প্রকৃত চোয়াল ও জোড় উপাঙ্গবিহীন এবং তরুণাস্থিময় মৎস্যগোষ্ঠী কোন শ্রেণির অন্তর্গত?
জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রপ্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাসChordata পর্বের শ্রেণীবিন্যাস (Topic Practice)
সঠিক উত্তরঃ
B.
Chondrichthyes
Explanation:

Another Explanation (5):
প্রকৃত চোয়াল ও জোড় উপাঙ্গবিহীন তরুণাস্থিময় মৎস্যগোষ্ঠী: কনড্রিকথিস শ্রেণী 🦈
কনড্রিকথিস (Chondrichthyes) শ্রেণীটি তরুণাস্থিযুক্ত মাছদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দল। এদের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- তরুণাস্থিময় কঙ্কাল: এদের কঙ্কালতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে তরুণাস্থি (cartilage) দ্বারা গঠিত, যা এদের হালকা ও নমনীয় করে। 🦴
- চোয়ালের অনুপস্থিতি: এই মাছগুলোর মধ্যে প্রকৃত চোয়াল (true jaw) অনুপস্থিত। 🚫👄
- জোড় উপাঙ্গের অভাব: এদের জোড় উপাঙ্গ (paired appendages) থাকে না অথবা দুর্বলভাবে গঠিত। 🚫🖐️
- ত্বকে প্ল্যাকয়েড আঁশ: এদের ত্বক প্ল্যাকয়েড (placoid) নামক ক্ষুদ্র আঁশ দ্বারা আবৃত, যা অনেকটা দাঁতের মতো শক্ত। 🦷
- ফুলকা ছিদ্র: সাধারণত ৫-৭ জোড়া ফুলকা ছিদ্র (gill slits) থাকে, যা operculum দ্বারা ঢাকা থাকে না। 🌬️
- পায়ুছিদ্র: এদের পায়ুছিদ্র (cloaca) বিদ্যমান।
- স্পাইরাকল: কিছু প্রজাতির স্পাইরাকল (spiracle) নামক শ্বাসছিদ্র থাকে।
শ্রেণীবিভাগ:
কনড্রিকথিস শ্রেণীকে সাধারণত দুটি উপশ্রেণীতে ভাগ করা হয়:
- Elasmobranchii: হাঙর (shark), রে (ray) ইত্যাদি এই উপশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এদের ফুলকা ছিদ্রগুলো আলাদাভাবে দেখা যায়।
- Holocephali: এদের মধ্যে কাইমেরা (chimaera) নামক মাছেরা অন্তর্ভুক্ত। এদের ফুলকা ছিদ্র একটি operculum দ্বারা ঢাকা থাকে।
তুলনামূলক ছক:
| বৈশিষ্ট্য | কনড্রিকথিস (Chondrichthyes) |
|---|---|
| কঙ্কাল | তরুণাস্থিময় (Cartilaginous) |
| চোয়াল | অনুপস্থিত |
| জোড় উপাঙ্গ | অনুপস্থিত অথবা দুর্বলভাবে গঠিত |
| আঁশ | প্ল্যাকয়েড (Placoid) |
| ফুলকা ছিদ্র | ৫-৭ জোড়া, operculum বিহীন |
গুরুত্ব:
কনড্রিকথিস শ্রেণীর মাছেরা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এরা খাদ্য শৃঙ্খলে শিকারী এবং মৃতভোজী হিসেবে ভূমিকা রাখে। হাঙর এবং রে জাতীয় মাছেরা অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এদের মাংস, লিভার অয়েল এবং চামড়া ব্যবহার করা হয়। 💰
উদাহরণ:
- হাঙ্গর (Shark) 🦈
- রে (Ray) 🐡
- কাইমেরা (Chimaera) 👻
আশা করি, এই ব্যাখ্যাটি কনড্রিকথিস শ্রেণী সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে। 😊
Option A Explanation:
- Cephalaspidomorphi (সেফালাস্পিডোমৰ্ফি):
- একটি প্রাচীন মাছের শ্রেণী, যা সাধারণত লোচ বা জলযাত্রা মাছ হিসেবে পরিচিত।
- এদের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- প্রকৃত চোয়াল ও জোড় উপাঙ্গ নেই।
- তরুণাস্থিময় বা লেজের অংশে অঙ্গবিশিষ্ট।
- মূলত: অপ্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাথমিক স্তরে থাকা মাছ।
- এরা মূলতঃ আধুনিক মাছের থেকে আলাদা এবং প্রাচীন মাছের শ্রেণীভুক্ত।
- উদ??হরণস্বরূপ: লম্বা, সরু দেহবিশিষ্ট জলজ মাছ।
Option B Explanation:
- Chondrichthyes: এই ক্লাসের প্রাণীগুলি মূলত শার্ক, ইলিশ ও রেথার মতো জেলি-সামৃদ্ধ মাছের অন্তর্ভুক্ত।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- শরীরের কাঠামো: কার্টিলেজের মতো কঙ্কাল, হাড় নয়।
- দাঁত: শক্তিশালী ও পরিবর্তনশীল, খাদ্যগ্রহণে সহায়ক।
- চোখ ও চেহারা: সুচারু দৃষ্টি ও দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
- প্রজনন: প্রজনন প্রক্রিয়া অনেকটাই ভিন্ন, কিছু মাছ সরাসরি ডিম পাড়ে, আবার কিছু সরাসরি বাচ্চা জন্ম দেয়।
- অন্য নাম: এই ক্লাসটি সাধারণত "কার্টিলেজিয়াস মাছ" বা "চন্দ্রিমুখ মাছ" হিসেবেও পরিচিত।
Option C Explanation:
- অ্যাকটিনোপটারিজি (Actinopterygii): এই শ্রেণীটি মূলত পাখির মতো মাছ বা রেডিওফোরসের গোষ্ঠী, যা মূলত জলজ প্রাণী।
- প্রাণীর গঠন: এই শ্রেণীর মাছের প্রধান্য বৈশিষ্ট্য হলো তাদের সরু, পাখির মতো প্রান্তবিশিষ্ট ফ্ল্যাপ বা পাখা (ফ্লিপার) যা মাছের চলাচলে সহায়ক।
- প্রজনন: এই মাছের প্রজনন প্রায়ই স্পার্ম ও ডিমের মাধ্যমে হয়।
- বৈচিত্র্য: অ্যাকটিনোপটারিজি খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ, এটি বিশ্বের জলজ জীববৈচিত্র্যের একটি বৃহৎ অংশ।
- উদাহরণ: ক্যাটফিশ, শ্রিম্প, সীলফিশ ইত্যাদি এই শ্রেণীর মধ্যে পড়ে।
Option D Explanation:
- সার্কোপটারিগি (Sarcopterygii): এটি একটি শ্রেণি যা মূলত লম্বা, পাখনাযুক্ত মাছগুলোকে বোঝায়।
- এই শ্রেণির মাছগুলোর পাখনাগুলো মূলত লম্বা এবং স্নায়ুবিষয়কভাবে শক্তিশালী, যা ভবিষ্যতে টেরাপোড বা লেজযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সার্কোপটারিগি শ্রেণির মধ্যে প্রাচীন মাছ যেমন লোচ, সিলুরা ও রেকুইন অন্তর্ভুক্ত।
- এই প্রাণীগুলোর শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ফুসফুসের মতো অঙ্গের বিকাশ হয়, যা জল ও স্থলে জীবনযাত্রার জন্য উপযুক্ত।
- সার্কোপটারিগির মধ্যে কিছু প্রজাতি সাঁতার কাটার জন্য পাখনাগুলির গঠন ও কার্যক্ষমতায় উন্নত।