তিষ্কে পাঠায়।
বিভিন্ন প্রকার পতঙ্গের দর্শন কৌশল তুলনামূলক ছক 📊
| বৈশিষ্ট্য | উজ্জ্বল আলো | স্তিমিত আলো |
|---|---|---|
| রঞ্জক আবরণের অবস্থা | প্রসারিত ↔️ | সংকুচিত 縮 |
| আলোর প্রবেশ | সরাসরি ➡️ | প্রতিফলিত ↩️ |
| দৃষ্টি সংবেদনের তীব্রতা | উচ্চ ⬆️ | নিম্ন ⬇️ |
সবুজ পতঙ্গটির এই বিশেষ দর্শন কৌশল তাকে দিনের আলো এবং রাতের অন্ধকারে সমানভাবে দেখতে সাহায্য করে। 🧐
আশা করি, এই ব্যাখ্যা বাবলু ও রবির দেখা সবুজ পতঙ্গের দর্শন কৌশল বুঝতে সাহায্য করবে। 👍
```উজ্জ্বল আলোয় সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে
- এই প্রক্রিয়ায়, যখন আলো খুব উজ্জ্বল হয়, তখন চোখের লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আলো সরাসরি রেটিনার দিকে যায়।
- উজ্জ্বল আলোতে, চোখের লেন্সের মধ্যে থাকা বলয় বা সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব (super position of images) তৈরি হয়।
- এটি মূলত, চোখের অভ্যন্তরীণ অংশে বিভিন্ন স্তর বা স্তরগুলির মধ্যে আলো বা ইমেজের সমন্বয় বা মিলনের মাধ্যমে তৈরি হয়।
- ফলস্বরূপ, এই প্রতিবিম্বের মাধ্যমে চোখের মধ্যে উজ্জ্বল আলো বা দৃশ্যের স্পষ্টতা বৃদ্ধি পায়।
- এটি একটি দর্শন কৌশল, যেখানে উজ্জ্বল আলোতে চিত্র বা অবজেক্টের অভ্যন্তরীণ গঠন বা বৈশিষ্ট্যগুলি সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- অন্য আলো পরিস্থিতির তুলনায়, অনুজ্জ্বল আলোয় প্রতিটি ওমাটিডিয়াম আলাদাভাবে দেখা যায়।
- এটি কারণ, কম আলোতে রং বা রঙের পার্থক্য বেশি স্পষ্ট হয় এবং প্রতিটি ওমাটিডিয়ামের পার্থক্য সহজে বোঝা যায়।
- এটি প্রমাণ করে যে, আলোর পরিমাণ কম থাকলেও, চোখের রিসেপ্টর বা ওমাটিডিয়াম গুলির মধ্যে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বা পার্থক্য রয়েছে।
- অর্থাৎ, এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি ওমাটিডিয়াম আলাদা আলাদা রঙ বা রঙের ছাপ তৈরি করে, যা আমাদের আলাদা করে দেখাতে সক্ষম করে।
- উজ্জ্বল আলোয় দুটি রঞ্জক আবরণ প্রসারিত হয়:
- এই প্রক্রিয়ায়, আলোর প্রভাবের কারণে রঞ্জক আবরণের আকার বা বিস্তার বৃদ্ধি পায়।
- এটি সাধারণত আণবিক স্তরে ঘটে যেখানে আলোর শক্তি রঞ্জক পদার্থের আণবিক গঠন বা বিন্যাসে প্রভাব ফেলে।
- ফলস্বরূপ, রঞ্জক আবরণের রঙ বা দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে পারে, যা দৃষ্টিতে ভিন্ন রকমের দর্শন সৃষ্টি করে।
- সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব-এ লম্ব ভাবে আগত আলোকরশ্মি ওমাটিডিয়ামে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে
- এটি তখন ঘটে যখন আলোকরশ্মি সরাসরি লম্বভাবে বা অর্ধেকের বেশি কোণে অঙ্গপ্রতিবিম্বের উপর আঘাত করে।
- এটি সাধারণত তখন দেখা যায় যখন আলোকরশ্মি ওমাটিডিয়ামের উপর সরাসরি বা লম্বভাবে এসে পড়ে, ফলে ওমাটিডিয়ামের ভেতরে বা ওপর প্রতিবিম্বের সৃষ্টি হয়।
- এটি নির্দিষ্ট কোণে বা পরিস্থিতিতে আলোর প্রতিফলন বা প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে।