প্রিজমে কোন বর্ণের বিচ্যুতি সবচেয়ে কম?
লাল কারন তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
প্রিজমে আলোর বিচ্যুতি: লাল বর্ণের বিচ্যুতি কেন কম? 🌈
আলোকরশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এর দিক পরিবর্তিত হয়। এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। প্রিজমের ক্ষেত্রে, আলো যখন প্রিজমের কাঁচের মধ্যে দিয়ে যায়, তখন দুইবার প্রতিসরণের ফলে আলোর বিচ্যুতি ঘটে। বিভিন্ন বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ভিন্ন হওয়ার কারণে তাদের বিচ্যুতির পরিমাণেও ভিন্নতা দেখা যায়।
আলোর বিচ্যুতি এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য
- বিভিন্?? বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ভিন্ন ভিন্ন।
- বেগুনি রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম (~৩৮০-৪৫০ ন্যানোমিটার)।
- লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি (~৬২০-৭৫০ ন্যানোমিটার)।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার বিচ্যুতি তত কম।
বিচ্যুতির কারণ 🧐
আলোর বিচ্যুতি আলোর প্রতিসরাঙ্কের উপর নির্ভরশীল। কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক আলোর বর্ণের উপর নির্ভর করে। সাধারণত, কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকরশ্মি বেশি বেঁকে যায়।
প্রিজমের ক্ষেত্রে ঘটনা
প্রিজমের ক্ষেত্রে, লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় এর প্রতিসরণ কম হয়। ফলে এর বিচ্যুতিও কম হয়। অন্যদিকে, বেগুনী রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় এর প্রতিসরণ বেশি হয় এবং বিচ্যুতিও বেশি হয়।
বর্ণালীর ক্রম
প্রিজমের মাধ্যমে আলো প্রতিসরণের পর যে বর্ণালী তৈরি হয়, সেখানে বর্ণগুলো নিম্নলিখিত ক্রমে থাকে:
- বেগুনি (Violet) 🍇
- নীল (Indigo) 💙
- আকাশী (Blue) 💧
- সবুজ (Green) 🍀
- হলুদ (Yellow) 💛
- কমলা (Orange) 🧡
- লাল (Red) ❤️
ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ 👇
| বর্ণ | তরঙ্গদৈর্ঘ্য | বিচ্যুতি |
|---|---|---|
| লাল | বেশি | কম |
| বেগুনি | কম | বেশি |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 💡
- আলোর বিচ্যুতি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে ব্যস্তানুপাতিক।
- প্রিজমের প্রতিসরণ ক্ষমতা বিভিন্ন বর্ণের আলোর জন্য বিভিন্ন।
- বর্ণালীতে লাল বর্ণের আলো সবচেয়ে কম বেঁকে যায়।
আশা করি, এই ব্যাখ্যা থেকে প্রিজমে লাল বর্ণের আলোর বিচ্যুতি কম হওয়ার কারণ স্পষ্ট হয়েছে। 😊