অনুচ্ছেদটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর (ক-ঙ) উত্তর দাও।
চিরকাল গলার স্বর আমার কাছে বড়ো সত্য। রূপ জিনিসটি বড়ো কম নয়, কিন্তু মানুষের মধ্যে যাহা অন্তরতম এবং অনির্বচনীয়, আমার মনে হয় কণ্ঠস্বর যেন তারই চেহারা। আমি তাড়াতাড়ি গাড়িতে জানালা খুলিয়া বাহিরে মুখ বাড়াইয়া দিলাম, কিছুই দেখিলাম না। প্লাটফর্মের অন্ধকারে দাঁড়াইয়া গার্ড তাহার একচক্ষু লণ্ঠন নাড়িয়া দিল, গাড়ি চলিল: আমি জানালার কাছে বসিয়া রহিলাম। আমার চোখের সামনে কোন মূর্তি ছিল না, কিন্তু হৃদয়ের মধ্যে আমি একটি হৃদয়ের রূপ দেখিতে লাগিলাম। সে যেন এই তারাময়ী রাত্রির মতো, আবৃত করিয়া ধরে কিন্তু তাহাকে ধরিতে পারা যায় না। গুগো সুর, অচেনা কন্ঠের সুর, এক নিমেষে তুমি যে আমার চিরপরিচয়ের আসনটির উপরে আসিয়া বসিয়াছ। কী আশ্চর্য পরিপূর্ণ তুমি- চঞ্চল কালোর ক্ষুদ্র হৃদয়ের উপরে ফুলটির মতো ফুটিয়াছ, অথচ তার ঢেউ লাগিয়া একটি পাপড়িও টলে নাই, অপরিমেয় কোমলতায় এতটুকু দাগ পড়ে নাই ।
ক) 'অন্তরতম' ও 'অনির্বচনীয়' শব্দ দুটির মাধ্যমে কথক কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করেছেন?
খ) 'একচক্ষু নন্ঠন' বলতে কী বোখানো হয়েছে?
গ)‘সে যেন এই তারাময়ী রাত্রির মতো'- উক্তিটির তাৎপর্য কী?
ঘ) কখন কাকে 'তুমি' সম্বোধন করেছে?
ঙ) অনুচ্ছেদটিতে কণ্ঠস্বরকে কীভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে ?


