গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন যুক্ত হলে যে শক্তির পরিবর্তন হয় তাকে কি বলে?
গ্যাসীয় অবস্থায় প্রথম ইলেকট্রন আসক্তি (First Electron Affinity)
গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন যুক্ত হয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়ন (anion) তৈরির সময় যে শক্তির পরিবর্তন হয়, তাকে প্রথম ইলেকট্রন আসক্তি বলে। ⚛️
বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- এটি একটি তাপীয় পরিবর্তন। 🔥
- সাধারণত, ইলেকট্রন আসক্তির মান ঋণাত্মক হয়, কারণ শক্তি নির্গত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ধনাত্মকও হতে পারে। ➕/➖
- পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে সাধারণত ইলেকট্রন আসক্তি বৃদ্ধি পায়। ➡️
- গ্রুপের উপর থেকে নিচে সাধারণত ইলেকট্রন আসক্তি হ্রাস পায়। ⬇️
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ইলেকট্রন আসক্তি প্রায় শূন্য। 😴
সংজ্ঞা:
ΔH = -ve হলে প্রক্রিয়াটি তাপমোচী (Exothermic) এবং ΔH = +ve হলে প্রক্রিয়াটি তাপগ্রাহী (Endothermic)।
ব্যাপারটা একটা উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক:
O(g) + e⁻ → O⁻(g); ΔH = -141 kJ/mol ⚡
এখানে, গ্যাসীয় অক্সিজেন পরমাণুতে একটি ইলেকট্রন যুক্ত হয়ে গ্যাসীয় ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হওয়ার সময় 141 kJ/mol শক্তি নির্গত হয়। সুতরাং, অক্সিজেনের প্রথম ইলেকট্রন আসক্তি -141 kJ/mol।
ইলেকট্রন আসক্তিকে প্রভাবিত করার বিষয়সমূহ:
- পারমাণবিক আকার: আকার বৃদ্ধি পেলে ইলেকট্রন আসক্তি হ্রাস পায়। 🤏➡️🖐️
- নিউক্লীয় চার্জ: চার্জ বৃদ্ধি পেলে ইলেকট্রন আসক্তি বৃদ্ধি পায়। ➕
- ইলেকট্রন বিন্যাস: স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস (যেমন: অর্ধপূর্ণ বা পরিপূর্ণ কক্ষক) ইলেকট্রন আসক্তিকে প্রভাবিত করে। 🍱
বিভিন্ন মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি (কিলোজুল/মোল):
| মৌল | ইলেকট্রন আসক্তি |
|---|---|
| ফ্লোরিন (F) | -328 |
| ক্লোরিন (Cl) | -349 |
| ব্রোমিন (Br) | -325 |
| আয়োডিন (I) | -295 |
| অক্সিজেন (O) | -141 |
নোট: ইলেকট্রন আসক্তির মান বিভিন্ন উৎস থেকে সামান্য ভিন্ন হতে পারে। 📚
আশা করি, এই ব্যাখ্যাটি গ্যাসীয় অবস্থায় প্রথম ইলেকট্রন আসক্তি সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে। 😊