অগ্ন্যাশয় হতে নিঃসৃত হরমোন নয় কোনটি?
অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত হরমোন এবং গ্যাস্ট্রিনের ভূমিকা
অগ্ন্যাশয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যা বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে আমাদের শরীরের বিপাকীয় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অগ্ন্যাশয় থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসৃত হয়, যাদের প্রত্যেকটির নিজস্ব কাজ আছে। নিচে এই হরমোনগুলো এবং গ্যাস্ট্রিন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত প্রধান হরমোনসমূহ:
- ইনসুলিন 💉: এটি অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কোষগুলোকে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে উৎসাহিত করে এবং গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিভার ও মাংসপেশীতে গ্লুকোজ জমা করতে সাহায্য করে।
- গ্লুকাগন ⬆️: এটি অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। লিভারে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে রক্তে মেশাতে সাহায্য করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস)।
- সোমাটোস্ট্যাটিন 🛑: এটি অগ্ন্যাশয়ের ডেল্টা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের নিঃসরণকে বাধা দেয়। এছাড়াও, এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের অন্যান্য হরমোনের নিঃসরণ এবং পরিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।
- প্যানক্রিয়াটিক পলিপেপটাইড (PP) 🍜: এটি অগ্ন্যাশয়ের পিপি কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। এটি খাদ্য গ্রহণ এবং হজম প্রক্রিয়ায় জড়িত। এটি গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণ কমায়, অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অন্ত্রের নড়াচড়াকে প্রভাবিত করে।
গ্যাস্ট্রিন:
গ্যাস্ট্রিন একটি পেপটাইড হরমোন যা পাকস্থলীর জি কোষ (G cells) থেকে নিঃসৃত হয়। এটি মূলত পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং পেপসিনোজেন নিঃসরণে উদ্দীপনা যোগায়, যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে। এছাড়াও, গ্যাস্ট্রিন পাকস্থলীর নড়াচড়াকে (motility) বাড়িয়ে দেয় এবং পাকস্থলীর শ্লেষ্মা ঝিল্লির (mucosal) বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। গ্যাস্ট্রিন অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয় না।
অগ্ন্যাশয় এবং গ্যাস্ট্রিনের মধ্যে পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত হরমোন | গ্যাস্ট্রিন |
|---|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | অগ্ন্যাশয় (আলফা, বিটা, ডেল্টা ও পিপি কোষ) | পাকস্থলীর জি কোষ |
| প্রধান কাজ | রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ | পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ এবং হজমে সাহায্য করা |
| উদাহরণ | ইনসুলিন, গ্লুকাগন, সোমাটোস্ট্যাটিন, প্যানক্রিয়াটিক পলিপেপটাইড | গ্যাস্ট্রিন (নিজেই) |
সুতরাং, গ্যাস্ট্রিন অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন নয়। এটি পাকস্থলীর হরমোন। 😃
আশা করি, এই ব্যাখ্যাটি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে। 😊
```- গ্লুকাগণ হলো একটি হরমোন যা মূলত লিভার থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ানোর জন্য কাজ করে।
- এটি সাধারণত ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গ্লুকাগণের মাধ্যমে গ্লুকোজের মুক্তি বৃদ্ধি পায়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ে।
- এটি খাদ্য পরিপাক বা হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
- অন্য হরমোন যেমন গ্যাস্ট্রিন, সিক্রেটিন, ইনসুলিন খাদ্য পরিপাকের বিভিন্ন পর্যায়ে ভূমিকা রাখে।
- অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline): এটি মূলত একটি স্ট্রেস হরমোন যা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসরণ হয়।
- এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রভাব ফেলে যেমন হার্টের গতি বাড়ানো, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত করা, এবং রক্তের ধমনীগুলির সংকোচন ঘটানো।
- তবে, রক্তে Na+ ও K+ এর সমতা রক্ষায় এড্রেনালিনের সরাসরি ভূমিকা কম।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে, Na+ ও K+ এর সমতা নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে অ্যালডোস্টেরন হরমোনটি।
- গ্যাস্ট্রিন: এটি একটি হরমোন যা প্রধানত পাকস্থলীতে উৎপন্ন হয়।
- এর মূল কাজ হলো পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়ানো, যা খাবার হজমে সহায়ক।
- এটি পাচনতন্ত্রে খাদ্য গঠনে সহায়তা করে এবং পেটের উপকারে আসে।
- গ্যাস্ট্রিনের সঠিক মাত্রা বজায় থাকলে হজম প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলে এবং অঙ্গপ্রতঙ্গের কার্যক্রম সুনিয়ন্ত্রিত হয়।
- ইনসুলিন: এটি একটি হরমোন যা মূলত অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়। এর কাজ হলো রক্তে শর্করা (গ্লুকোজ) এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।
- প্রধানতঃ এটি শরীরের গ্লুকোজ ব্যবহার বা সংরক্ষণে সহায়ক, রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ার সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দিতে পারে, তবে এটি রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজন হয় না।