মানবদেহে ম্যালেরিয়ার চক্রকে কি বলে?
NursingBSCজীববিজ্ঞান প্রথম পত্রঅণুজীবম্যালেরিয়া পরজীবী (Topic Practice)Nursing - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
সঠিক উত্তরঃ
A.
সাইজোগনি
Explanation:

Another Explanation (5):
মানবদেহে ম্যালেরিয়ার সাইজোগনি চক্র 🦟
ম্যালেরিয়া একটি মারাত্মক রোগ যা প্লাজমোডিয়াম নামক পরজীবীর মাধ্যমে ছড়ায়। এই পরজীবী মশার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে এবং জটিল জীবনচক্র সম্পন্ন করে। মানবদেহে ম্যালেরিয়ার এই চক্রটি সাইজোগনি নামে পরিচিত।
সাইজোগনি: পর্যায়ক্রমিক ঘটনা 🔄
সাইজোগনি প্রধানত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
- যকৃতের সাইজোগনি (Hepatic Schizogony):
- সংক্রমিত মশা 💉 কামড়??নোর পর স্পোরোজয়েট (sporozoites) রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে।
- স্পোরোজয়েটগুলো দ্রুত যকৃত কোষে (liver cells) প্রবেশ করে।
- যকৃতের অভ্যন্তরে, স্পোরোজয়েটগুলো মেরোজয়েটে (merozoites) পরিণত হয়। এই পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
- যকৃত কোষ ফেটে যায় এবং মেরোজয়েটগুলো রক্ত প্রবাহে নির্গত হয়।
- সময়কাল: প্রায় ১-২ সপ্তাহ ⏳
- রক্তের সাইজোগনি (Erythrocytic Schizogony):
- মেরোজয়েটগুলো লোহিত রক্তকণিকাকে (red blood cells) আক্রমণ করে।
- লোহিত রক্তকণিকার অভ্যন্তরে, মেরোজয়েটগুলো ট্রফোেজয়েট (trophozoites) এবং পরে সাইজন্টে (schizonts) পরিণত হয়।
- সাইজন্টগুলো বিভাজিত হয়ে আরও মেরোজয়েট তৈরি করে।
- আক্রান্ত লোহিত রক্তকণিকাগুলো ফেটে যায়, মেরোজয়েটগুলো নির্গত হয় এবং নতুন লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে। এই চক্রটি চলতে থাকে।
- লোহিত রক্তকণিকা ফেটে যাওয়ার সময় জ্বর, কাঁপুনি এবং অন্যান্য ম্যালেরিয়ার লক্ষণগুলো দেখা যায় 🤒.
- কিছু মেরোজয়েট গ্যামেটোসাইটে (gametocytes) বিকশিত হয়, যা মশার দেহে প্রবেশ করে ম্যালেরিয়ার জীবনচক্রের পরবর্তী ধাপ শুরু করে।
- সময়কাল: ৪৮-৭২ ঘণ্টা ( species এর উপর নির্ভর করে) ⏱️
সাইজোগনি চক্রের সংক্ষিপ্তসার 📊
| পর্যায় | স্থান | ঘটনা | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| যকৃতের সাইজোগনি | যকৃত কোষ | স্পোরোজয়েট থেকে মেরোজয়েট গঠন | মেরোজয়েট রক্তে নির্গত |
| রক্তের সাইজোগনি | লোহিত রক্তকণিকা | মেরোজয়েট থেকে ট্রফোেজয়েট, সাইজন্ট এবং পুনরায় মেরোজয়েট গঠন | লোহিত রক্তকণিকা ফেটে যাওয়া এবং ম্যালেরিয়ার লক্ষণ প্রকাশ |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী 📌
- সাইজোগনি ম্যালেরিয়া পরজীবীর বংশবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
- এই চক্রের প্রতিটি ধাপ ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ এবং রোগের অগ্রগতিতে অবদান রাখে।
- ম্যালেরিয়ার ওষুধগুলো সাইজোগনির বিভিন্ন পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করে পরজীবীর বৃদ্ধিকে বাধা দেয়।
- ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি 🛡️।
আশা করি এই ব্যাখ্যাটি মানবদেহে ম্যালেরিয়ার সাইজোগনি চক্র সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে পেরেছে। 🙏