আধুনিক জেট বিমান কোন সূত্র ব্যবহার করে চালানো হয়?
রকেট চালানো – আধুনিক জেট বিমান, রকেট ইত্যাদিও চালানো হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের তত্ত্ব তথা ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র ব্যবহার করে। রকেটে জ্বালানি পুড়িয়ে প্রচুর গ্যাস উৎপন্ন করা হয়। সেই গ্যাস গ্রুচন্ড বেগে রকেটের পেছনে দিয়ে নির্গত হয়। জ্বালানি নির্গত হওয়ার পূর্বে জ্বালানি ও রকেট উভয়ের বেগ শূন্য থাকে, কাজেই তখন তাদের ভরবেগের সমষ্টি শূন্য। জ্বালানি নির্গত হওয়াকালে নির্গমণের দিকে জ্বালানির কিছু ভরবেগ থাকে। ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রানুযারী জ্বালানি নির্গত হওয়ার আগে তাদের ভরবেগের সমষ্টি জ্বালানি নির্গত হওয়াকালীন তাদের ভরবেগের সমষ্টির সমান হতে হবে। সুতরাং জ্বালানি নির্গত হওয়াকালীন উভয়ের ভরবেগের সমষ্টি সমান হতে হলে অর্থাৎ, শূন্য হতে হলে রকেটের ও জ্বালানির সমান ও বিপরীতমুখী একটি ভরবেগের সৃষ্টি হতে হবে। ফলে রকেটটি জ্বালানির বিপরীত দিকে এগিয়ে চলে।
আধুনিক জেট বিমানের উড্ডয়নের মূলনীতি: রৈখিক ভরবেগের নিত্যতা সূত্র 🚀
আধুনিক জেট বিমান কিভাবে আকাশে ওড়ে, তা জানতে হলে রৈখিক ভরবেগের নিত্যতা সূত্রটি বুঝতে হবে। এটি নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের একটি ফল। 🤔
ভরবেগের নিত্যতা সূত্র ⚖️
ভরবেগের নিত্যতা সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তুর উপর বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা না হলে বস্তুটির আদি ভরবেগ এবং শেষ ভরবেগ সমান থাকে। অর্থাৎ, ভর এবং বেগের গুণফল অপরিবর্তিত থাকে। গাণিতিকভাবে, m₁v₁ = m₂v₂ (যদি অন্য কোনো বল কাজ না করে)।
জেট ইঞ্জিনের কার্যক্রম ⚙️
জেট ইঞ্জিন মূলত এই নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে:
- বায়ু গ্রহণ: প্রথমে ইঞ্জিন সামনের দিক থেকে প্রচুর পরিমাণে বাতাস টানে। 🌬️
- সংকোচন: এরপর সেই বাতাসকেcompressor এর মাধ্যমে সংকুচিত করা হয়। 💨
- দহন: সংকুচিত বাতাসের সাথে জ্বালানি (কেরোসিন) মিশিয়ে দহন করা হয়, যা উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপের গ্যাস তৈরি করে। 🔥
- নির্গমন: এই গরম গ্যাসকে ইঞ্জিনের পিছন দিক দিয়ে উচ্চ গতিতে নির্গত করা হয়। 💥
ভরবেগের নিত্যতার প্রয়োগ 🎯
এখানে ভরবেগের নিত্যতা সূত্র কিভাবে কাজ করে, তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
- ইঞ্জিন যখন পেছনের দিকে গ্যাস নির্গত করে, তখন গ্যাস একটি ভরবেগ (ভর × বেগ) লাভ করে।
- ভরবেগের নিত্যতা সূত্র অনুসারে, এই গ্যাস নির্গমনের কারণে ইঞ্জিন এবং বিমান একই পরিমাণের ভরবেগ সামনের দিকে লাভ করে।
- এই সামনের দিকে পাওয়া ভরবেগই বিমানকে উড়তে সাহায্য করে। ✨
বিষয়টিকে একটি টেবিলের মাধ্যমে দেখা যাক 📊
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| আদি অবস্থা | স্থির বিমান, স্থির বাতাস 😴 |
| গ্যাস নির্গমন | পেছনের দিকে উচ্চ গতিতে গ্যাস নির্গত 💨 |
| ভরবেগের স্থানান্তর | গ্যাসের ভরবেগ = বিমানের বিপরীত দিকে ভরবেগ ➡️ |
| ফলাফল | বিমান সামনের দিকে এগিয়ে যায় ✈️ |
উদাহরণ 🤔
একটি জেট ইঞ্জিন প্রতি সেকেন্ডে 100 কেজি গ্যাস 500 মিটার/সেকেন্ড বেগে নির্গত করে। তাহলে ইঞ্জিনটি 100*500 = 50000 নিউটন পরিমাণ ধাক্কা (thrust) সামনের দিকে দেয়। এই ধাক্কা বিমানকে উড়তে সাহায্য করে। 💪
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী 📌
- বায়ুর চাপ এবং ঘনত্ব এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- জেট ইঞ্জিন শুধু ভরবেগের নিত্যতা নয়, আরও অনেক জটিল পদার্থবিদ্যা ও প্রকৌশলের সমন্বয়ে তৈরি।
- জেট ইঞ্জিন আবিষ্কারের ফলে আধুনিক বিমানযাত্রা অনেক দ্রুত ও সহজ হয়েছে। 🗺️
আশা করি, জেট বিমানের উড্ডয়নের কৌশল এবং রৈখিক ভরবেগের নিত্যতা সূত্রের সম্পর্কটি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। 😊