স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আকার পীড়ন ও আকার বিকৃতির অনুপাত হচ্ছে-
দৃঢ়তার গুনাঙ্ক


স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আকার পীড়ন ও আকার বিকৃতির অনুপাত: দৃঢ়তার গুণাঙ্ক
কোনো বস্তুর উপর বাহ্যিক বল প্রয়োগ করলে এর আকার বা আকৃতির পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের ফলে বস্তুর মধ্যে পীড়ন (Stress) এবং বিকৃতি (Strain) সৃষ্টি হয়। স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে, পীড়ন এবং বিকৃতির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান।
দৃঢ়তার গুণাঙ্ক (Modulus of Rigidity):
📏📐 স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে, আকার পীড়ন (Tangential Stress) এবং আকার বিকৃতির (Shear Strain) অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা, যাকে দৃঢ়তার গুণাঙ্ক বলা হয়। একে সাধারণত G বা η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
গাণিতিকভাবে, দৃঢ়তার গুণাঙ্ক:
G = \(\frac{\text{আকার পীড়ন}}{\text{আকার বিকৃতি}}\) = \(\frac{\tau}{\gamma}\)
যেখানে,
- τ (টাউ) = আকার পীড়ন (Tangential Stress)
- γ (গামা) = আকার বিকৃতি (Shear Strain)
দৃঢ়তার গুণাঙ্কের বৈশিষ্ট্য:
- এটি শুধুমাত্র কঠিন পদার্থের জন্য প্রযোজ্য। 🧊
- দৃঢ়তার গুণাঙ্কের মান বস্তুর উপাদানের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 🧱
- এর SI একক হলো প্যাসকেল (Pa) বা নিউটন প্রতি বর্গমিটার (N/m²)। 単位
- দৃঢ়তার গুণাঙ্ক যত বেশি, বস্তুটি তত বেশি দৃঢ়। 💪
বিভিন্ন উপাদানের দৃঢ়তার গুণাঙ্ক (approximate values):
| উপাদান | দৃঢ়তার গুণাঙ্ক (GPa) |
|---|---|
| ইস্পাত (Steel) | 80 |
| অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium) | 25 |
| তামা (Copper) | 42 |
| রাবার (Rubber) | 0.0006 |
আকার পীড়ন এবং আকার বিকৃতি:
- আকার পীড়ন (Tangential Stress): কোনো বস্তুর পৃষ্ঠের সমান্তরালে প্রযুক্ত বলের কারণে যে পীড়ন সৃষ্টি হয়, তাকে আকার পীড়ন বলে। ↔️
- আকার বিকৃতি (Shear Strain): আকার পীড়নের প্রভাবে বস্তুর আকারের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে আকার বিকৃতি বলে। ∆📐
ব্যবহারিক উদাহরণ:
⚙️🔧 একটি ধাতব পাতের উপর তির্যকভাবে বল প্রয়োগ করলে, পাতের আকার পরিবর্তিত হয়। এই ক্ষেত্রে, দৃঢ়তার গুণাঙ্ক ব্যবহার করে পাতের স্থিতিস্থাপকতা এবং দৃঢ়তা পরিমাপ করা যায়।
📚📖আশা করি, এই ব্যাখ্যা থেকে দৃঢ়তার গুণাঙ্ক সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট হয়েছে। Happy learning! 😊
```