মেনু
QB Archive Quiz Creator Graph Poll Mode View Ques Quiz Leaderboard About
থিম নির্বাচন

আপনার পছন্দের থিম বেছে নিন।

Download Address Academy - Best Offline Education App

তাপবিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করার জন্য যে ধাতু যুগল ব্যবহৃত হয় তাকে কী বলা হয়?

A. তাপ যুগল
B. ধাতু যুগল
C. প্রবাহ যুগল
D. বিদ্যুৎ যুগল
Poster Download
JUUnit-HSet-2পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রচল তড়িৎতড়িৎ প্রবাহ, রোধ ও জুলের সূত্র (Topic Practice)JU - ⚡ অনলাইন প্রশ্নব্যাংক দেখুন 💥
Join Telegram
সঠিক উত্তরঃ A. তাপ যুগল
Explanation: প্রশ্ন বিশ্লেষণ: প্রশ্নে তাপবিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টিকারী ধাতু যুগল সম্পর্কে বলা হয়েছে। এটি তাপ যুগল হিসেবে পরিচিত। অপশন বিশ্লেষণ: A. তাপ যুগল: সঠিক, এটি সঠিক উত্তরের জন্য। B. ধাতু যুগল: ভুল, এটি সঠিক নয়। C. প্রবাহ যুগল: ভুল, এটি সঠিক নয়। D. বিদ্যুৎ যুগল: ভুল, এটি সঠিক নয়। নোট: তাপ যুগল হল সেই ধাতু যুগল যা তাপবিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে।
Another Explanation (5):

তাপবিদ্যুৎ প্রবাহ এবং তাপ যুগল (Thermocouple)

তাপবিদ্যুৎ প্রবাহ (Thermoelectric effect) ব্যবহার করে তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য যে সেন্সর ব্যবহার করা হয়, তার মূল উপাদান হলো তাপ যুগল (Thermocouple)। এটি দুটি ভিন্ন ধাতুর তারের সংযোগ দিয়ে তৈরি করা হয়। এই সংযোগস্থলে তাপমাত্রা পার্থক্য তৈরি হলে একটি ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়, যা তাপমাত্রার সমানুপাতিক।

তাপ যুগল: গঠন এবং কার্যপ্রণালী 🛠️

  • গঠন: তাপ যুগল মূলত দুটি ভিন্ন ধাতু (A এবং B) দিয়ে তৈরি তারের সমন্বয়ে গঠিত। তার দুটি একটি প্রান্তে একত্রে ঝালাই করা (welded) থাকে, যা "হট জাংশন" বা পরিমাপক জাংশন নামে পরিচিত। অন্য প্রান্ত দুটি "কোল্ড জাংশন" বা রেফারেন্স জাংশন হিসেবে কাজ করে।
  • কার্যপ্রণালী: হট জাংশন এবং কোল্ড জাংশনের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য থাকলে Seebeck effect-এর কারণে একটি ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়। এই ভোল্টেজ পরিমাপ করে তাপমাত্রা নির্ণয় করা যায়।

বিভিন্ন প্রকার তাপ যুগল 🌡️

বিভিন্ন তাপমাত্রা পরিসীমা এবং পরিবেশের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাপ যুগল ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে কয়েকটির উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

  1. টাইপ K: নিকেল-ক্রোমিয়াম এবং নিকেল-অ্যালুমিনিয়াম তার ব্যবহার করা হয়। এটি বহুল ব্যবহৃত এবং তুলনামূলকভাবে সস্তা। (-200°C থেকে +1350°C পর্যন্ত)
  2. টাইপ J: লোহা এবং কন্সট্যান্টান তার ব্যবহার করা হয়। এটি টাইপ K এর চেয়ে সংকীর্ণ তাপমাত্রা পরিসীমার জন্য উপযুক্ত। (-40°C থেকে +750°C পর্যন্ত)
  3. টাইপ T: কপার এবং কন্সট্যান্টান তার ব্যবহার করা হয়। এটি নিম্ন তাপমাত্রার পরিমাপের জন্য ভালো। (-200°C থেকে +350°C পর্যন্ত)
  4. টাইপ E: নিকেল-ক্রোমিয়াম এবং কন্সট্যান্টান তার ব্যবহার করা হয়। এটি টাইপ K এর চেয়ে বেশি সংবেদনশীল। (-50°C থেকে +740°C পর্যন্ত)
  5. টাইপ N: নিকেল-ক্রোমিয়াম-সিলিকন এবং নিকেল-সিলিকন তার ব্যবহার করা হয়। এটি উচ্চ তাপমাত্রা এবং জারণ প্রতিরোধী। (-270°C থেকে +1300°C পর্যন্ত)
  6. টাইপ S, R, B: এই তিনটি প্লাটিনাম এবং রোডিয়াম সংকর ধাতু ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এগুলো খুব উচ্চ তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় (0°C থেকে +1700°C পর্যন্ত)।

তাপ যুগলের ব্যবহার ক্ষেত্র 🏭🧪🩺

  • শিল্প কারখানায় তাপমাত্রা পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণ।
  • বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পরীক্ষাগারে।
  • চিকিৎসা ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয়ে।
  • মোটরগাড়ি এবং উড়োজাহাজের ইঞ্জিন তাপমাত্রা পরিমাপে।
  • খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে।

তাপ যুগলের সুবিধা এবং অসুবিধা 👍👎

সুবিধা 👍 অসুবিধা 👎
  • সহজ গঠন এবং ব্যবহার।
  • বিস্তৃত তাপমাত্রা পরিসীমা।
  • দ্রুত প্রতিক্রিয়া সময়।
  • কম দাম।
  • কম সংবেদনশীলতা।
  • পরিমাপের জন্য রেফারেন্স জাংশনের প্রয়োজন।
  • তারের ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অপেক্ষাকৃত কম নির্ভুলতা।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 💡

  • তাপ যুগল ব্যবহারের সময় সঠিক প্রকার নির্বাচন করা জরুরি।
  • নিয়মিত ক্যালিব্রেশন (calibration) করে এর নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হয়।
  • সংযুক্তি তার (connecting wire) এবং পরিমাপক যন্ত্রের সঠিক সংযোগ স্থাপন করতে হয়।

আশা করি, তাপ যুগল সম্পর্কে এই আলোচনাটি আপনার বোধগম্য হয়েছে। ধন্যবাদ! 🙏