“মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি”- কাদের জীবনীশক্তি?

“মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি”- কাদের জীবনীশক্তি?
- বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের (Incorrect)
- বুড়ি ও তার পাতানো মেয়ের (Incorrect)
- মাসি-পিসির (Correct)
- অনুপম ও তার মায়ের (Incorrect)
ব্যাখ্যা
উদ্ধৃত লাইনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প "মাসি-পিসি" থেকে নেওয়া হয়েছে। গল্পটি ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে রচিত, যখন বাংলায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল এবং বহু মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছিল।
গল্পে মাসি ও পিসি নামের দুটি বিধবা নারী তাদের সামান্য সম্বল এবং মনোবল দিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে। দুর্ভিক্ষের চরম পরিস্থিতিতে, যখন চারদিকে মৃত্যু ও ধ্বংসের বিভীষিকা, তখন তারা শুধু নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। তাদের সমস্ত শক্তি ও সময় নিজেদের বাঁচানোর কঠিন সংগ্রামে ব্যয় হয়।
লেখক এই লাইনটির মাধ্যমে মাসি ও পিসির সেই কঠিন জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরেছেন, যেখানে বেঁচে থাকাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং জীবনের অন্য কোনো স্বাভাবিক চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ ছিল না। দুর্ভিক্ষের কারণে তাদের জীবনীশক্তি ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে আসছিল, কারণ তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিল।
বিকল্পগুলোর বিশ্লেষণ
এখন আমরা বিকল্পগুলো বিশ্লেষণ করে দেখব কোনটি সঠিক:
- বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের: বিলাসী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত গল্পের চরিত্র, যেখানে দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপট নেই।
- বুড়ি ও তার পাতানো মেয়ের: এই চরিত্রগুলো কোনো নির্দিষ্ট গল্পে দুর্ভিক্ষের শিকার হিসেবে পরিচিত নয়।
- মাসি-পিসির: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের "মাসি-পিসি" গল্পের প্রধান চরিত্র এবং দুর্ভিক্ষের শিকার। তাদের জীবন বাঁচানোর সংগ্রামই এখানে মূল বিষয়।
- অনুপম ও তার মায়ের: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর???র "অপরিচিতা" গল্পের চরিত্র, যেখানে দুর্ভিক্ষের কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই।
সিদ্ধান্ত
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, "মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি" - এই উক্তিটি মাসি ও পিসির জীবন সম্পর্কে প্রযোজ্য, যারা দুর্ভিক্ষের সময় নিজেদের বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করছিল।
সঠিক উত্তর: C. মাসি-পিসির