কোন কণার সাহায্যে রাদারফোর্ড বিচ্ছুরণ পরীক্ষা করেন?
সঠিক উত্তরঃ
A.
α
Explanation:

Another Explanation (5):
রাদারফোর্ড বিচ্ছুরণ পরীক্ষা: আলফা কণার ব্যবহার ⚛️
রাদারফোর্ডের বিচ্ছুরণ পরীক্ষাটি পরমাণুর গঠন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দিয়েছে। এই পরীক্ষাটি করার জন্য রাদারফোর্ড একটি বিশেষ কণা ব্যবহার করেছিলেন, যা হলো আলফা কণা (α-particle)। নিচে এই পরীক্ষা এবং আলফা কণার ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
আলফা কণা কী? 🤔
- আলফা কণা হলো হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (He2+)।
- এতে দুটি প্রোটন এবং দুটি নিউট্রন থাকে।
- আলফা কণা ধনাত্মক চার্জযুক্ত (+2e)।
- এটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়। ☢️
- আলফা কণার ভর ইলেকট্রনের ভরের চেয়ে প্রায় ৭৩০০ গুণ বেশি।
- এর ভেদন ক্ষমতা কম কিন্তু আয়ন সৃষ্টিকারী ক্ষমতা বেশি।
পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য 🎯
এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- পরমাণুর অভ্যন্তরে ধনাত্মক চার্জ কীভাবে বণ্টিত আছে তা জানা।
- পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া।
পরীক্ষার পদ্ধতি 🧪
রাদারফোর্ড একটি সোনার পাতের (Gold Foil) ওপর আলফা কণা নিক্ষেপ করেন। সোনার পাতটি খুবই পাতলা ছিল (প্রায় 10-6 মিটার)।
- একটি তেজস্ক্রিয় উৎস থেকে নির্গত আলফা কণা একটি সোনার পাতের দিকে চালনা করা হলো।
- সোনার পাতের চারদিকে একটি জিংক সালফাইড (ZnS) পর্দা স্থাপন করা হলো, যা আলফা কণা দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হলে আলোক ঝলক সৃষ্টি করে। 💡
পর্যবেক্ষণ 🔭
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়:
- অধিকাংশ আলফা কণা সোনার পাত ভেদ করে সরাসরি চলে যায়। ➡️
- কিছু কণা সামান্য কোণে বিক্ষিপ্ত হয়। ↩️
- অত্যন্ত অল্প সংখ্যক কণা (প্রায় ২০,০০০ টির মধ্যে ১টি) যে পথে এসেছিল, প্রায় সেই পথেই ফিরে আসে। 🔙
ফলাফল ও ব্যাখ্যা 💡
রাদারফোর্ড এই পর্যবেক্ষণ থেকে সিদ্ধান্তে আসেন:
- পরমাণুর বেশিরভাগ স্থানই ফাঁকা। 🌌
- পরমাণুর ভেতরের ধনাত্মক চার্জ এবং ভর একটি ক্ষুদ্র স্থানে কেন্দ্রীভূত থাকে, যাকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। ☢️
- নিউক্লিয়াসের আকার পরমাণুর আকারের তুলনায় খুবই ছোট।
আলফা কণা ব্যবহারের কারণ 🤔
আলফা কণা ব্যবহারের প্রধান কারণগুলো হলো:
- আলফা কণার ভর বেশি হওয়ায় এটি সরাসরি সোনার পাত ভেদ করে যেতে পারে, যা থেকে পরমাণুর ভেতরের গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
- আলফা কণা ধনাত্মক চার্জযুক্ত হওয়ায় এটি নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জ দ্বারা বিকর্ষিত হয়, যা বিক্ষেপণ (scattering) এর মাধ্যমে নিউক্লিয়াসের অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করে।
- আলফা কণা সহজেই শনাক্ত করা যায় (যেমন: জিংক সালফাইড পর্দার মাধ্যমে)।
ফলাফল 📊
| পর্যবেক্ষণ | সিদ্ধান্ত |
|---|---|
| অধিকাংশ কণা সোজা চলে যায় | পরমাণুর বেশিরভাগ স্থান ফাঁকা |
| কিছু কণা বেঁকে যায় | নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক চার্জ আছে |
| খুব কম কণা ফিরে আসে | নিউক্লিয়াসের ভর অনেক বেশি এবং এটি ক্ষুদ্র স্থানে অবস্থিত |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ℹ️
- এই পরীক্ষাটি ১৯১১ সালে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড এবং তার সহকর্মীরা করেন।
- এই পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত মডেলটি রাদারফোর্ড মডেল নামে পরিচিত।
- রাদারফোর্ড মডেল পরবর্তীতে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে আরও উন্নত ধারণা দেয়।
আশা করি, এই ব্যাখ্যা রাদারফোর্ড বিচ্ছুরণ পরীক্ষা এবং আলফা কণার ব্যবহার সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে। 😊