কোনটি মরুজ উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজনের প্রকারভেদ নয়?
SAUজীববিজ্ঞান প্রথম পত্রজীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষনজীবের অভিযোজন (Topic Practice)SAU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
B.
প্রস্বেদনের হার বেশি
Explanation:

Another Explanation (5):
মরুজ উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজন: একটি বিশ্লেষণ 🌵
মরুজ উদ্ভিদ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য নানাবিধ শরীরবৃত্তীয় কৌশল অবলম্বন করে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন এবং কেন "প্রস্বেদনের হার বেশি" এদের মধ্যে পড়ে না, তা আলোচনা করা হলো:মরুজ উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজনসমূহ 🧬
- ক্ষুদ্রাকার পাতা অথবা পাতার অনুপস্থিতি: 🍃 ছোট পাতা বা কাঁটার মতো পাতা প্রস্বেদন কমিয়ে পানি সাশ্রয় করে।
- ঘন কিউটিকল: 🛡️ পুরু কিউটিকল পাতার উপরিভাগ থেকে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প নির্গমন কমায়।
- গভীর মূলতন্ত্র: 🌿 মাটির গভীরে প্রবেশ করে পানি শোষণ করার জন্য এদের মূলতন্ত্র বেশ বিস্তৃত হয়।
- CAM (Crassulacean Acid Metabolism) চক্র: ☀️ এই প্রক্রিয়ায় রাতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকে এবং দিনের বেলায় বন্ধ থাকে। এর ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ এবং প্রস্বেদন একইসাথে নিয়ন্ত্রিত হয়।
- পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা হ্রাস: 💧 কম সংখ্যক পত্ররন্ধ্র থাকার কারণে প্রস্বেদনের হার কমে যায়।
- পানি সঞ্চয়ের ক্ষমতা: 🫗 কিছু উদ্ভিদ (যেমন ক্যাকটাস) তাদের কাণ্ড বা পাতায় পানি সঞ্চয় করতে পারে।
কেন "প্রস্বেদনের হার বেশি" মরুজ উদ্ভিদের অভিযোজন নয়? ❌
কারণ মরুজ উদ্ভিদের মূল লক্ষ্য হলো পানির অভাব মোকাবেলা করা। প্রস্বেদনের হার বেশি হলে উদ্ভিদ দ্রুত পানি হারাবে এবং পানিশূন্য হয়ে মারা যেতে পারে। তাই, এটি কোনোভাবেই মরুজ উদ্ভিদের জন্য অনুকূল অভিযোজন নয়। বরং, তারা প্রস্বেদন কমিয়ে পানি সংরক্ষণে পারদর্শী।তুলনামূলক বিশ্লেষণ 📊
| বৈশিষ্ট্য | মরুজ উদ্ভিদের অভিযোজন | প্রস্বেদনের হার বেশি (মরুজ উদ্ভিদের জন্য প্রযোজ্য নয়) |
|---|---|---|
| উদ্দেশ্য | পানি সংরক্ষণ 💧 | পানি অপচয় 🌊 |
| ফলাফল | খরার মোকাবেলা 💪 | পানিশূন্যতা 💀 |
| উদাহরণ | ক্যাকটাস, ঘৃতকুমারী 🌵 | সাধারণ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (মরুজ নয়) 🌳 |
উপসংহার 🎉
মরুজ উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজন মূলত পানি সাশ্রয়ী। "প্রস্বেদনের হার বেশি" এক্ষেত্রে একটি বিপরীত বৈশিষ্ট্য, যা মরুজ উদ্ভিদের টিকে থাকার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। সুতরাং, এটি কোনোভাবেই মরুজ উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজনের প্রকারভেদ নয়। 💯Option A Explanation:
- অভিস্রবণিক চাপ বেশি: এই বিষয়টি মরুজ উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজনের প্রকারভেদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
- এটি সাধারণত মরুভূমির উদ্ভিদে দেখা যায় যেখানে পানির অভাবের কারণে অভিস্রবণিক চাপ বেশি হয়।
- অভিস্রবণিক চাপ বলতে বোঝায় উদ্ভিদের কোষের ভিতর এবং বাহিরের মধ্যে পানির চাপের পার্থক্য, যা পানির ক্ষতি বা ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ।
- অধিক অভিস্রবণিক চাপ থাকলে পানির ক্ষয় বৃদ্ধি পায়, যা মরুভূমির পরিবেশে টিকে থাকার জন্য উপযুক্ত নয়।
- অতএব, এই বিষয়টি মরুজ উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজনের প্রকারভেদে অন্তর্ভুক্ত নয়।
Option B Explanation:
- প্রস্বেদনের হার বেশি বলতে বোঝায় যে, জীবের শরীর থেকে পানি বা অন্যান্য তরল পদার্থ অনেক দ্রুত ও ব্যাপকভাবে বের হয়ে যাচ্ছে।
- এটি সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা বা শুষ্ক পরিবেশে জীবের শরীরের পানির ক্ষতি কমানোর জন্য ঘটে।
- মরুজ উদ্ভিদ বা অন্য কোনও উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সাধারণত দেখা যায় না বা খুবই কম হয়, কারণ অতিরিক্ত প্রস্বেদন পানির অপচয় বাড়িয়ে দেয় এবং জীবের টিকে থাকার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- তাই, "প্রস্বেদনের হার বেশি" একটি সাধারণ অভিযোজন প্রকারভেদ নয়, বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর বা অস্বাভাবিক অবস্থা নির্দেশ করে।
Option C Explanation:
- এঞ্জাইমের ক্রিয়া কম মানে হলো এনজাইমের কার্যকলাপ কম হওয়া।
- এটি সাধারণত জীবের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া বা প্রক্রিয়াতে প্রয়োজনীয়।
- প্রতিদিনের প্রক্রিয়াগুলিতে এনজাইমের কার্যকলাপ কম হওয়া স্বাভাবিক নয়, কারণ এটি বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক কাজের জন্য অপরিহার্য।
- মরুজ উদ্ভিদের শরীরের ক্ষেত্রে, যদি এঞ্জাইমের ক্রিয়া কমে যায়, তবে তা পুষ্টি শোষণ, প্রতিরোধ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে।
- অতএব, এটি সাধারণত শারীরবৃত্তীয় অভিযোজনের প্রকারভেদ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
Option D Explanation:
পানির অপচয় কম
- অর্থাৎ, এই অভিযোজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ পানির ক্ষতি বা অপচয় কমিয়ে আনে।
- এটি সাধারণত মরুজ উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় অভিযোজনের একটি বৈশিষ্ট্য নয়।
- অন্য অভিযোজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ জল ধরে রাখার বা ক্ষয় রোধ করার জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে, কিন্তু "পানির অপচয় কম" এই বিষয়টি সরাসরি একটি অভিযোজনের প্রকারভেদ নয়।
- সাধারণত, পানির অপচয় কমানোর জন্য মরুজ উদ্ভিদগুলি বিভিন্ন শারীরিক ও রাসায়নিক পরিবর্তন করে, যেমন ঝরঝরে পাতা বা ঝুরা ফল, যা জল ক্ষয় কমায়।