মানবদেহের কোথায় গ্লাইকোজেন জমা হয়?
RUUnit-Gজীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রপরিপাক ও শোষণযকৃত ও পিত্তরস (Topic Practice)RU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
C.
যকৃত
Explanation:

Another Explanation (5):
মানবদেহে গ্লাইকোজেন জমা : একটি বিশদ আলোচনা
গ্লাইকোজেন হলো গ্লুকোজের একটি বহুশাখাযুক্ত পলিস্যাকারাইড যা প্রাণী, ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে শক্তির সঞ্চয় রূপে কাজ করে। মানুষের শরীরে গ্লাইকোজেন প্রধানত দুটি অঙ্গে জমা থাকে:
গ্লাইকোজেন জমা হওয়ার স্থান 📍
- যকৃত (লিভার): যকৃতে প্রায় ১০০-১২০ গ্রাম গ্লাইকোজেন জমা থাকে। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, তখন যকৃত গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে এবং রক্তে নির্গত করে। 😮💨
- পেশী: পেশীতে প্রায় ৪০০-৫০০ গ্রাম গ্লাইকোজেন জমা থাকে। পেশীর গ্লাইকোজেন শুধুমাত্র পেশী কোষের জন্য শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি পেশী সংকোচনের সময় দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। 💪
গ্লাইকোজেন জমা হওয়ার প্রক্রিয়া ⚙️
- খাবার গ্রহণের পর, শর্করা ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি হয়।
- ইনসুলিন নামক হরমোন গ্লুকোজকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
- গ্লুকোজ এরপর গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয় এবং যকৃত ও পেশীতে জমা হয়।
গ্লাইকোজেনের গুরুত্ব 💯
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখা। 🩸
- শারীরিক কার্যকলাপের জন্য দ্রুত শক্তি সরবরাহ করা। 🏃♀️
- মস্তিষ্কের জন্য শক্তির উৎস সরবরাহ করা (কিছুটা)। 🧠
গ্লাইকোজেন সম্পর্কিত কিছু তথ্য ℹ️
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জমা হওয়ার পরিমাণ (যকৃত) | ১০০-১২০ গ্রাম |
| জমা হওয়ার পরিমাণ (পেশী) | ৪০০-৫০০ গ্রাম |
| প্রধান কাজ | শক্তির সঞ্চয় এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ |
| জমা হওয়ার প্রক্রিয়া | গ্লাইকোজেনেসিস |
গ্লাইকোজেন সংক্রান্ত সমস্যা 😫
- গ্লাইকোজেন স্টোরেজ ডিজিজ (GSD): এটি একটি বংশগত রোগ, যেখানে গ্লাইকোজেন তৈরি বা ভাঙার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি দেখা যায়।
- ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লাইকোজেন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।
আশা করি, এই আলোচনা থেকে মানবদেহে গ্লাইকোজেন জমা হওয়া সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। 🙏
Option A Explanation:
- অগ্ন্যাশয়: এটি শরীরের মূল অঙ্গ যা ইন্সুলিন এবং অন্যান্য হরমোন উৎপাদনে সহায়ক।
- অগ্ন্যাশয় শরীরের ভিতরে অবস্থিত, সাধারণত পেটের পিছনে থাকে।
- এটি হজমে সহায়ক এন্ট্রোক্রাইন ও এক্সট্রোক্রাইন ফাংশন সম্পাদন করে।
- অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত এনজাইমগুলি হজমে সহায়ক।
Option B Explanation:
পিত্তথলি সম্পর্কে বিবরণ:
- অবস্থান: পিত্তথলি যকৃতের নিচে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র থলি।
- মূল কাজ: এটি যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তকে সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেহে প্রবেশ করায়।
- সংরক্ষণের কারণ: দেহে উদ্দীপ্ত হরমোনের প্রভাব থাকলে, বিশেষ করে খাবার গ্রহণের সময়, পিত্তথলি পিত্তকে মুক্ত করে দেহে প্রবেশ করায়, যেখানে এটি খাদ্য হজমে সহায়ক।
- গ্লাইকোজেনের জমা: পিত্তথলিতে গ্লাইকোজেন জমা হয় না। এটি মূলত লিভার বা যকৃতের কাজ, যেখানে গ্লাইকোজেন সংরক্ষিত থাকে।
Option C Explanation:
- যকৃত হলো শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোর একটি যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদন করে।
- এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- যকৃত গ্লুকোজের সংরক্ষণ ও মুক্তির মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের স্তর স্থিতিশীল রাখে।
- গ্লুকোজের মান কমে গেলে এটি গ্লাইকোজেনের রূপে সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে সেটি মুক্ত করে রক্তে সরবরাহ করে।
- এছাড়াও, যকৃতি বিভিন্ন হরমোনের মাধ্যমে গ্লুকোজের উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
Option D Explanation:
- অস্থি গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ করে না।
- অস্থির মূল উপাদান হাড়ের ম্যাট্রিক্স ও হাড়ের মৌলিক উপাদান, যেমন ক্যালসিয়াম ও ফসফেট।
- গ্লাইকোজেন মূলত লিভার ও পেশীতে সংরক্ষিত হয়, যেখানে এটি শক্তি সংরক্ষণ ও দ্রুত এনার্জি প্রয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হয়।